সারাদেশ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ: কী লিখলেন সর্ব মিত্র চাকমা?

মারিয়া রহমান জুন ০১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।


সোমবার দুপুরে ফেসবুক পোস্ট তিনি লেখেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ এক বিরল ঘটনা, যেখানে সবাই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়।


মন্ত্রীকে আমি যতদূর চিনেছি-জেনেছি, তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত এবং স্বল্পভাষী। রাজনীতিতে যেখানে কাদা ছোড়াছুড়ি নিত্যদিনের ঘটনা, তিনি বিরোধী পক্ষকে কখনও কথার মাধ্যমে আক্রমণ করেননি। এমন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ আমাদের দরকার। শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ সক্রিয় দেখেছি তাকে।


জানি না তিনি এ সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ও থাকতে পারে। কিন্তু দেশ ও পার্বত্যবাসীর কল্যাণে তার এ পদে আসীন থাকা দরকার। প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি নিশ্চয় না করবেন না।’


উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।


সোমবার তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফারুকী হত্যার এক যুগ, এখনো শুরু হয়নি বিচার

ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের এক যুগ হয়ে গেল, এখনো বিচার শুরু হয়নি।   দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ায় মর্মাহত ফারুকীর পরিবার। তাদের প্রত্যাশা, বিচার যে দ্রুত শেষ হয়, আসামিরা শাস্তি পায়।   ২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।   এ ঘটনায় ফারুকীর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ফয়সাল ফারুকী রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।   সপ্তাহখানেক পর ৩ সেপ্টেম্বর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ফারুকীর পরিবার অভিযোগ করে, ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।   আর ঘটনার ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও জেএমবি জঙ্গিরা ঘটিয়েছে।   অভিযোগপত্রে ১২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ছয় জনের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা না পাওয়ায় এবং বাকিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জামাই ফারুক, নাঈম, ইমন, হাফেজ কবির, আশফাক ই আজম ওরফে আপেল ও খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।   একই ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ছয়জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা করেন।   এ ছয়জন হলেন তৎকালীন এনটিভি ও এটিএন বাংলার ইসলামী অনুষ্ঠানের আলোচক ও জামায়াতের রুকন তারেক মনোয়ার, নরসিংদী জামায়াতের সাবেক আমির কামাল উদ্দিন জাফরী; দিগন্ত ও পিস টিভির ইসলামী অনুষ্ঠানের আলোচক কাজী ইব্রাহীম; এটিএন বাংলার ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক আরাকানুল্লাহ হারুনী; আরটিভি ও রেডিও টুডের উপস্থাপক খলেদ সাইফুল্লাহ বখশী এবং বাংলাভিশনের ‘কোরানের আলো’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মুখতার আহমদ।   তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অভিযোগপত্রে নাম আসা আসামিরা হলেন-হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার, রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ।   তাদের মধ্যে বাশার ও রফিকুল পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। কারাগারে রয়েছেন হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর। অপর তিন আসামি জামিনে রয়েছেন।   গত বছরের ২৩ মার্চ সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তাদের বিচারের জন্য মামলাটি প্রস্তুত করে গত ২১ অক্টোবর নথি ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।   একই সঙ্গে সুপারিশ করা ১২ জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।   মামলাটি ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে।   গেল ২০ অগাস্ট মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ছিল। কয়েকজন আসামির অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।   