সুশাসন, প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্জাগরণ: অ্যালগরিদমিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কৌশলগত রূপরেখা

ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ

অধ্যাপক; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক আইসিটি নীতি বিশেষজ্ঞ

মে ১২, ২০২৬

সমকালীন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ভূ-অর্থনীতির জটিল সমীকরণে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের সক্ষমতা আর কেবল প্রথাগত ভৌগোলিক সীমানা কিংবা স্থূল অবকাঠামো দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় প্রহরে রাষ্ট্রের প্রকৃত সামর্থ্য এখন তার প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা, তথ্যের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসন এবংকগনিটিভ আর্কিটেকচার’-এর যে রূপরেখা আজ আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তা কেবল একটি বিমূর্ত দর্শন নয়; বরং এটি উত্তর-আধুনিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের (State Reconstruction) একটি অপরিহার্য কৌশলগত ইশতেহার। সুশাসন এখন আর কেবল নৈতিক ভাষণের পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নাগরিক আস্থার এক অনন্য গাণিতিক নিশ্চয়তায় রূপান্তরিত হয়েছে।

 সুশাসনের নব্য-ভাষ্য: নৈতিকতা থেকে অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতায় উত্তরণ

বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে দুর্নীতিবিরোধী ডিসকোর্স মূলত ব্যক্তিক নৈতিকতার ভাষায় পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গভীরতর বিশ্লেষণে দুর্নীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটিসিস্টেমিক ডিজাইন ফেইলিওরবা কাঠামোগত ত্রুটির অবধারিত ফলাফল। বিগত দেড় দশকে আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি, তা মূলত আমলাতান্ত্রিক যান্ত্রিকীকরণ মাত্র; যা তথ্যের একটিঅ্যানালগ-টু-ডিজিটালপ্রতিফলন ঘটালেও কোনো প্রজ্ঞানির্ভরঅ্যালগরিদমিক ডিটারমিনিজমগড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি।

ভবিষ্যতের রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আমাদেরঅ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতাঅর্জন করতে হবে। এর ভিত্তি হবে তিনটি স্তম্ভ:

  • তথ্যনির্ভর নীতিনির্ধারণ (Data-Driven Policy): রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসমূহ মানবিক আবেগ বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে বিশুদ্ধ উপাত্তের (Data-driven logic) ভিত্তিতে গৃহীত হবে।
  • যাচাইযোগ্য জবাবদিহি (Verifiable Accountability): প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রযুক্তিগতভাবে স্বচ্ছ এবং অনুসন্ধানযোগ্য বাট্রেসেবলহতে হবে।
  • পদ্ধতিগত শুদ্ধাচার (Systemic Integrity): সুশাসন যখন কোনো ব্যক্তির সদিচ্ছার ওপর নির্ভর না করে সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়আউটপুটহিসেবে কাজ করবে, তখনই প্রকৃত স্বচ্ছতা অর্জিত হবে।

প্রতিক্রিয়াশীল প্রশাসন থেকে প্রেডিক্টিভ গভর্ন্যান্স (Predictive Governance)

আমাদের বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কৃতির একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা হলো এরপ্রতিক্রিয়াশীলবা রিয়্যাক্টিভ প্রকৃতি। অনিয়ম ঘটার পর তদন্ত করা কিংবা সম্পদের অপচয় হওয়ার পর অডিট করার প্রথা রাষ্ট্রকে সর্বদা নীতিগত স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু একটি শক্তিশালীকগনিটিভ আর্কিটেকচারসমৃদ্ধ রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আগাম সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়। এটিইপ্রেডিক্টিভ গভর্ন্যান্স’—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোনো প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা সন্দেহজনক আর্থিক প্রবাহ দেখা দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করবে। রাষ্ট্র তখন কেবল অপরাধের বিচার করবে না, বরং অপরাধের সম্ভাবনাকেই প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিহত করবে। এটি প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে সৃষ্ট অপচয়কে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারে।

সাইবার-সার্বভৌমত্ব জাতীয় তথ্য-নিরাপত্তা

বর্তমান যুগেডেটাহলো নতুন বৈশ্বিক মুদ্রা। একটি রাষ্ট্রের নাগরিক প্রশাসনিক তথ্য যদি বিদেশি পাবলিক ক্লাউড কিংবা অনিরাপদ পরিকাঠামোয় রক্ষিত থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটিজিরো-ট্রাস্ট ডকট্রিন’ (Zero-Trust Doctrine) বাস্তবায়ন করা। এই ডকট্রিনের মূল দর্শন হলোরাষ্ট্রের নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরে প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেন এবং তথ্যের বিনিময়কে নিশ্ছিদ্র যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো তথ্য বা ব্যবহারকারীকে পূর্বনির্ধারিতভাবে বিশ্বাস করা হবে না; বরং প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা হবে। এতে অভ্যন্তরীণ যোগসাজশে তথ্যের পাচার বা জালিয়াতি রুদ্ধ হবে।

রূপান্তরের রূপরেখা (Transformation Roadmap)

একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে প্রযুক্তিগত পরাধীনতা বাটেকনোলজিক্যাল কলোনিয়ালিজমউপেক্ষা করার উপায় নেই। তাই আমাদের প্রয়োজন একটিধাপে ধাপে অভিযোজিত রূপান্তর’ (Phased Adaptive Transformation):

