জাতীয়

গণতান্ত্রিক পুনরুত্থানের অগ্রনায়ক তারেক রহমান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি। দলটির এই বিজয়ের কান্ডারী তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।

দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অগ্রসেনানী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান গত প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকেও অত্যন্ত দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা সুচারুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে, তা এখন আরও স্পষ্ট। বিশেষ করে বৃহত্তর জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের গণতন্ত্রের গতিপথ সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর জোরালো ও গতিশীল তৎপরতা সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তিনি নিজেকে দেশের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতের নির্বাচনী মিত্র ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও নিজের প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে তারেক রহমান কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে তাঁকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক দিন পর ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মা, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণের পর দলটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

আর গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে এক ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তারেক রহমান।

স্বল্পভাষী অথচ দৃঢ়প্রত্যয়ী এই নেতা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি জাতীয় ঐক্য এবং সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা।’

তারেক রহমানের শৈশব ও কৈশোর-

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। দেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার লড়াইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে।

এ দেশের রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী তারেক রহমান। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও মা ও প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি।

তাঁর পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন শীর্ষ সামরিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

শিক্ষা জীবন-

তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন; প্রথমে আইন বিভাগ এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জন্মগত। তিনি দেখেছেন সত্তরের দশকের শেষের দিকে কীভাবে তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন এবং বিএনপি গঠন করেছেন। তখন থেকেই রাজনীতির খুব কাছ থেকে বেড়ে উঠেছেন তিনি।

একইভাবে আশির দশকের পুরোটা সময়জুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর মায়ের আপসহীন নেতৃত্ব এবং সেই উত্তাল সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় তারেক রহমান খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই বিজয়ের মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। তখন থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তিনি রাজনীতির হাতেখড়ি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তাঁর শিক্ষা জীবনে তিনি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার এবং কার্ল মার্কসের মতো বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক দার্শনিকদের কাজের সঙ্গে পরিচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।

পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নিজ জেলা বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি শুরু করেন।

আলোচনায় আসা ও সাংগঠনিক দক্ষতা-

১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর নজরে আসেন।

পরবর্তীতে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তিনি এক অভিনব ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জেলা পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন, যা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও গণতান্ত্রিক।

২০০১ সালে তিনি রাজধানীতে একটি কার্যালয় গড়ে তোলেন, সেখান থেকে বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুশাসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গবেষণা চালানো হতো। তাঁর এই সুচিন্তিত পরিকল্পনা ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

দলের চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান কোনো ক্ষমতার মোহে পড়েননি। তিনি সরকারি কোনো পদ বা সংসদ সদস্য হওয়ার চেয়ে সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে বিএনপি তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়। এই পদে থেকে তিনি সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজন করেন, যা তাঁকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেশার সুযোগ করে দেয়।

দলীয় সূত্র ও তাঁর সহকারীদের মতে, ওই সময় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আসা ১৮ হাজারেরও বেশি চিঠির উত্তর দেন তিনি।

জনগণের সঙ্গে এই নিবিড় যোগাযোগের সময় তিনি কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগের প্রচার চালান। এ ছাড়া সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবন-

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৪ সালে তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. জুবাইদা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান বর্তমানে একজন ব্যারিস্টার এবং পেশাদার আইনজীবী।

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাব, তারেক রহমানকে আরও বেশি মানবিক ও সংবেদনশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।

রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম-

২০০৭ সালের ৭ মার্চ কোনো পূর্ব নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে আটক করে। টানা ১৮ মাস তিনি বন্দি জীবন কাটান। ওই সময় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর চালানো হয় অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতন।

শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান।

কারাগারের সেই তিক্ত ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি; বরং তা দেশ ও দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আর নৈতিক সাহসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

তারেক রহমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা এখন কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত। তিনি ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি প্রতিহিংসা আর সংঘাতের পথ পরিহার করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে তিনি দেশের ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে নিজের ও দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এই কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করেন।

তারেক রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য লড়াই করেন। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই দিকনির্দেশনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি বড় আন্দোলনে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের পিতা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।

ঐতিহ্য ও রূপকল্প-

তারেক রহমানের মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েই ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

বাবার আদর্শ আর মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান সবসময়ই দলের মূল গণতান্ত্রিক নীতিতে অবিচল থেকেছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।

২০২৩ সালে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো নিয়ে বিএনপির ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেন, যা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

