আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা সিরিয়ার ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সিরিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এসএসি) জানিয়েছে, এটি সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার স্বীকৃতি।

 

এসএসির কর্মকর্তা আলবার্তো হার্নান্দেজ জানান, সম্প্রতি কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক সফর করেছেন। তারা সিরিয়ার নতুন সরকারের কার্যক্রমের ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন এবং সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ দেখেছেন।

হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্টও এখন সিজার অ্যাক্ট বাতিলের অনুমোদনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি এটিকে সঠিক পদক্ষেপ বলেছেন। সিনেটে বিল পেশ করেছেন কয়েকজন সিনেটর। বিলে ২০০৩ ও ২০১২ সালের সিরিয়া সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব দেয়।

 

এসএসি বলেছে, এ পদক্ষেপ সিরিয়ার নতুন সরকারের কাজকে সহজ করবে, দেশকে স্থিতিশীল করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শক্ত করতে সাহায্য করবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের চূড়ান্ত পাঠ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হবে। এরপর উভয় চেম্বারে পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের সইয়ের মাধ্যমে কার্যকর হবে। সূত্র : শাফাক নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার দপ্তরে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   তার প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের নেতাদের মতবিরোধ হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তার প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুরো সমন্বয় বজায় রেখেছে। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগেই এর অংশবিশেষ ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এ প্রকাশ করা হয়। তাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখছি।” তার পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনকে তিনি ‘পুরোপুরি গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই, আমি নিজেই তা ঘোষণা করবো। কিন্তু আমি পদত্যাগ করবো না, আমি নিজের অবস্থানে অটল থাকবো। পেজেশকিয়ান জানান, কিছু মানুষ এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে যে তার প্রশাসন ও ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ উপকর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি তাবাতাবায়ী এসব প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বাতিল করেছিলেন। এসব গুজব ছড়ানোর জন্য রাজনৈতিক কট্টরপন্থিদের দায়ী করেছেন তিনি; বলেছেন, ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সেরা বিলাসবহুল হোটেল নেপালে, পরেরটি রুয়ান্ডায়

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ ইস্যুতে ইরান-ওমানের আলোচনা এগোচ্ছে, ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক হাজারের বেশি জাহাজ নিরাপদে চলাচলের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ লেবাননে বিকট বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল পুরো এলাকা

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের হাদ্দাতা শহরে একটি ‘বিশাল বিস্ফোরণ’ ঘটিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।   বুধবার (৫ আগস্ট) রোমে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার নতুন দফার আলোচনার প্রথম দিনেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।    উল্লেখ্য, গত জুনে হওয়া একটি রূপরেখা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই আলোচনা চলছে। ওই চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তি। সংগৃহীত ছবি

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি, জানাল কাতার

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি

হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় থাকবে ইসরাইলি সেনারা: নেতানিয়াহু

সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সসন গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার হুমকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভীষণ বৈরী সময় পার করার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।   রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, তিনি আসলে এক বছর আগেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও কার্যক্রম হুমকির মুখে ফেলা ফেডারেল অর্থায়ন স্থগিতের সংকট মোকাবিলা করার জন্য তিনি আরও এক বছর দায়িত্বে থাকেন।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাঁর প্রশাসনের প্রথম দিককার নিশানাগুলোর একটি। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া ছাত্রবিক্ষোভকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বৈচিত্র্যনীতি ও আরও বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।   ওই বিক্ষোভে কয়েকটি ইহুদি সংগঠনও শামিল হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের সমালোচনাকে ভুলভাবে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকেও চরমপন্থার সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করছে।   ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ৫১ কোটি ডলার ফেডারেল অনুদান আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে সে অর্থায়ন পুনর্বহাল হয়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন করাতে এবং তা উন্নত করার জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করতে সম্মত হতে হয়।   তবে একই বছরের অক্টোবরে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাবটি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, শুধু জন্মগত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে লৈঙ্গিক পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় জাতি বা লিঙ্গকে বিবেচনার বাইরে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ফেডারেল অর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   প্যাক্সসন সে সময় বলেছিলেন, ওই প্রস্তাব মেনে নিলে শিক্ষার স্বাধীনতা সীমিত হবে এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হবে।   গতকাল প্রকাশিত বিদায়ী চিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, ‘যদিও ফেডারেল নীতিগুলো এখনো দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে, তবু ব্রাউন অগ্রণী গবেষণার জন্য যে বড় অঙ্কের অনুদান পাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পথ তৈরি করবে।’   দায়িত্ব পালনকালে প্যাক্সসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কঠিন ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।   গত ডিসেম্বরে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ৯ জন আহত হন। পরে হামলাকারী ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন অধ্যাপককে হত্যা করেন। ওই হামলাকারী নিজেও নিজেকে গুলি করেন এবং মারা যান।   এরপর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সতর্কতা এবং ক্যাম্পাসের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মান নিয়ে আপত্তি, ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, ১৫৭ জনকে উদ্ধার

0 Comments