যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আজ একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এতে এবারের ভোটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
‘অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান— লাইকলি বাংলাদেশ’স নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার’ শীর্ষক আর্টিকেলে নির্বাচনের আগে পরিচালিত একাধিক জনমত জরিপের তথ্য উল্লেখ করা হয়, যেখানে তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে ব্লুমবার্গ, টাইম ও দ্য ইকোনমিস্টসহ বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানকে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করার পর দ্য ডিপ্লোম্যাট এবার তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আখ্যায়িত করলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসালটিং পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা যায়, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ এখন তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।
দ্য ডিপ্লোম্যাট পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘জেন জেড’ হিসেবে পরিচিত তরুণ ভোটাররা ভোটের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ জেন জেড। বাংলাদেশের তরুণরাই এবার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবে।
এতে আরো বলা হয়, জেন জেড-এর অনেক ভোটার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, বিশেষ করে যেগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারগ্রহীতা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিরাজগঞ্জে একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় টাঙ্গাইলে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে বাসে যাওয়ার পথে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন।
জেন জেড সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান দ্য ডিপ্লোম্যাট’কে বলেন, তারা জেন জেডের চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি, এগুলো জেন জেডের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। আজকের পরিবেশ দেখলে লক্ষ্য করবেন, সভায় উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই জেন জেড-এর।
তারেক রহমান বলেন, ‘দ্য প্ল্যান’ নামের একটি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি তাদের কথা শোনেন, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তা, উদ্বেগ ও ধারণা তুলে ধরেন এবং আমি সত্যিই তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উপভোগ করি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট উল্লেখ করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতমুখী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা ছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের নজর ছিল বাংলাদেশের দিকে।
এ বিষয়ে দ্য ডিপ্লোম্যাট তারেক রহমানের কাছে তার পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি। আমরা অর্থনীতি নির্ভর পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দেব, যা বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করবে। আমরা পারস্পরিক আস্থা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক লাভে বিশ্বাস করি।
তিনি আরো বলেন, আমরা যে দেশগুলোর সঙ্গেই সম্পৃক্ত হই না কেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ সবার আগে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান করবে এবং আমরা আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখব এবং সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করব।
ভোট প্রসঙ্গে দ্য ডিপ্লোম্যাট তারেক রহমানকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জেন জেডের একটি অংশ বিশেষভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রতি ঝুঁকছে, যারা তার বিরোধিতা করবে এবং আগামী দিনে সংসদে ও রাজপথে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।
শত্রুভাবাপন্ন জেন জেডকে নিয়ে কতটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন— এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ অনুভব করি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, অন্যরাও একই কাজ করছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো।
তিনি যোগ করেন, বিএনপি জেন জেডের চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত ও শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি জেন জেডের সঙ্গে এগুলো দৃঢ়ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকারকে অবাস্তব বা ‘পাইপ ড্রিম’ কি না— এ প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ৫ কোটির কর্মসংস্থান প্রয়োজন এবং আমাদের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সারা দেশে ব্যবসা বিকাশে সহায়তা করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে— পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়; যা বিএনপি সরকারের সময় চালু হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা এখন আইটি খাতে জোর দেব। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতা শিল্প ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও মনোযোগ দেব।
তারেক রহমান বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ খাদ্য খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আমরা সৃজনশীল অর্থনীতিতেও সুযোগ খুঁজছি।
ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি শক্তিশালী আর্থিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তবে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমাদের অঙ্গীকার হলো- একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার দল আইনশৃঙ্খলাকে এমন অবস্থানে নিতে চায়, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না এবং মানুষ রাতে ভয় ছাড়াই ঘরে ফিরতে পারবে (এবং) অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার অঙ্গীকার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা শুরু করব। কারণ, আমাদের শুরু করতেই হবে এবং আমরা দায়িত্বশীলভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা করব ও গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করব।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোকে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা কঠিন। অতীতে মাত্র ২০ ফুট খনন করলেই ভূগর্ভস্থ পানি পাওয়া যেত। কিন্তু আজ ৩০০ ফুট খনন করেও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না।
নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা— এসব মূল অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছি এবং এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেব।
তিনি পরিশেষে বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখব। আমরা জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব— এটাই দেশের মানুষের প্রতি আমার অঙ্গীকার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশের নয় জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সাড়ে ২১ হাজার কৃষক কার্ড দেবে সরকার। টাঙ্গাইল সদরে পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। একই দিনে এসব উপজেলায় একযোগে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মার্চ রাজধানীর বনানীর কড়াইল এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর এবার ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে এবং এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনার জন্য বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য কিনতে পারবেন। যেসব উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে সেগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লা আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী। এছাড়া বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর আগেই জানিয়েছিলেন, পর্যায়ক্রমে আরও বড় পরিসরে কৃষকদের এই কার্ড দেওয়া হবে।
দেশের বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে জনসেবার মানোন্নয়ন ও ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এ সেবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর সফর শেষে রাতে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি এই সেবার উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলি জানান, কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হবে। প্রেস সচিব আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে ‘বিনামূল্যে পাবলিক ইন্টারনেট’ চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। ইতোমধ্যে কক্সবাজার ও রাজশাহী বিমানবন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে এ সেবা চালু হয়েছে। সালেহ শিবলি বলেন, এই সেবা চালুর ফলে জনগণ সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান, অনলাইন যোগাযোগ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। সরকারের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী এ ধরনের প্রযুক্তি সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিন এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, তৈরি পোশাক, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে কোনো যানবাহন পার্কিং না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজন হলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের হটলাইন নম্বর ১৬১০৭ এবং মুঠোফোন নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬ ও ০১৫৫০০৫৬৫৭৭-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ১২ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছিল, ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত সুগম করতে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে।