জাতীয়

তপশিল ঘোষণার জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে জোরেশোরে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল তফসিল ঘোষণার আগেই প্রাথমিকভাবে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা তফসিল ঘোষণার।

 

তফসিল নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী রবিবার (৭ ডিসেম্বর) কমিশন সভা আহ্বান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাছিরউদ্দিন। সেদিনই ভোটের তারিখসহ তফসিল চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ইসি। আর ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী রবিবারের বৈঠকে তফসিল ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশবাসী নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ভোটবঞ্চিত মানুষ ভোট দিতে প্রস্তুত। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে যাবে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যেকোনো যোগ্য ভোটার নির্বাচন করতে পারবেন। তবে বড় দলের প্রতীক ব্যবহার করে ছোট দলের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না। নির্বাচনে একাধিক জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোট হওয়ায় ভোটের সময় আট ঘণ্টার পরিবর্তে নয় ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত বিবেচনায় রয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য পৃথক ব্যালট ব্যবহার হবে, যার মধ্যে গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন। একটি ভোটকক্ষে দুটি পৃথক গোপন কক্ষ থাকবে। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ায় এটি ইসির জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তফসিল ঘোষণার পর কঠোর আচরণবিধি প্রয়োগ করা হবে। কোনো পোস্টার ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না এবং অযাচিত পোস্টার অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তফসিল ঘোষণার আগে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে গণভোট সংযুক্তির কাজ শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইন ও বিধির সংশোধনী শেষ। নির্বাচনি সামগ্রী ক্রয় ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

১৮ নভেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। আজকের মধ্যেই এই তালিকা ছাপার কাজ শেষ হবে। ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৭ ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম সংগ্রহ করে গুদামে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে। ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে।

বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হওয়ায় নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। এ কারণে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ডিসি ও ইউএনও পদে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ৫২৭টি থানার ওসি বদলি করা হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ

তফসিল ঘোষণার আগে ইসি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর বেলা ১২টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ্দিন জানিয়েছেন, সংশোধিত আরপিও অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

কবে ভোট ও তফসিল

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এই সময়ের মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুই দিন পরে বা ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুই দিন আগেও হতে পারে। মঙ্গলবারের দিকেই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আগামী রবিবার কমিশন সভায় ভোটের দিনসহ তফসিল চূড়ান্ত করা হবে। তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১১ ডিসেম্বর।

 

গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হতে পারে। এজন্য সকাল ও বিকালে উভয় দিকেই সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সকালে সাড়ে ৭টা থেকে এবং বিকালে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের চিন্তা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
শপিং মলে ডেকে বেনজীরকে ধরিয়ে দেন এমপি বন্ধু

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই বিমানবন্দর থেকে নয়, গত ১২ জুন বাসার পাশের একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। দুবাইয়ে টানা সরকারি ছুটির কারণে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের আদালতে তাকে হাজির করা বা তার জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে স্থানীয় একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। পরিবারের দাবি, গত ১২ জুন তিনি বাসায় ছিলেন। এ সময় তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য ফোন করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে ওই সংসদ সদস্যের লোকজনও ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জেনেছেন স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোলে পাঠানো রেড নোটিশের তথ্যের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ওই সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশের কাগজ দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, আটক করার পর দুবাই পুলিশ তার দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ, ভিসার বৈধতা, সেখানে কী করছেন এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল নোটিশ রয়েছে—এই তথ্য ঢাকায় ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে পারিবারিক সূত্র জানায়, দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকায় তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নথিও ওই আইনজীবীর পরামর্শে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে। ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত সীমিত পরিসরে চালু ছিল। এর পর শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি এবং সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মঙ্গলবার দুবাই পুলিশ যদি তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো বা অন্য কোনো পদক্ষেপের আবেদন করে, তাহলে তার পক্ষের আইনজীবী জামিন চাইবেন। আর সেদিন আদালতে হাজির করা না হলে প্রসিকিউশন দপ্তরে তার পক্ষে আবেদন দাখিল করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বেনজীর আহমদকে ডেকে নেওয়ার অভিযোগে যে সংসদ সদস্যের কথা বলা হচ্ছে, তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে সংক্ষিপ্তভাবে সংযোগ হলেও এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রও নিশ্চিত করেছে, বেনজীর আহমদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এবং ইন্টারপোল নোটিশের কারণে বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তবে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আটকটি ইন্টারপোলের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো সম্ভব হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয়। বাংলাদেশে তাকে ফেরত আনার সম্ভাবনা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তের আভাস নেই। পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপির মতে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে কাউকে প্রত্যর্পণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি, মামলার ধরন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই বিবেচনায় আসে। তার ভাষ্য, কেবল রেড নোটিশ থাকলেই দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্ভব হয় না। যদি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চায়, তাহলে দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আইনগত ভিত্তিও পর্যালোচনা করবে। একই সাবেক কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিচয় ও ভ্রমণ নথি-সংক্রান্ত ভিন্ন তথ্য থাকলেও তা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে। তার মতে, মঙ্গলবার শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেছেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন মূলত দুবাইয়ের আদালত, প্রসিকিউশন এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, দুবাইয়ে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পরই তার আটক, জামিন এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ, সংসদে কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু

বিয়ে করার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে ডিজিটাল জন্মসনদ : প্রতিমন্ত্রী

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।   সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দেশের টেলিভিশনশিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।   বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে টেলিভিশনশিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।   গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, একদিনে শনাক্ত ৬৪

গত ১৫ বছর ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল: রুমিন ফারহানা

ড. জাহেদকে দিল্লীতে প্রবেশে বাধা দেয়ায় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি

ছবি: সংগৃহীত
১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক: বিআরটিএ

আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস সংযুক্ত করা এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।   সোমবার (১৫ জুন) এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিআরটিএ।   এতে বলা হয়, গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দেশের সব গণপরিবহনে ১ আগস্ট থেকে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   বিআরটিএ জানায়, এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ (স্পেসিফিকেশন) বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় থেকে সরাসরি অথবা বিআরটিএর ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে। গণপরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে বিআরটিএ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সড়ক-মহাসড়কে হতাহত কমাতে কাজ করছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির বিমানবন্দরে উপদেষ্টার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ: ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

0 Comments