প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তার স্ত্রী, সন্তান এবং ভাইবোন তার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের আগে তারা তাকে আরও সতর্ক হতে বলেছেন এবং তারা ভীত। তবে তিনি নিজে ভীত নন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, এ দায়িত্বে তার ১৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। লেখার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক নৃশংস গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থেকে শরিফ ওসমান হাদি তার ভাবনায় ও দোয়ায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে তিনি অসংখ্য তরুণকে দেখেন, যাদের প্রত্যেকের মধ্যে একজন করে ‘হাদি’ আছেন। তিনি দাবি করেন, স্বৈরাচারী শক্তি যতই দমন চালাক না কেন, তারা কতজনকে হত্যা করতে পারবে এই প্রশ্ন থেকেই যায়। তার ভাষায়, দেশের রাজনীতির নেতৃত্বে এখন এক নতুন প্রজন্ম, যারা একটি স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, যদিও তাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি।
শফিকুল আলম বলেন, এই প্রজন্মের কোটি কোটি তরুণ যতদিন তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে অস্বীকার করবে, ততদিন ভয় পাওয়ার বা আশা হারানোর কোনো কারণ নেই। তিনি তরুণদের সঙ্গে শহীদ আনাসের উদাহরণ টেনে বলেন, যেমন তিনি শহীদ হওয়ার আগে মায়ের কাছে হৃদয়বিদারক চিঠি লিখেছিলেন, তেমনি আজকের তরুণরা দেশকে সঠিক পথে না নেওয়া পর্যন্ত থামবে না এই অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। সামনে নানা প্রতিকূলতা ও ধাক্কা আসতে পারে। দেশি ও বিদেশি শক্তি সাময়িকভাবে অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু এই তরুণরা ভয় পায় না এবং তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্টে দেশ হারিয়েছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আনাস, আহনাফ, ফাইয়াজ, দীপ্ত দে, নাইমা ও রিয়া গোপেকে। পাশাপাশি বিদেশি চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে হারাতে হয়েছে আবরার ফাইয়াজকেও। তবুও সারাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে লাখ লাখ ‘হাদি’ ও ‘নাবিলা’। তারা ভয় পায় না। তিনিও ভয় পান না বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
’২৪ এর জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেন, ১৬ জুলাই পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের শাহাদাৎ বরণের মধ্যদিয়ে ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। যখনই কোনো দল দেশের স্বাধীনতা বা অর্জনকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে চেয়েছে, তাদের কিন্তু পালিয়ে যেতে হয়েছে। শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে এই সব কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মনে করি না যে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা যা বলব তাই হবে। এ দেশের মানুষ যা চায়, তাই হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে আমরা সব দল একসাথে কাজ করব। এছাড়াও রাজনৈতিক সহকর্মীদের আশ্বস্ত ও হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইতিহাস পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নয়, বিএনপির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস নয়। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে যে দল গড়ে উঠেছে এবং বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন আপসহীন থেকে দেশের মানুষের অধিকারের লড়াই পরিচালনা করেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থেকেও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন; সেই দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করবে। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মো. শামীম হোসেন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার মিলন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজার রহমান লাবলু প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত নেতা-কর্মীর ভিড়ে মূল মঞ্চ ধসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মঞ্চে থাকা কেউ আহত হননি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দোহাজারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী আসার আগেই মঞ্চে নেতা-কর্মীদের ভিড় বেড়ে যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মাইকে মঞ্চে অতিরিক্ত লোক না ওঠার অনুরোধ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে অর্থমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে সেখানে উঠে পড়লে অতিরিক্ত চাপের কারণে মঞ্চের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে অনুষ্ঠানস্থলে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান বলেন, পুরো মঞ্চ ধসে পড়েনি; টেবিলের কয়েকটি পায়ের অংশ বসে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরও অর্থমন্ত্রী মঞ্চেই অবস্থান করে কয়েকজন বন্যার্তের হাতে ত্রাণ তুলে দেন এবং পরে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনার সময় মঞ্চে উপস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ মঞ্চে ওঠায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, মাইকে বারবার সতর্ক করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
বিদায় পৃথিবী, সুখে থেকো’ ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে ছাকিন হোসেন (২৭) নামে যশোরের স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে যশোর সদরের শেখহাটি তরফ নওয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ছাকিন ওই এলাকার রমজান আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন ছাকিন। রাতে নিজ ঘরে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডাক্তার বিচিত্র মল্লিক জানান, স্বজনরা মৃত অবস্থায় তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। স্বজনরা জানান, এর আগে ওইদিন দুপুরে তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে বিপুল সংখ্যক ঘুমের ট্যাবলেট খান। এ খবর পেয়ে সহকর্মীরা তার বাড়িতে যান। তার সহকর্মী রাব্বী আল আমিন জানান, তার বাড়িতে গিয়ে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ছাকিনকে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ছাকিন সন্ধ্যায় অফিসে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু তিনি আর আসেননি। আমরা পরে তার আত্মহত্যার খবর জানতে পারি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। যে কারণে তার স্ত্রী গত ঈদুল ফিতরের পরের দিন বাবার বাড়িতে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এ নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ছাকিন।