অজয় দেবগণের ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। রহস্য, সাসপেন্স আর বুদ্ধির লড়াইয়ে ভরপুর এই সিরিজের নতুন কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’ ঘিরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা।
ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে এর আয় ২৭২ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিষেক পাঠক পরিচালিত এই সিনেমায় আবারও বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে ফিরেছেন অজয় দেবগণ। তার সঙ্গে রয়েছেন টাবু, জয়দীপ আহলাওয়াত, অক্ষয় খান্না, প্রকাশ রাজ ও রজত কাপুরের মতো তারকারা।
আগের দুই কিস্তির রহস্যময় আবহ ধরে রেখেই নতুন গল্পে হাজির হয়েছে ছবিটি। তবে এবার গল্পের মোড় ও পরিণতি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেশি।
অজয়ের অভিনয় ও ক্লাইম্যাক্সে মুগ্ধ দর্শক
ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে অজয় দেবগণের সংযত অথচ প্রভাবশালী অভিনয়ের কথা। বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে তার অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
বিশেষ করে জয়দীপ আহলাওয়াতের সঙ্গে তার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং ছবির শেষ অংশ নিয়ে আলোচনা চলছে।
কিছু দর্শকের কাছে শুরুর দিকের গল্পের গতি কিছুটা ধীর মনে হলেও, রহস্যের জট খোলা এবং শেষ মুহূর্তের চমক ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
বক্স অফিসে বড় অঙ্কের আয়ের দাবি
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, সোমবার দিন শেষে ভারতে ছবিটির মোট ‘নেট’ আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৭.৫০ কোটি রুপিতে এবং ‘গ্রস’ আয় পৌঁছেছে ২৩৭ কোটিতে। আন্তর্জাতিক বাজারসহ বিশ্বব্যাপী মোট ‘গ্রস’ আয় ৩০৩ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
এই আয় দিয়ে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের সিনেমার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ‘দৃশ্যম ৩’। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’ (ওপেনিং উইকেন্ডে ২৮৩.০৪ কোটি)। অন্যদিকে ‘ওয়ার’ (১৬৬ কোটি রুপি), ‘বর্ডার ২’ (১২৯.৮৯ কোটি রুপি) ও ‘টক্সিক’ (পাঁচ দিনের উইকেন্ডে ১২৪.৫০ কোটি রুপি) -এর হিন্দি সংস্করণের মতো সিনেমাকেও পেছনে ফেলার দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ (উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৯৭.৬৯ কোটি), ‘আওয়ারাপান ২’ (প্রথম সপ্তাহান্তে ৮৪.৩১ কোটি), ‘ধামাল ৪’ (৬৭.২১ কোটি), ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ (৬৫.৮৩ কোটি), ‘ভূত বাংলা’ (৬৫.৬৫ কোটি) ও ‘ককটেল ২’ ( ৫০.১০ কোটি)-এর মতো ছবির উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের হিসাবও আলোচনায় এসেছে।
রহস্য আর চিত্রনাট্যই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?
