বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি প্রতিনিধিদল। রোববার (৩১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইসিসির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসতে পারে। সফরকালে দলটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে আইসিসি বোর্ডকে অবহিত করবে।
যদিও আইসিসির সফরসূচি কিংবা প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিদের এই সফরকে বিসিবির নির্বাচন ঘিরে চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
একই বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসি বোর্ড এবং আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন (আইবিসি) বোর্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।
আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দফা বোর্ডে রদবদল হয়েছে।
বর্তমানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি বোর্ড পরিচালনা করছে। আগামী ৭ জুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বোর্ড গঠিত হবে।
আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ কারণে কোনো দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন বা নির্বাচন হলে আইসিসি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখে।
জানা গেছে, আইসিসির প্রতিনিধিদলের এই সফর বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়গুলো মূল্যায়নে সহায়ক হতে হবে। প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণ ও মতামত পরবর্তীতে আইসিসি বোর্ডের আলোচনাতেও গুরুত্ব পেতে পারে।
এ দিকে ৭ জুন নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই আইসিসি বোর্ড ও আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন বোর্ডে বাংলাদেশের নতুন প্রতিনিধিদের মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লর্ডস টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় বিপদে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ায় ইংল্যান্ড পেয়েছে ১৮০ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে দিনশেষে ৩ উইকেটে ৮৩ রান সংগ্রহ করেছে ইংলিশরা। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ২৬১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই বেন ডাকেট ও জর্ডান কক্সকে সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানের পেসার খুররম শেহজাদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে জো রুট ও এমিলিও গে মিলে ৪৭ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ২৪ রান করে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক রুট। টেস্টে ইংলিশ অধিনায়কের সাম্প্রতিক এলবিডব্লিউ দুর্ভাগ্যও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ১২ ইনিংসে এ নিয়ে নবমবার লেগ বিফোরের শিকার হলেন তিনি। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। তখন এমিলিও গে ৩০ এবং হ্যারি ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শেহজাদ দুটি এবং মোহাম্মদ আলি একটি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্ত শুরু করেছিল। ২৪৮ রানের মধ্যেই ইংল্যান্ডের ৯ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাংয়ের ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে ২৯০ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। অ্যাটকিনসন ৪৫ রানে আউট হলেও টাং ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল হাতে ভালো করার পর ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। আজান আওয়াইস সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। এছাড়া সৌদ শাকিল ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে ওলি রবিনসন চারটি, জোফরা আর্চার তিনটি এবং জশ টাং দুটি উইকেট নেন। তাদের বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। ফলে ম্যাচের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। লর্ডসে ইংল্যান্ডের জয় এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও ক্রিকেটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কী হয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
চোট নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া কার্লোস বালেবার শিগগির মাঠে ফেরা হচ্ছে না। ইংলিশ ক্লাবটির কোচ মাইকেল ক্যারিক জানিয়েছেন, সেরে উঠতে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এই মিডফিল্ডারের। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওন থেকে গত বুধবার বালেবাকে দলে টানে ইউনাইটেড। ক্যামেরুনের এই ফুটবলারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে প্রিমিয়ার লিগের সফলতম ক্লাবটি। আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর শর্তও রাখা হয়েছে চুক্তিতে। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার আগে প্রাক-মৌসুমে অ্যাঙ্কেলে চোট পান বালেবা। সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পথে আছেন ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। আপাতত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির জার্সিতে অভিষেকের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে তাকে। প্রিমিয়ার লিগে রোববার ইপ্সউইচ টাউনের মুখোমুখি হবে ইউনাইটেড। শুক্রবার সাংবাদিকদের বালেবার শারীরিক অবস্থার কথা জানান ক্যারিক। “তার অ্যাঙ্কেলে সামান্য সমস্যা রয়েছে। তার (মাঠে ফিরতে) হয়তো দুই সপ্তাহের মতো কিংবা তিন সপ্তাহও লাগতে পারে। তবে এটা আমরা আগেই জানতাম, তাই এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। যখন তাকে পাব, সেটা দলের জন্য দারুণ ব্যাপার হবে।” পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির আগে বালেবা মাঠে ফিরতে পারবেন কি না, জানতে চাইলে ক্যারিক বলেন, “আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, দেখা যাক কী হয়। আমরা আশাবাদী, তবে এখনই আমি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চাই না।” ইউনাইটেডের সমর্থকদের জন্য একটি স্বস্তির খবর দেন ক্যারিক। পিএসজির বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া ইংলিশ মিডফিল্ডার ম্যাসন মাউন্ট অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে অনুশীলনে চোট পাওয়া আমাদ জিয়ালো এখনো খেলার জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন ক্যারিক, “এই সপ্তাহে আমাদ খেলতে পারবে না। তাকে আরও কিছুদিন বাইরে থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও বাড়ছে চোটের সমস্যা। একের পর এক ক্রিকেটার চোটে পড়ায় খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় দলের পাশাপাশি ‘এ’ দল ও হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন জাতীয় দলের ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী টেস্ট সিরিজ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তিনি। আপাতত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই বলে জানা গেলেও চোটের ঝুঁকি নিয়েই খেলতে হবে তাকে। ঢাকা পোস্টকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার মতো শান্তকেও ‘ম্যানেজ’ করে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে তার খেলার সময় ও workload নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। তবে শান্তর পাশাপাশি তরুণ পেসার রোহানতদৌলা বর্ষণকে নিয়েও নতুন করে চিন্তায় পড়েছে বিসিবি। ২১ বছর বয়সী এই পেসার পিঠের নিচের অংশের ব্যথার কারণে প্রায় ১৫ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। মাঠে ফেরার পর সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। এরপর এইচপি দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডেতে ১২ উইকেট শিকার করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে আবারও পুরোনো চোটে আক্রান্ত হয়েছেন বর্ষণ। আজ সেখানে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর একজন মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। শুধু বর্ষণ নন, দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও রয়েছে চোটের সমস্যা। বর্ষণের মতো ডানহাতি পেসার ইকবাল হোসেন ইমনও চোটে পড়েছেন। এইচপি দলের হয়ে ত্রিদলীয় টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পর ‘এ’ দলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বোলিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় এখন মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন ১৯ বছর বয়সী এই পেসার। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফিরে ইমনের চিকিৎসা শুরু হবে। একই সঙ্গে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকির হাসানও চোট নিয়ে দেশে ফিরছেন। এদিকে ক্রিকেটারদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। কয়েকটি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি কিছু পোর্টেবল চিকিৎসা ও রোগনির্ণয় সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনার মধ্যে আল্ট্রাসাউন্ড, শকওয়েভ থেরাপি ও এক্স-রে-সংক্রান্ত কিছু সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা চালু হলে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবির কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরাও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে জাতীয় দল থেকে শুরু করে ‘এ’ ও এইচপি দল—বাংলাদেশ ক্রিকেটে চোটের সমস্যা আবারও বড় হয়ে উঠছে। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ও টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও চোট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বিসিবিকে।