ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
অধ্যাপক; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক আইসিটি নীতি বিশেষজ্ঞ
সমকালীন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতির জটিল সমীকরণে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের সক্ষমতা আর কেবল প্রথাগত ভৌগোলিক সীমানা কিংবা স্থূল অবকাঠামো দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় প্রহরে রাষ্ট্রের প্রকৃত সামর্থ্য এখন তার প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা, তথ্যের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসন এবং ‘কগনিটিভ আর্কিটেকচার’-এর যে রূপরেখা আজ আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তা কেবল একটি বিমূর্ত দর্শন নয়; বরং এটি উত্তর-আধুনিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের (State Reconstruction) একটি অপরিহার্য কৌশলগত ইশতেহার। সুশাসন এখন আর কেবল নৈতিক ভাষণের পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক আস্থার এক অনন্য গাণিতিক নিশ্চয়তায় রূপান্তরিত হয়েছে।
সুশাসনের নব্য-ভাষ্য: নৈতিকতা থেকে অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতায় উত্তরণ
বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে দুর্নীতিবিরোধী ডিসকোর্স মূলত ব্যক্তিক নৈতিকতার ভাষায় পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গভীরতর বিশ্লেষণে দুর্নীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটি ‘সিস্টেমিক ডিজাইন ফেইলিওর’ বা কাঠামোগত ত্রুটির অবধারিত ফলাফল। বিগত দেড় দশকে আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি, তা মূলত আমলাতান্ত্রিক যান্ত্রিকীকরণ মাত্র; যা তথ্যের একটি ‘অ্যানালগ-টু-ডিজিটাল’ প্রতিফলন ঘটালেও কোনো প্রজ্ঞানির্ভর ‘অ্যালগরিদমিক ডিটারমিনিজম’ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি।
ভবিষ্যতের রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের ‘অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা’ অর্জন করতে হবে। এর ভিত্তি হবে তিনটি স্তম্ভ:
প্রতিক্রিয়াশীল প্রশাসন থেকে প্রেডিক্টিভ গভর্ন্যান্স (Predictive Governance)
আমাদের বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কৃতির একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা হলো এর ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ বা রিয়্যাক্টিভ প্রকৃতি। অনিয়ম ঘটার পর তদন্ত করা কিংবা সম্পদের অপচয় হওয়ার পর অডিট করার প্রথা রাষ্ট্রকে সর্বদা নীতিগত স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু একটি শক্তিশালী ‘কগনিটিভ আর্কিটেকচার’ সমৃদ্ধ রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আগাম সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়। এটিই ‘প্রেডিক্টিভ গভর্ন্যান্স’—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোনো প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা সন্দেহজনক আর্থিক প্রবাহ দেখা দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করবে। রাষ্ট্র তখন কেবল অপরাধের বিচার করবে না, বরং অপরাধের সম্ভাবনাকেই প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিহত করবে। এটি প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে সৃষ্ট অপচয়কে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারে।
সাইবার-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় তথ্য-নিরাপত্তা
বর্তমান যুগে ‘ডেটা’ হলো নতুন বৈশ্বিক মুদ্রা। একটি রাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রশাসনিক তথ্য যদি বিদেশি পাবলিক ক্লাউড কিংবা অনিরাপদ পরিকাঠামোয় রক্ষিত থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটি ‘জিরো-ট্রাস্ট ডকট্রিন’ (Zero-Trust Doctrine) বাস্তবায়ন করা। এই ডকট্রিনের মূল দর্শন হলো—রাষ্ট্রের নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরে প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেন এবং তথ্যের বিনিময়কে নিশ্ছিদ্র যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো তথ্য বা ব্যবহারকারীকে পূর্বনির্ধারিতভাবে বিশ্বাস করা হবে না; বরং প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা হবে। এতে অভ্যন্তরীণ যোগসাজশে তথ্যের পাচার বা জালিয়াতি রুদ্ধ হবে।
রূপান্তরের রূপরেখা (Transformation Roadmap)
একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে প্রযুক্তিগত পরাধীনতা বা ‘টেকনোলজিক্যাল কলোনিয়ালিজম’ উপেক্ষা করার উপায় নেই। তাই আমাদের প্রয়োজন একটি ‘ধাপে ধাপে অভিযোজিত রূপান্তর’ (Phased Adaptive Transformation):
১ স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য (১–৩ বছর): ডিজিটাল হাইজিন ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা
প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান ছিদ্রগুলো বন্ধ করা।
২ মধ্যমেয়াদী লক্ষ্য (8–৭ বছর): কগনিটিভ ক্যাপিটাল ও পরিকাঠামো
এই পর্যায়ে আমাদের ফোকাস হবে মেধা ও পরিকাঠামো নির্মাণে।
৩ দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য (৮ –১৫ বছর): পূর্ণাঙ্গ ‘সফটওয়্যার-ডিফাইনড স্টেট’
দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ একটি প্রজ্ঞা-নির্ভর আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।
যুবশক্তিকে ‘প্রজ্ঞামূলক পুঁজিতে’ (Cognitive Capital) রূপান্তর
প্রযুক্তিগত এই মহাযজ্ঞের প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তাদের কেবল সস্তা শ্রমশক্তি হিসেবে না দেখে উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের বিশাল যুবসমাজকে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সাইবার সিকিউরিটিতে দক্ষ করে তোলা যায়, তবে রাষ্ট্রটি নিজেই একটি ‘গ্লোবাল নলেজ হাব’-এ পরিণত হবে। এটিই হবে আমাদের ‘মেধাভিত্তিক সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার প্রধান কৌশলগত ঢাল। গবেষণা ও উদ্ভাবনে (R&D) জাতীয় বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ করা এখন বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার শর্ত।
ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও প্রযুক্তিগত কূটনীতি (Cyber Diplomacy)
বাংলাদেশকে তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চীন, ভারত এবং পশ্চিমা ব্লকের প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমাদের নীতি হবে ‘স্মার্ট নিউট্রালিটি’। বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের প্রযুক্তির ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করবে না, বরং প্রযুক্তির উৎস যাই হোক না কেন, তার নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও তথ্যের চূড়ান্ত চাবিকাঠি থাকবে আমাদের ভূখণ্ডে। এটিই হবে বাংলাদেশের ‘সাইবার ডিপ্লোম্যাসি’র মূল ভিত্তি।
রাষ্ট্রীয় আধুনিকায়ন কোনো ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক বিলাসিতা নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক ও মেধাভিত্তিক এক মহাপরিকল্পনা। প্রযুক্তিগত এই রূপান্তর সফল করতে প্রয়োজন মানবিক নৈতিকতা এবং অ্যালগরিদমিক প্রজ্ঞার এক বলিষ্ঠ সমন্বয়। প্রযুক্তি নিজে কোনো অলৌকিক সমাধান নয়; একে কার্যকর করে নীতিগত নেতৃত্ব এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা।
আদর্শবাদ ও বাস্তবতার এই কার্যকর সমন্বয়ই পারে একটি সমৃদ্ধ, স্বচ্ছ এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে। বাংলাদেশের প্রকৃত পুনর্জাগরণ নিহিত রয়েছে সুরক্ষিত তথ্য, বুদ্ধিমান অ্যালগরিদম এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পুনর্গঠনের মাঝে। সংকীর্ণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বেরিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশ একটি আধুনিক প্রশাসনিক সভ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
লেখক পরিচিতি: অধ্যাপক মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইসিটি, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত কৌশল নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।