তবে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখা হয়েছে বলে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী জানিয়েছেন।   আসামি রতন চৌধুরী ওরফে রিপনের আইনজীবী মো. জায়েদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন পর মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আশা করছি, আমরা ন্যায়বিচার পাব।”   আবু রায়হানের আইনজীবী কে এম শরীফুল ইসলাম (তানভীর) বলেন, “অভিযোগ গঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি। আশা করছি, আদালত তাকে অব্যাহতি দেবেন। তারপরও যদি অভিযোগ গঠন হয়ে যায়, আমরা ট্রায়াল ফেইস করব।”   ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলাটা ১২ বছর আগেকার। তদন্তে অনেক সময় গেছে। ১০ বছর পর ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।”   তিনি বলেন, “মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। সেনসিটিভ মামলা। অভিযোগ গঠন হয়ে গেলে সাক্ষী হাজির করে মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করবো।”   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ফারুকী সূফী মতবাদ ও মাজারপন্থি মতাদর্শের অনুসারী। অন্যদিকে আসামিরা জেএমবির মতাদর্শের অনুসারী এবং মাজারবিরোধী। সে সময় তিনটি উপদলে বিভক্ত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জেএমবির একাংশের পরিকল্পনায় ফারুকীকে হত্যা করা হয়।   অভিযোগপত্রে জেএমবির তখনকার উপদলগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, একটি গ্রুপে সালাউদ্দিন, একটি গ্রুপে সরোয়ার জাহান মানিক এবং অপর গ্রুপে সাইদুর রহমান নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। সালাউদ্দিন গ্রুপের লোকজন তাদের কথিত অভিযান সংঘটনের সময় ডাকাতি করত বলে জানা যায়।   তদন্তে উঠে এসেছে, সালাউদ্দিন গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন জামাই ফারুক। তিনি ঢাকায় ‘অভিযানের’ দায়িত্বে ছিলেন। মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে তারা ফারুকীকে হত্যা করেন।   অভিযোগপত্রে ঘটনার পরিকল্পনার বর্ণনাও ওঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২৬ অগাস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের পাশে কামার পাড়ায় জেএমবি নেতা জামাই ফারুকের সহযোগী ইমনের শ্বশুরবাড়িতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। জামাই ফারুক ও আব্দুল্লাহ আল তাসনীম নামে জঙ্গি সংগঠনটির আরেক নেতা ফারুকীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।   সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট বাসায় ঢুকে ফারুকীকে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় আসামিরা।   মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল বাজলে দরজা খোলা হয়। তখন দুই জন লোক বাসায় প্রবেশ করে ফারুকীর সঙ্গে সঙ্গে ড্রয়িং রুমে এসে বসেন। কিছুক্ষণ পর আরও ৬/৭ লোক বাসায় প্রবেশ করেন।   বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাদী ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। তিনি ফিরে এসে দেখেন ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে আসামিরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেঁধে তাকে হত্যা করে এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা নিয়ে চলে যায়।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মারুফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেদিনের ঘটনা ভোলার মতো না, ভোলাও যায় না।”   তিনি বলেন, “এটা একটা আলোচিত মামলা। আমরা বিচার চাই।”   ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বলেন, “আমরা তো অনেক বছর ধরে বলে আসছি। গত সরকারের কাছে বলেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বলেছি, বর্তমানে যারা আছেন তাদের কাছেও আমরা একই প্রত্যাশা করব। বিচারটা যেন দ্রুত হয়।”   তিনি বলেন, “এ সময়ে অনেক পুরোনো মামলার বিচার হয়েছে। আমাদেরটা এখন পর্যন্ত হচ্ছে না বলে আমরা মর্মাহত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচারটা যেন হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে ৪ খুনের বিচার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বিতণ্ডা

