জাতীয়

তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আজ একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এতে এবারের ভোটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

‘অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান— লাইকলি বাংলাদেশ’স নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার’ শীর্ষক আর্টিকেলে নির্বাচনের আগে পরিচালিত একাধিক জনমত জরিপের তথ্য উল্লেখ করা হয়, যেখানে তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে ব্লুমবার্গ, টাইম ও দ্য ইকোনমিস্টসহ বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানকে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করার পর দ্য ডিপ্লোম্যাট এবার তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আখ্যায়িত করলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসালটিং পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা যায়, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ এখন তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘জেন জেড’ হিসেবে পরিচিত তরুণ ভোটাররা ভোটের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ জেন জেড। বাংলাদেশের তরুণরাই এবার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবে।

এতে আরো বলা হয়, জেন জেড-এর অনেক ভোটার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, বিশেষ করে যেগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিরাজগঞ্জে একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় টাঙ্গাইলে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে বাসে যাওয়ার পথে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন।

জেন জেড সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান দ্য ডিপ্লোম্যাট’কে বলেন, তারা জেন জেডের চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি, এগুলো জেন জেডের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। আজকের পরিবেশ দেখলে লক্ষ্য করবেন, সভায় উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই জেন জেড-এর।

তারেক রহমান বলেন, ‘দ্য প্ল্যান’ নামের একটি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি তাদের কথা শোনেন, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তা, উদ্বেগ ও ধারণা তুলে ধরেন এবং আমি সত্যিই তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উপভোগ করি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট উল্লেখ করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতমুখী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা ছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের নজর ছিল বাংলাদেশের দিকে।

এ বিষয়ে দ্য ডিপ্লোম্যাট তারেক রহমানের কাছে তার পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি। আমরা অর্থনীতি নির্ভর পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দেব, যা বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করবে। আমরা পারস্পরিক আস্থা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক লাভে বিশ্বাস করি।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে দেশগুলোর সঙ্গেই সম্পৃক্ত হই না কেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ সবার আগে।

জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান করবে এবং আমরা আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখব এবং সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করব।

ভোট প্রসঙ্গে দ্য ডিপ্লোম্যাট তারেক রহমানকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জেন জেডের একটি অংশ বিশেষভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রতি ঝুঁকছে, যারা তার বিরোধিতা করবে এবং আগামী দিনে সংসদে ও রাজপথে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

শত্রুভাবাপন্ন জেন জেডকে নিয়ে কতটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন— এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ অনুভব করি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, অন্যরাও একই কাজ করছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো।

তিনি যোগ করেন, বিএনপি জেন জেডের চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত ও শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি জেন জেডের সঙ্গে এগুলো দৃঢ়ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।

বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকারকে অবাস্তব বা ‘পাইপ ড্রিম’ কি না— এ প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ৫ কোটির কর্মসংস্থান প্রয়োজন এবং আমাদের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সারা দেশে ব্যবসা বিকাশে সহায়তা করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে— পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়; যা বিএনপি সরকারের সময় চালু হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা এখন আইটি খাতে জোর দেব। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতা শিল্প ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও মনোযোগ দেব।

তারেক রহমান বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ খাদ্য খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আমরা সৃজনশীল অর্থনীতিতেও সুযোগ খুঁজছি।

ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি শক্তিশালী আর্থিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তবে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমাদের অঙ্গীকার হলো- একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার দল আইনশৃঙ্খলাকে এমন অবস্থানে নিতে চায়, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না এবং মানুষ রাতে ভয় ছাড়াই ঘরে ফিরতে পারবে (এবং) অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার অঙ্গীকার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা শুরু করব। কারণ, আমাদের শুরু করতেই হবে এবং আমরা দায়িত্বশীলভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা করব ও গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করব।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোকে অগ্রাধিকার দেবে।

তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা কঠিন। অতীতে মাত্র ২০ ফুট খনন করলেই ভূগর্ভস্থ পানি পাওয়া যেত। কিন্তু আজ ৩০০ ফুট খনন করেও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না।

নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা— এসব মূল অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছি এবং এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেব।

তিনি পরিশেষে বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখব। আমরা জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব— এটাই দেশের মানুষের প্রতি আমার অঙ্গীকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ড: এক সপ্তাহের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা ও মেয়েকে হত্যার আলোচিত ঘটনায় মামলা দায়েরের মাত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।   বুধবার (২৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের তথ্যমতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।   গত ১৩ জুন রাতে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বাড়িতে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আরেক শিশু প্রিয়াস বড়ুয়া গুরুতর আহত হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।   পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে (৪০) ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পরদিন পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।   পরে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মা ও মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত শিশুর মাথায় গুরুতর আঘাতের তথ্যও মেডিকেল প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।   তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ঘটনার সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।   চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করেছে। আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পেনশন ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করছে সরকার : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাকে ভূমিকম্প সহনশীল করতে মেগা পরিকল্পনা, যুক্ত হবেন ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

ছবি : সংগৃহীত

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও কমছে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা!

ছবি: সংগৃহীত
অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদে ১০ শতাংশ কর, নতুন বিধান অর্থবিলে

দেশের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে এ-সংক্রান্ত একটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।   নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর সদস্যপদ গ্রহণ, নবায়ন, হস্তান্তর বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিশোধিত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই কর সংগ্রহ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেবে।   অর্থবিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ক্লাবের সদস্যপদ অর্জনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেন, তাহলে সেই অর্থের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। একই নিয়ম সদস্যপদ নবায়ন বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।   তবে ক্লাব সদস্যদের নিয়মিত মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক চাঁদার ওপর এই কর প্রযোজ্য হবে না বলে অর্থবিলে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাজধানীর বিভিন্ন পরিচিত ক্লাবসহ দেশের অন্যান্য অভিজাত ক্লাব এই বিধানের আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের নতুন একটি উৎস তৈরি হবে।   ক্লাব-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সদস্যপদ স্থানান্তর বা নবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপ ক্লাবগুলোর আর্থিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   রাজস্ব কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে সদস্যপদ সংক্রান্ত লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, কর্মহীন ১,৮০০ শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাসহ ১০ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল দুদক

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে নতুন চ্যালেঞ্জে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত
৬৯৪ কোটি টাকা মুনাফা বেক্সিমকো ফার্মার, নগদ লভ্যাংশ ৪৭.৫ শতাংশ

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৯৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। এ উপলক্ষে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।   মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৭৫ পয়সা করে নগদ লভ্যাংশ পাবেন বিনিয়োগকারীরা।   কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মোট ২১২ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ আগস্ট। ওই তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর নামে শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন।   লভ্যাংশের বড় অংশ যাবে উদ্যোক্তা পরিচালক, বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। কোম্পানির ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে থাকায় তারা প্রায় ৬৪ কোটি টাকা লভ্যাংশ পাবেন। অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৫৮ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য হবে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।   দীর্ঘ সময় পর কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল। পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে প্রায় দেড় বছর কোনো বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব হয়।   এদিকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার নির্ধারিত সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় চলতি বছরের শুরু থেকে স্থগিত রয়েছে। তালিকাচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে অবশেষে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল কোম্পানিটি।   তবে মুনাফা ও লভ্যাংশ ঘোষণার পরও বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে দিনটির লেনদেন তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকটি সহজ কৌশলে বাড়তে পারে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেটের গতি

ছবি: সংগৃহীত

অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু ১ জুলাই, নতুন নির্দেশনা জারি মাউশির

জাতীয় সংসদে কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলেই ভ্যাট দিতে হবে মুদি দোকানসহ ১৬ ধরনের ব্যবসাকে

0 Comments