এই রূপরেখায় রয়েছে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদসীমা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বেকার ভাতা প্রদান, পরিবারবান্ধব নীতি এবং ব্রিটিশ মডেলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো আধুনিক ও জনবান্ধব সব পরিকল্পনা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে এই ‘৩১ দফা’ কর্মসূচিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান নির্দেশিকা বা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করছে।

সাহস ও প্রেরণার প্রতীক-
তারেক রহমানের জীবন ধৈর্য, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং নীতিবান রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মানবিক নেতৃত্ব আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।

১৯৮৮ থেকে ২০২৫- এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য, সহনশীলতা আর কৌশলগত সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নৈতিকতা, সহানুভূতি এবং আধুনিক ভিশনের এক বিরল সমন্বয়ই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তাঁর সুশৃঙ্খল জীবন এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আদর্শিক নেতৃত্ব ও জনসেবার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দৃঢ় সংকল্প আর একাগ্রতা কীভাবে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে, তাঁর জীবনই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আজ এক অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আয়কর নথিতে নেই ১৩৩৯ বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য, অনুসন্ধানে এনবিআর

দেশে প্রায় ৫৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য মালিকদের আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রায় ২৭১৯টি গাড়ি কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আয়কর রিটার্ন দাখিল বাড়াতে কর ফাঁকি দেওয়া বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তাদের। একই সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন কি না এবং তাঁদের ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে কর ফাঁকি শনাক্তে কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদলকে আরো সক্রিয় করা, উৎস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৭১৯টি গাড়ি সংশ্লিষ্ট মালিকদের আয়কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে এক হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ব্যবহার করছেন এবং বিআরটিএ থেকে গাড়ির নিবন্ধনও নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ গাড়ির মালিকানা থাকলেও তাঁরা আয়কর নথির আওতায় ছিলেন না। এ ছাড়া কর নথিতে দেখানো হয়নি—এমন এক হাজার ৩৩৯টি গাড়ির তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। এসব গাড়ির মধ্যে টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিস বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি। গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও সিসি অনুযায়ী এসব গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করও তুলনামূলক বেশি। ফলে কোনো ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি থাকার পরও আয়কর নথিতে সেটি উল্লেখ না থাকলে তার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। কর কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ব্যক্তির ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে তাঁর মালিকানাধীন বিলাসবহুল গাড়ির মূল্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটি কর ফাঁকির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাড়ি কেনার অর্থের উৎস কী, তা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা হবে। এ কারণে বিআরটিএর তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে এনবিআর। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যাঁরা রিটার্ন দাখিল করছেন না কিংবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শুধু বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের নয়, আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে আরো কয়েকটি ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উৎস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথির তথ্য সমন্বয় করা হলে কর ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানার তথ্য ব্যবহার করে আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য খুঁজে বের করা সম্ভব। ফলে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে একদিকে রিটার্ন দাখিল বাড়ানো, অন্যদিকে সম্ভাব্য কর ফাঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে এনবিআর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ অর্জন করলেন সাংবাদিক নাঈম আবির

সংগৃহীত ছবি

৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের ছবি ‘এআই’ বলে ছড়ানোর চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস সিলিন্ডারে অনিয়ম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।   শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে।   অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বন্ধ করতেই এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।   অভিযানের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে কি না, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়।   এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক মজুত এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা রাখার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।   গ্যাস সিলিন্ডার কেনার আগে ভোক্তাদের ওজন, সিল, মেয়াদ এবং সিলিন্ডারে দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কেনার সময় মূল্যতালিকার সঙ্গে দাম মিলিয়ে দেখা এবং রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের আহ্বানও জানানো হয়েছে।   কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে।   অধিদপ্তর বলেছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে সরু সড়কের পাশে মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে কিশোরকে বেঁধে মারধর, ফেসবুকে ছড়াল ভিডিও

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর বাসার সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২০০ ইউনিট

রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর নিজ বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১ হাজার ইউনিট নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, গত তিন দিনে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনে দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।   সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।   মীর শাহে আলম বলেন, সরকারি বিভিন্ন ভবনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট ভবনের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।   তিনি জানান, সমবায় ভবনসহ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে শুধু ব্যয় হিসেবে না দেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।   প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণ ও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢামেকে ডেঙ্গুতে এ বছর ৪২ মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে ভর্তি ১ হাজার ৪০৩

ছবি: সংগৃহীত

চার প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, মদ-জাফরানসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

সোনারগাঁয়ে ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ

0 Comments