বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বহু প্রতীক্ষার পরে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ কেউ যেন অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে দেশের মানুষের হতাশার শেষ থাকবে না। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা যেন কেউ অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেক শোরে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল বাহন হচ্ছে নির্বাচন। যেখানে নির্বাচন নেই, সেখানে গণতন্ত্রও নেই। জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি তথ্য জানেন এবং সত্য অনুসন্ধান তাদের অন্যতম দায়িত্ব।’
তিনি আরো বলেন, জাল ভোট দেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কাউকে ভোট দিতে না দেওয়াটাও একই ধরনের অপরাধ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অনৈতিক বা অন্যায় কর্মকাণ্ড যেন সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সুফল দেশের মানুষ এখনো পুরোপুরি পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অনেককে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধেই এ দেশের সন্তানরা জীবন দিয়েছে। বর্তমানে একটি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং আমাদের সেই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
সংবাদপত্রের মালিকানা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যম এখন বড় বড় শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের হাতে। যেহেতু তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাই গণমাধ্যমের ওপর এক ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে যায়। এই প্রতিকূলতার মাঝেও সংবাদ পরিবেশনায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ অত্যন্ত জটিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলাম জবিউল্লাহ। সভার উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. জকরিয়া প্রমুখ।
এতে আরএফইডি’র সভাপতি কাজী জেবেল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সই করবে সরকার। নতুন উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে ধাপে ধাপে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় এয়ারলাইন্সটি পূর্ণাঙ্গ মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) বা বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে পরিচালিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিশ্র বহর পরিচালনার সুবিধা থাকলেও একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। তাই চুক্তির আগে পূর্ণাঙ্গ কস্ট-বেনিফিট বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, মিশ্র বহর পরিচালনার সুবিধা রয়েছে। তবে এর জন্য আলাদা পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী, যন্ত্রাংশের মজুত এবং রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক কিনা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ। বিমানের রুট, যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই উড়োজাহাজ নির্বাচন করতে হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) যুগান্তরকে বলেন, আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিমানকে ধীরে ধীরে মিশ্র বহরে রূপান্তর করার। এতে ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং একটি মাত্র নির্মাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। তিনি বলেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হবে। দামসহ অন্যান্য বিষয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর জানানো হবে। দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের দুই বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান,বোয়িং ও এয়ারবাস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্যিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি সরকারের সময় বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে তৎপরতা বাড়ায় এয়ারবাস। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, এয়ারবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়াবে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বিমানের এই বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পৃথকভাবে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির সরাসরি সম্পর্ক নেই। ওই উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ঢাকা পোস্টের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা গেছে, দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে। ঢাকা পোস্টের হাতে আসা মরিয়ম খাতুনের বায়োডাটায় দেখা যায়, গত ২২ জুন তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে ‘জোর সুপারিশ করছি’। অথচ গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে ওই বিয়ের একটি কাবিননামার কপিও। সেখানে দেখা যায়, ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন ও বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর এক ভিডিও বার্তায় এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনও এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার স্বামী। তার ভাষ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং তার স্বামীর সম্মানহানি করতেই এটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই বিষয়ে মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহ বলেন, গত ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে লিখিত বিবৃতিতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করেন। এ সময় এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ওবায়দুল্লাহ গোপনে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই গত ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তবে বিয়ের দাবি, কাবিননামা এবং বিয়ের পাঁচ দিন পরের বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার এক বছর পরও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি— এমন অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ক্ষতিপূরণ ঘোষিত হয়ে থাকলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “ঘোষিত ক্ষতিপূরণ যদি বিতরণ না হয়ে থাকে, তাহলে তা যেন দ্রুত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে— সে বিষয়ে সরকার অবশ্যই কাজ করবে।” সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক সংস্কার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুমের অভিযোগ, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন নিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তদন্তের ভিত্তিতে তৈরি সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে। “একটি বর্ষপূর্তিতে এসে যদি আমাদের শুনতে হয় যে পরিবারগুলো এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি, তাহলে সেটি দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের দায়িত্ব নেওয়ারও প্রায় পাঁচ মাস হয়ে গেছে। এটিকে আমাদেরও কিছুটা ব্যর্থতা হিসেবে স্বীকার করতে হবে। আমরা সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবো।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও সরকার ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছে— এই বিষয়ে তিনি বলেন, “অর্থ দিয়ে প্রাণহানির প্রকৃত ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রকে তার সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তুলবো। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধি বসতে পারেন। তাদের সব দাবি শুনে বিবেচনা করা উচিত।” নিহত শিশুদের শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাবিটি যাচাই করতে হবে।”