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসে ৫ হামলা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় সরকারের পদক্ষেপ কী

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ কমিশনার

রংপুরে চাঞ্চল্যকর ৪ খুন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ কমিশনার

সংগৃহীত ছবি
চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা, ধরতে ডেপুটি স্পিকারের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃক্ষের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর কলমাকান্দা উপজেলার বাবন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে, সেই ক্লাইমেট চেঞ্জকে এনকাউন্টার করার জন্য আমাদের বৃক্ষই সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই বৃক্ষরাজিকে এখন ধ্বংস করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি। আমি একটু আগেও ওসির সাথে কথা বললাম, তিনি বললেন, চেষ্টা করছি। আমি বলব চেষ্টা না, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করতে হবে এই বৃক্ষের হত্যাকারী কারা। তিনি আরও বলেন, এখানে যদি কোনো রাজনৈতিক মোটিভ থেকে থাকে, সেটার জন্যও আপনারা খুঁজে বের করবেন। কেউ নিজের ঘরবাড়ি বৃদ্ধি করার জন্য এটি করেছে—এমনটা আমার কাছে আনলাইকলি মনে হয়। কারণ ঘরবাড়ি বৃদ্ধি করার জন্য হলেও আরও দুই সপ্তাহ আগে উপড়ে ফেলা যেতো। তাই এখানে রাজনৈতিক মোটিভ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এটি খুঁজে বের করা। আমি অনুরোধ করব এবং একই সাথে নির্দেশনা দিব—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃক্ষ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত পরিবেশ আইনে মামলা দায়ের করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই গাছগুলো হয়তো বিএনপি, যুবদল বা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাগানো হচ্ছে, কিন্তু কোনো নেতার বাড়ির সামনে লাগানো হচ্ছে না। মানুষের কল্যাণে এই বৃক্ষরাজি রোপণ করা হচ্ছে। আপনারা প্রত্যেকেই আপনাদের বাড়ির সামনের গাছগুলো দেখে রাখবেন, যেন এই বৃক্ষগুলো যখন বড় হবে, তখন এর আশ্রয়েই আমরা আশ্রিত হতে পারি। সাংবাদিক ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি যোগ করেন, সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, ঠিক তেমনিভাবে প্রশাসনকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনেন। আপনারা খবর নেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নেত্রকোণায় বাস্তবে কতগুলো বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে? ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করলে ৬৪টা ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে নেত্রকোণা জেলায় কতগুলো লাগানো উচিত ছিল আর কতগুলো লাগানো হয়েছে—সে ব্যাপারে আপনারাও ভূমিকা রাখতে পারেন। সাংবাদিকরা হচ্ছেন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আমরা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন যখন অ্যাকাউন্টেবিলিটির মধ্যে আসব, তখনই একটা প্রকৃত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৃক্ষরাজিগুলো ৫ আগস্ট—অর্থাৎ ফ্যাসিজমবিরোধী ও ফাসিস্টের পলায়ন দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য লাগানো হয়েছিল। যদি উদ্দেশ্যমূলক তারা এটি হত্যা করে থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব থাকে, তবে আমরা ধরে নেব ফ্যাসিজমকে প্রকারান্তরে সহযোগিতা করার জন্যই তারা এই নীরবতা পালন করছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার কলমাকান্দা-নেত্রকোণা আঞ্চলিক সড়কের বাবনী এলাকায় রাতের আঁধারে সড়কের পাশে রোপণ করা প্রায় ৩৫টি গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রসঙ্গত, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ৫ আগস্ট এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে এবং উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ওই সড়কের দুই পাশে পাঁচ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ফাতেমার পাশে প্রধানমন্ত্রী

একজনকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে একে একে প্রাণ গেল ৫ শিশুর

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল মা ও এক বছরের শিশুর

ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে ছিলেন মোবারক, পুলিশ ঢুকতেই গুলি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্যরা কক্ষে প্রবেশ করতেই ফলস ছাদ থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান মোবারক। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানায়, ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় একটি বাড়িতে মোবারক অবস্থান করছেন—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়িটির দরজা ছিল লোহার তৈরি। বারবার ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় পুলিশ সদস্যরা বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। মোবারক ছাদ টপকে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় পুলিশের একটি দল বাড়ির ছাদেও অবস্থান নেয়।   প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লোহার দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে পুলিশ। প্রথমে ওয়াশরুমের ওপরে থাকা ফলস ছাদ থেকে মোবারকের তিন সহযোগী—রায়হান, নাছির ও ফরিদকে আটক করা হয়। এরপর সতর্কতার সঙ্গে বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়।   একপর্যায়ে একটি কক্ষের ওয়াশরুমের ফলস ছাদের ওপর মোবারকের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা কক্ষে প্রবেশ করতেই ফলস ছাদ থেকে তিনি ব্রাজিলের তৈরি ‘তরাস’ পিস্তল দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করেন। পুলিশও পাল্টা সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে।   এ সময় একটি গুলি চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। এছাড়া অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।   পুলিশ জানায়, মোবারক সপ্তমবার গুলি করার চেষ্টা করলে তাঁর পিস্তলটি আটকে যায়। সেই সুযোগে পুলিশ তাঁকে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পিস্তল। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র।   গ্রেপ্তার মোবারক হোসেনকে কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে আত্মগোপনের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।   পুলিশ আরও জানায়, গত ২৯ জুলাই ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবারককে ধরতে ফটিকছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। তবে প্রতিবারই তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে যান। সর্বশেষ পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের অভিযান জোরদার হলে নিজেকে নিরাপদ মনে না করে লেলাং ইউনিয়নের পরিচিত একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানেই ফলস ছাদের ভেতর লুকিয়ে ছিলেন।   মোবারককে গ্রেপ্তারের পর তাঁর তিন সহযোগীর কাছ থেকেও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, পিস্তলের ২৩টি গুলি এবং শটগানের চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ফটিকছড়ি ও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।   অভিযানের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় মোবারককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত দুই মামলায় মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসীর গ্রেপ্তারে ফটিকছড়ি ও রাউজানের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের কারণে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ছিলেন বলেও স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬ দফা দাবিতে রিকশা-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচি

প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে বানানো

হাতীবান্ধা সীমান্তে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালালো বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

0 Comments