স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য ( বছর): ডিজিটাল হাইজিন প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা

প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান ছিদ্রগুলো বন্ধ করা।

  • ব্লকচেইন লেজার: সরকারি কেনাকাটা (e-GP), টেন্ডার এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্যের অপরিবর্তনীয়তা নিশ্চিত করা। এটি তথ্যের বিকৃতি রুদ্ধ করে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
  • স্মার্ট ইন্টারডিপেনডেন্স: সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসন সময়সাপেক্ষ বিধায় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তথ্যের চাবিকাঠি বাকোর কন্ট্রোল লেয়াররাষ্ট্রের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • এক্সিকিউটিভ ড্যাশবোর্ড: নীতিনির্ধারণী শীর্ষ পর্যায়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যা রাষ্ট্রেরডিজিটাল নার্ভ সিস্টেমহিসেবে কাজ করবে।

মধ্যমেয়াদী লক্ষ্য (8 বছর): কগনিটিভ ক্যাপিটাল পরিকাঠামো

এই পর্যায়ে আমাদের ফোকাস হবে মেধা পরিকাঠামো নির্মাণে।

  • সার্বভৌম জাতীয় ক্লাউড: বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্বহাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার ক্লাউড ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এটি জাতীয় তথ্য সুরক্ষার অভয়ারণ্য হিসেবে কাজ করবে।
  • ন্যাশনাল AI স্যান্ডবক্স: দেশীয় গবেষক স্টার্টআপদের জন্য একটি সংরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা কর ফাঁকি শনাক্তকরণ কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো স্থানীয় সমস্যার এআই-ভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবন করতে পারবে।
  • মেধা সুরক্ষা ব্রেইন গেইন: এআই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় মেধা-কাঠামো গড়ে তোলা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশিদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য (১৫ বছর): পূর্ণাঙ্গসফটওয়্যার-ডিফাইনড স্টেট

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ একটি প্রজ্ঞা-নির্ভর আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।

  • সার্বভৌম লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (Sovereign LLM): নিজস্ব ভাষাগত প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষিত এআই মডেল তৈরি করা, যা বিদেশি পক্ষপাতমুক্ত নিরপেক্ষ তথ্য-নির্ভর দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
  • স্বয়ংক্রিয় জবাবদিহি: রাষ্ট্র পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ সমন্বিত স্বচ্ছ, যেখানে দুর্নীতি কাঠামোগতভাবে অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং প্রতিটি সরকারি সেবা নাগরিকের দোরগোড়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছাবে।

যুবশক্তিকেপ্রজ্ঞামূলক পুঁজিতে’ (Cognitive Capital) রূপান্তর

প্রযুক্তিগত এই মহাযজ্ঞের প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তাদের কেবল সস্তা শ্রমশক্তি হিসেবে না দেখে উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের বিশাল যুবসমাজকে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সাইবার সিকিউরিটিতে দক্ষ করে তোলা যায়, তবে রাষ্ট্রটি নিজেই একটিগ্লোবাল নলেজ হাব’- পরিণত হবে। এটিই হবে আমাদেরমেধাভিত্তিক সার্বভৌমত্বরক্ষার প্রধান কৌশলগত ঢাল। গবেষণা উদ্ভাবনে (R&D) জাতীয় বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ করা এখন বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার শর্ত।

ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রযুক্তিগত কূটনীতি (Cyber Diplomacy)

বাংলাদেশকে তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চীন, ভারত এবং পশ্চিমা ব্লকের প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমাদের নীতি হবেস্মার্ট নিউট্রালিটি বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের প্রযুক্তির ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করবে না, বরং প্রযুক্তির উৎস যাই হোক না কেন, তার নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তথ্যের চূড়ান্ত চাবিকাঠি থাকবে আমাদের ভূখণ্ডে। এটিই হবে বাংলাদেশেরসাইবার ডিপ্লোম্যাসি মূল ভিত্তি। 

 

রাষ্ট্রীয় আধুনিকায়ন কোনো ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক বিলাসিতা নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক মেধাভিত্তিক এক মহাপরিকল্পনা। প্রযুক্তিগত এই রূপান্তর সফল করতে প্রয়োজন মানবিক নৈতিকতা এবং অ্যালগরিদমিক প্রজ্ঞার এক বলিষ্ঠ সমন্বয়। প্রযুক্তি নিজে কোনো অলৌকিক সমাধান নয়; একে কার্যকর করে নীতিগত নেতৃত্ব এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা।

আদর্শবাদ বাস্তবতার এই কার্যকর সমন্বয়ই পারে একটি সমৃদ্ধ, স্বচ্ছ এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে। বাংলাদেশের প্রকৃত পুনর্জাগরণ নিহিত রয়েছে সুরক্ষিত তথ্য, বুদ্ধিমান অ্যালগরিদম এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পুনর্গঠনের মাঝে। সংকীর্ণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বেরিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশ একটি আধুনিক প্রশাসনিক সভ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

 

লেখক পরিচিতি: অধ্যাপক মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইসিটি, এআই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত কৌশল নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।

 

0 Comments

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব

গাড়ি থামিয়ে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0