অর্থনীতি

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের মধ্যে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যে সময় বদ্ধ পদক্ষেপের মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি ।

 

অর্থমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সম্মেলন কক্ষে ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে : বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের সমাধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ‘আমরা শুধু শুনতে চাই না, কার্যকর রেসপন্স করতে চাই’- উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন।

 

তিনি বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ অংশীদারিত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দিতে হবে।

 

এনজিওদের টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এ বিষয়ে সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই।

 

স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শীতলপাটিসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন এবং কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

 

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা—এই চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

 

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
চলতি মাসের প্রথম ৫ দিনেই ৫১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ৫ দিনেই (১ থেকে ৫ অক্টোবর) দেশে ৫১৩ মিলিয়ন বা ৫১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।     এর মধ্যে শুধু ৫ অক্টোবর একদিনেই এসেছে ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।     বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।       প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ মাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।       গত বছরের একই সময়ে (১-৫ অক্টোবর, ২০২৫) রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি মাসের প্রথম ৫ দিনেই ৯১ মিলিয়ন ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১০৪ মিলিয়ন (৯.১০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর, ২০২৫) এই পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮ মিলিয়ন ডলার।       সেই হিসাবে এই সময়ে বছরওয়ারি (ইয়ার-অন-ইয়ার) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।     সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরো শক্তিশালী করবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৬, ২০২৬

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী

‘দিন যাচ্ছে আর দাম বাড়ছে, হিসাব মেলানোই কষ্ট’: রাজধানীতে সবজির বাজারে হাহাকার

মিরসরাইয়ে ১৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্ট

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে নতুন জেবিসিসিআই বোর্ড

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও জোরদারে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ।   বিশেষ করে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রচার এবং সদস্যদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেবে নতুন পর্ষদ।   রোববার রাজধানীর হোটেল লেকশোরে অনুষ্ঠিত জেবিসিসিআইয়ের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদের জন্য নতুন সভাপতি হিসেবে কাজুইকি কাতাওকার নাম ঘোষণা করা হয়।   সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এজিএমে বক্তব্যে কাজুইকি কাতাওকা বিদায়ী নেতৃত্ব ও জেবিসিসিআই সদস্যদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানকে আরও তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   তিনি জেবিসিসিআইয়ের প্রায় ৪০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সেমিনার, জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম, নেটওয়ার্কিং এবং সদস্যভিত্তিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব জোর দেন।   নতুন সভাপতি বলেন, জেবিসিসিআইয়ের কার্যক্রম, দৃশ্যমানতা ও সদস্যদের জন্য মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ পেশাগত মান বজায় রেখে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হবে।   নবনির্বাচিত মহাসচিব রাবিউল আলম বলেন, নতুন পর্ষদ পূর্ববর্তী নেতৃত্বের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চেম্বারকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করবে।   বিদায়ী সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেবিসিসিআই দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।   জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান এবং বিদায়ী পর্ষদের অবদানের প্রশংসা করেন।   তিনি বলেন, জেবিসিসিআইয়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০০-এ উন্নীত হয়েছে, যা সংগঠনটির অগ্রগতির প্রতিফলন। তিনি শক্তিশালী সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের জন্য কার্যকর সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জেবিসিসিআই এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   তিনি বলেন, জাপানের বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ উদ্যোগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দুই দেশের কৌশলগত ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।   তিনি শিল্পের বহুমুখীকরণ, পশ্চাৎমুখী শিল্পের উন্নয়ন, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বাধা দূর করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন।   জেবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে নীতি সহায়তা, সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, বিনিয়োগ প্রচার, জাপানি প্রতিনিধিদলের সফর এবং খাতভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের মধ্যে ইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান, খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক সংযোগ, নিয়মিত জাপান সফর, সদস্যদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।   এজিএমে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নিরীক্ষক হিসেবে শফিক মিজান রহমান অ্যান্ড অগাস্টিন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।   জেবিসিসিআইয়ের নতুন ১৬ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি কাজুইকি কাতাওকা, সহ-সভাপতি আবু জামান মো. তারিকুল ইসলাম ও সৈয়দ সামিউল হক, মহাসচিব রাবিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ কেনজি কিমুরাসহ অন্যরা রয়েছেন।   এজিএমে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ  ২৪০ জন অংশ নেন।   জেবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়াকি ওউরা ধন্যবাদ জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