‘দৃশ্যম’ সিরিজের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর গল্প বলার ধরন। সাধারণ একটি পরিবারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি, পুলিশের তদন্ত এবং প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন রহস্য—সব মিলিয়ে দর্শকদের শেষ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে আটকে রাখে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুন কিস্তিতেও সেই রহস্যময় আবহ, চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং চমকে ভরা পরিণতি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অজয় দেবগণের ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। রহস্য, সাসপেন্স আর বুদ্ধির লড়াইয়ে ভরপুর এই সিরিজের নতুন কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’ ঘিরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে এর আয় ২৭২ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিষেক পাঠক পরিচালিত এই সিনেমায় আবারও বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে ফিরেছেন অজয় দেবগণ। তার সঙ্গে রয়েছেন টাবু, জয়দীপ আহলাওয়াত, অক্ষয় খান্না, প্রকাশ রাজ ও রজত কাপুরের মতো তারকারা। আগের দুই কিস্তির রহস্যময় আবহ ধরে রেখেই নতুন গল্পে হাজির হয়েছে ছবিটি। তবে এবার গল্পের মোড় ও পরিণতি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেশি। অজয়ের অভিনয় ও ক্লাইম্যাক্সে মুগ্ধ দর্শক ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে অজয় দেবগণের সংযত অথচ প্রভাবশালী অভিনয়ের কথা। বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে তার অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে জয়দীপ আহলাওয়াতের সঙ্গে তার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং ছবির শেষ অংশ নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু দর্শকের কাছে শুরুর দিকের গল্পের গতি কিছুটা ধীর মনে হলেও, রহস্যের জট খোলা এবং শেষ মুহূর্তের চমক ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বক্স অফিসে বড় অঙ্কের আয়ের দাবি হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, সোমবার দিন শেষে ভারতে ছবিটির মোট ‘নেট’ আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৭.৫০ কোটি রুপিতে এবং ‘গ্রস’ আয় পৌঁছেছে ২৩৭ কোটিতে। আন্তর্জাতিক বাজারসহ বিশ্বব্যাপী মোট ‘গ্রস’ আয় ৩০৩ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই আয় দিয়ে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের সিনেমার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ‘দৃশ্যম ৩’। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’ (ওপেনিং উইকেন্ডে ২৮৩.০৪ কোটি)। অন্যদিকে ‘ওয়ার’ (১৬৬ কোটি রুপি), ‘বর্ডার ২’ (১২৯.৮৯ কোটি রুপি) ও ‘টক্সিক’ (পাঁচ দিনের উইকেন্ডে ১২৪.৫০ কোটি রুপি) -এর হিন্দি সংস্করণের মতো সিনেমাকেও পেছনে ফেলার দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ (উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৯৭.৬৯ কোটি), ‘আওয়ারাপান ২’ (প্রথম সপ্তাহান্তে ৮৪.৩১ কোটি), ‘ধামাল ৪’ (৬৭.২১ কোটি), ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ (৬৫.৮৩ কোটি), ‘ভূত বাংলা’ (৬৫.৬৫ কোটি) ও ‘ককটেল ২’ ( ৫০.১০ কোটি)-এর মতো ছবির উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের হিসাবও আলোচনায় এসেছে। রহস্য আর চিত্রনাট্যই কি সাফল্যের চাবিকাঠি? ‘দৃশ্যম’ সিরিজের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর গল্প বলার ধরন। সাধারণ একটি পরিবারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি, পুলিশের তদন্ত এবং প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন রহস্য—সব মিলিয়ে দর্শকদের শেষ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে আটকে রাখে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুন কিস্তিতেও সেই রহস্যময় আবহ, চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং চমকে ভরা পরিণতি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিনেত্রী সাবিলা নূরের ফ্যাশনে ব্যক্তিত্ব ও রুচি প্রকাশের বিষয়টি বরাবরই বেশ স্পষ্ট। সাধারণত সাদামাটা ও পরিমিত সাজেই তাকে দেখা গেলেও তার স্টাইলিংয়ে থাকে নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া। সাবিলা নূরের এবারের সাজেও ছিল ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুন্দর সমন্বয়। তার পরনে ছিল গাঢ় সবুজ রঙের সিল্ক শাড়ি। শাড়িজুড়ে ছোট ছোট সোনালি বুটি এবং চওড়া সোনালি জরি পাড় পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে উৎসবের আবহ। গাঢ় সবুজের সঙ্গে সোনালির মেলবন্ধনে সাজটি হয়ে উঠেছে জমকালো, তবে একেবারেই বাড়াবাড়ি রকমের নয়। শাড়ির সঙ্গে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে সাবিলা পরেছিলেন রয়্যাল ব্লু ব্লাউজ। কনুই পর্যন্ত হাতার এই ব্লাউজের গলা ও হাতার কিনারে ছিল ভারী সোনালি কারুকাজ। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিল রেখে করা এই নকশা পুরো পোশাককে করেছে আরও আকর্ষণীয়। ব্লাউজের পেছনে মাঝ বরাবর স্লিট ডিজাইন, সূক্ষ্ম গোল্ড এমব্রয়ডারি এবং স্ক্যালপড বর্ডার এতে যোগ করেছে আধুনিক ডিজাইনার লুক। পোশাকের সঙ্গে গয়নাতেও ছিল বেশ আয়োজন। গলায় পান্না সবুজ পাথর ও ছোট মুক্তা বসানো ভারী চোকার নেকলেস পরেছিলেন সাবিলা। কানে ছিল বড় স্টোনের টপ ও ঝুলন্ত দুল। দুই হাতে একাধিক চওড়া নকশাদার সোনালি চুড়ি ও বালা তার সাজে এনেছে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয়তার আবহ। তবে পোশাক ও গয়না ভারী হলেও মেকআপে ছিল বেশ কোমলতা। গ্লোয়িং বেসের সঙ্গে চোখে ডিফাইনড লাইনার, গালে হালকা ব্লাশ এবং ঠোঁটে ন্যুড-পিঙ্ক রঙ ব্যবহার করা হয়েছিল। কপালের ছোট টিপ সাজে যোগ করেছে বাঙালি ঐতিহ্যের পরিচিত ছোঁয়া। চুল রাখা হয়েছিল পরিপাটি করে নিচু খোঁপায়। সামনের দিকে আলতো করে ছেড়ে দেওয়া দুই গুচ্ছ হালকা কোঁকড়ানো চুল মুখের সৌন্দর্যকে আরও কোমল করে তুলেছে। তবে খোঁপার সাজেই ছিল আলাদা চমক। প্রচলিত সাদা ফুলের বদলে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছিল গাঢ় নীল ও বেগুনি আভাযুক্ত ছোট ফুল। ব্লাউজের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা এই ফুলের ব্যবহার পুরো লুকে দিয়েছে আধুনিক উৎসবের আমেজ। সাজের সঙ্গে সাবিলার হাতে ছিল ছোট মিন্ট বা প্যাস্টেল গ্রিন রঙের হ্যান্ডব্যাগ। চেইন স্ট্র্যাপের ব্যাগটির সামনে থাকা সোনালি ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা লোগো এতে যোগ করেছে বিলাসবহুল ছোঁয়া। গাঢ় সবুজ শাড়ির সঙ্গে ব্যাগের হালকা রঙের বৈপরীত্য পুরো সাজে তৈরি করেছে সুন্দর ভারসাম্য। সব মিলিয়ে সাবিলা নূরের এই সাজে একসঙ্গে ধরা দিয়েছে রঙের গভীরতা, ঐতিহ্যবাহী গয়না, নরম মেকআপ এবং সমকালীন স্টাইলিং। গাঢ় সবুজ, রয়্যাল ব্লু ও সোনালির আকর্ষণীয় সমন্বয় আরও একবার তুলে ধরেছে অভিনেত্রীর পরিমিত অথচ নজরকাড়া ফ্যাশনবোধ।
দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় এবার চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছেন। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’ আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারকা পরিবার থেকে এলেও বাবার পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে চান না জেসন। বরং নিজের কাজ ও নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে আলাদা পরিচয় তৈরি করাই তার লক্ষ্য। সিনেমাটির প্রধান অভিনেতা সন্দীপ কিষাণও জানিয়েছেন, প্রথম কাজেই জেসন নিজের স্বাতন্ত্র্য দেখাতে পেরেছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জেসন জানান, সিনেমাটি দেখার পর বাবার প্রতিক্রিয়ার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। তার মতে, ছবিটি পুরোপুরি বুঝতে থালাপতিকে কিছুটা সময় দিতে হবে। তবে প্রথম সিনেমা হিসেবে ছেলে যে কাজটি করেছে, তা নিয়ে বাবা গর্বিত হবেন—এমনটাই বিশ্বাস জেসনের। জেসনের দাদু এস এ চন্দ্রশেখরও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। অন্যদিকে থালাপতি বিজয় বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চান জেসন। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘সিগমা’ মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেন্সর ও ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং থালাপতি বিজয়ের ‘জন নায়কন’ সিনেমার মুক্তির সময়সূচির কারণে ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যায়। অবশেষে শুক্রবার বড় পর্দায় দেখা যাবে জেসন সঞ্জয়ের প্রথম নির্মাণ।