মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১ জুন) উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ জিয়া পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা জেলা যুবদল নেতা সোহেল রানার সমর্থকদের সঙ্গে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।
স্থানীয়দের দাবি, গত সপ্তাহে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুকুর নামে এক ব্যক্তিকে আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকরা মারধর করেন। পরে ঈদের পরদিন অ্যাডভোকেট রুবেল শিকদারকে ঘুল্লিয়া বাজারে সোহেল রানার সমর্থকরা মারধর করেন। এরপর সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এসব ঘটনার জেরে রোববার রাতে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে শেখপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় আবারও হামলা-পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমজেদ মোল্যা, আরজিনা বেগম, আরিফ শিকদার, জুয়েল মোল্যা ও জাহিরুল মোল্যাসহ অন্তত ১২ জন। তাদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত জাহিরুল মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে মতিন ফকির, আরজু মোল্যা, অলিয়ার ফকির, হান্নান মোল্যা, এরশাদ মোল্যা ও আকবর শেখসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সরকারি মুদ্রা হওয়া সত্ত্বেও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১ টাকার ধাতব মুদ্রা কার্যত লেনদেনের বাইরে চলে যাচ্ছে। কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, গণপরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনেকেই এই কয়েন গ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায়। এমনকি ভিক্ষুকও ১ টাকার কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ, ব্যাংকেও কয়েন জমা দিতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কথা বলে জানা যায়, খুচরা হিসেবে ১ টাকার কয়েন দিলে অনেক দোকানি তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে ক্রেতাদের কখনো অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, আবার কোথাও ১ টাকার পরিবর্তে চকলেট বা অন্য কোনো সামগ্রী নিতে হচ্ছে। সরকারি মুদ্রা হাতে রেখেও ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী। চা-পানের দোকানদাররা জানান, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ১ টাকার কয়েন প্রত্যাখ্যান করছেন না। তাদের দাবি, খুচরা লেনদেন থেকে সংগৃহীত এসব কয়েন পাইকারি বাজারে সহজে গ্রহণ করা হয় না। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী শফিক জানান, কয়েন জমে থাকলেও তা পুনরায় প্রচলনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়েই নতুন করে ১ টাকার কয়েন গ্রহণে অনীহা তৈরি হয়েছে। একাধিক ভিক্ষুক জানান, ১ টাকার কয়েন নিয়ে দোকানে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয় না। প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যও কেনা যায় না। তাই তারাও এখন ১ টাকার কয়েন নিতে আগ্রহী নন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্র কর্তৃক ইস্যুকৃত ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা বৈধ লেনদেনের মাধ্যম। এসব মুদ্রা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো আইনসম্মত নয়। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় সরকারি মুদ্রার কার্যকর ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারে কয়েনের স্বাভাবিক প্রচলন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদারকি এবং ব্যাংকগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেন ব্যাংক ও পাইকারি পর্যায়ে কয়েন ব্যবহারে অনীহা তৈরি হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যথায় সরকারি মুদ্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ার এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। সোনালী ব্যাংক পূর্বধলা শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের শাখায় ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকাসহ সব ধরনের বৈধ ধাতব মুদ্রা নিয়মিত গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। গ্রাহকরা এসব কয়েন জমা দিতে পারেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলনও করতে পারেন। ব্যাংকে কোনো ধরনের কয়েন গ্রহণে বাধা নেই।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এক টাকার কয়েন বাংলাদেশ সরকারের বৈধ মুদ্রা। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে এ কয়েন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তা আইনসম্মত নয়। বাজারে কয়েন না নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা ছয়টি যাত্রীবাহী বাস ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত মুঠোফোনের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পর ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেওয়ার পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আহত দুই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত মুঠোফোনের জন্যও ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধের পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাস কর্তৃপক্ষ লিখিত মুচলেকাও দিয়েছে যে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করবে না। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে গাবতলী থেকে মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিরু মিয়া ও তাঁর দুই বন্ধু। বাসটি আমিনবাজার এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দেখিয়ে তিনজনের হাফ ভাড়া হিসাবে ৬০ টাকা দেন হিরু মিয়া। কিন্তু বাসচালকের সহকারী হাফ ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হলে হিরু মিয়ার জামার কলার ধরেন সহকারী। পরে হেমায়েতপুর এলাকায় তাঁকে ঘাড় ধরে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। হিরু মিয়া বিষয়টি তাঁর বন্ধুদের জানালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বাসটি আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাসচালক দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা জানান, পরে অন্য একটি বাসে করে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে ওই বাসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল ফটক এলাকায় আটক করা হয়। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাগিব মারজান কাঁধে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইয়াছির আরাফাত আঙুলে চোট পান। পরে শিক্ষার্থীরা একই পরিবহনের আরও পাঁচটি বাস আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পর গত রোববার রাতে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বাস কর্তৃপক্ষ। ওই আলোচনায় ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আজ ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় কবিরাজির নামে দীর্ঘদিন ধরে অপচিকিৎসা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক ভুয়া কবিরাজকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার আস্তানা থেকে অপচিকিৎসায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ কবিরাজি বই, কথিত ওষুধ, ভেষজ উপকরণ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাহাটি জোয়ার্দারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. রিপন হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিপন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজির আড়ালে বিভিন্ন ধরনের তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক এবং কথিত চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের আলোকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এ সময় তার আস্তানা থেকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উপকরণ, কথিত ওষুধ, কবিরাজি বই এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সামগ্রী জব্দ করা হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আউলিয়ার রহমান এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম। অভিযান শেষে অভিযুক্ত রিপন হোসেনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক, প্রতারণামূলক ও অপচিকিৎসামূলক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পরে তিনি আর কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই। অপচিকিৎসা এবং ভুয়া চিকিৎসার নামে কেউ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।