১৯ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা ৬ দিন সাময়িক বন্ধ

সংগৃহীত ছবি

সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আসছে ১৪ ডাচ কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত
জনতা ব্যাংকের ইউএই ঋণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন, ৩০৪ কোটি টাকার হিসাব ঘিরে ভিন্ন বক্তব্য

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জনতা ব্যাংকের প্রায় ৩০৪ কোটি টাকার একটি ঋণ নিয়ে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। জনতা ব্যাংক ঋণটিকে পুরোনো এবং দীর্ঘ আইনি ও সালিসি প্রক্রিয়া শেষে নিষ্পত্তি হওয়া দাবি করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে ইউএইর চার শাখায় বড় অঙ্কের ঋণ অবলোপন ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে।   রোববার (৪ অক্টোবর) জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমান ইউএই কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণটি দীর্ঘদিনের। পাওনা আদায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ, কূটনৈতিক যোগাযোগ, আইনগত প্রক্রিয়া এবং সালিসি কার্যক্রম শেষে বিধিবিধান অনুসরণ করেই ঋণটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   জনতা ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইন্যান্স মরিস ও মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের সঙ্গে শেখ খলিফা গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল। ব্যাংকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের সালিসি আদালতের নির্দেশনা এবং দুই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতির ভিত্তিতে ২০০৩ সালে ওই ঋণের দায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।   ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রয়াত ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি ব্যবহৃত হলেও প্রকৃত ঋণগ্রহীতা ছিলেন শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান।   তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের চার শাখায় মোট ২০ কোটি ৫১ লাখ দিরহেম, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপনের তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার দিরহেম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। একই প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি ঋণ ‘ভুলক্রমে’ অবলোপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   এখানে ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা হলো ইউএইর চার শাখায় ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মোট অবলোপিত ঋণ। আর ৩০৪ কোটি টাকার ঋণটি শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট ঋণের অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে ঋণটির নিষ্পত্তি ও হিসাবভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে শুধু ঋণ নয়, ইউএই শাখাগুলোর হিসাব ব্যবস্থাপনাতেও বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শারজাহ শাখার সান্ড্রি ডিপোজিট ও সান্ড্রি অ্যাসেটের হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য এবং দুবাই শাখার কয়েকটি হিসাবে গরমিলের বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউএই সিইও কার্যালয়ে ব্যবহৃত ছয়টি ল্যাপটপ নিয়েও পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে জনতা ব্যাংক বলছে, ল্যাপটপগুলো বিদ্যমান এবং দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।   ইউএইতে তিন ভারতীয় নাগরিককে নিয়োগের বিষয়েও ব্যাংক নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। ব্যাংকের দাবি, স্থানীয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ ধরনের নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই।   এদিকে ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসি) এসআরএল বন্ধ না করার বিষয়ে ব্যাংকের বক্তব্য হলো, প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছে।   সব মিলিয়ে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে মূল প্রশ্নটি এখন শুধু ৩০৪ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন হয়েছিল কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ঋণটির ২০০৩ সালের নিষ্পত্তি, পরবর্তী হিসাবরক্ষণ, অবলোপনের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা অন্যান্য অসঙ্গতির মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৩০৪ কোটি টাকার ঋণকে সরাসরি অবৈধ বা দুর্নীতির অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি স্পষ্ট করতে ২০০৩ সালের নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি, ঋণ অবলোপনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই ঋণটির নিষ্পত্তি ও পরবর্তী হিসাব ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুতা আমদানিতে জটিলতা, বিপাকে পোশাক কারখানার মালিকেরা

ছবি: সংগৃহীত

এলপিজির দাম নিয়ে বিইআরসির কঠোর নির্দেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ইউরেনিয়াম দেশে আসছে আজ

0 Comments