অন্যান্য

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রার্থী ঘোষণায় এগিয়ে জামায়াত ও এনসিপি, তফসিলের অপেক্ষায় বিএনপি

মারিয়া রহমান জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী দুই-তিন মাস পর অনুষ্ঠিত হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্দলীয় হলেও এ নির্বাচনে এক ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ আছে। কারণ এতে জয়-পরাজয়ের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের প্রেস্টিজ ইস্যু জড়িত। তাই নিজ দলের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সব পক্ষই। স্থানীয় সরকারের চারটি স্তর—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন। এসব স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অঘোষিত প্রচারণা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একাধিক প্রার্থী সরব। যদিও তাদের প্রার্থিতা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তর থেকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

 

অপরদিকে জাতীয় নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় নির্বাচনে দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের নাম প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। উন্নয়ন ফোরামের নামে ইতোমধ্যে তারা প্রচারণাও শুরু করেছে। নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতারাও অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে জানা

গেছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যেও এমন আভাস মিলেছে।

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) বসে নেই। তারাও পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।

 


রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের যেসব নেতার নামে মামলা আছে, তারা কীভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন। আবার যাদের নামে মামলা নেই, কিন্তু নির্বাচনে দাঁড়ালে তাদের মামলায় জড়ানো হয় কিনা? দেশের নির্বাচনের অতীত ইতিহাস সামনে রেখে এমন আলোচনাও সামনে এসেছে। নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের মতো মামলা-হয়রানি যুক্ত হলে— সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে, নাকি আইওয়াশে পরিণত হবে?

তফসিলের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে না বিএনপি

 

বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী ঘোষণা করবে না দলটি। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবে দলের হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে অতীতে দলের জন্য ত্যাগ ও গণমুখী নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন।

 

প্রার্থী ঘোষণার দৌড়ে এগিয়ে জামায়াত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রার্থিতা নিয়ে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করেছে, সেখানে আগাম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে বেশিরভাগ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে দলটি।

 

অনেকে ইতোমধ্যে নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। উন্নয়ন ফোরামের নামে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড করছেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলটি থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়েও ব্যাপক প্রচারণা হচ্ছে।

 

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী দলটির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী।

 

আর সিলেট সিটিতে তিন জনের নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে স্থানীয় সংগঠন। তারা হলেন—সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ।

 

দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তাদের বেশিরভাগ এলাকাতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

 

জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের অধিকাংশ প্রার্থীই চূড়ান্ত। দল যাকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে প্রচারণাও শুরু করেছেন।

 

এনসিপিও বসে নেই

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারাও বিভিন্ন জায়গায় আগাম প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরে যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

 

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ বিধিমালা কার্যকর হলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যেকোনও দলের কর্মী সমর্থকরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে।

 

গত ১০ জুন এই বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কোনও দল বাদ দেওয়ার মতো কোনও বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন।’’

 

এ বিষয়ে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে বিএনপি বা সরকারের মনোভাব জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে এর কোনও সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রশ্নের উত্তর তিনি পাশ কাটিয়ে যান।

 

কী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন আওয়ামী লীগ নেতারা?

পাঁচই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই নিষিদ্ধ রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্যের পর আলোচনা হচ্ছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগের পদবিধারী নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন? সে ক্ষেত্রে তো নারায়ণগঞ্জের সেলিমা হায়াত আইভীর মতো বহু প্রার্থী সামনে আসতে পারেন। তখন সরকার বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে? তাদের স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে নাকি, মামলার আসামি হিসেবে হয়রানির মুখে রাখা হবে? এ নিয়েও সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা নেই।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় যে কেউ অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তো না করা যাবে না। আর কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকার কথা নয়। কেউ যদি জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়, সেটা ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হবে। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব ইসিকেই নিতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন করতে হলে সব প্রার্থীকেই সমান নজরে দেখতে হবে।’’

 

এ বিষয়ে গত ৯ জুন সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নির্দোষ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে রকম কোনও সমস্যা নেই। মানে কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগেরও হন, কারণ এটা নির্দলীয়। তার মতে, সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায়, প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের দলীয় বক্তব্য সামনে আনলেই শুধু সমস্যা হতে পারে।

 

ভালো নির্বাচন নাকি আইওয়াশ?

অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলগুলোর বিরুদ্ধে। তবে এবার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুলও ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। দলের কাউকেই অন্যায় করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ভোটের মাঠে আসলে সরকারের এমন অবস্থান ঠিক থাকে কিনা, এ নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তার কথা বলছেন কেউ কেউ। আবার ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘একটি ভালো নির্বাচন হোক, সেটা আমরা চাই। আওয়ামী লীগের কেউ প্রার্থী হতে চাইলে সরকার কীভাবে দেখবে, সেটাতো বলতে পারবো না। তবে আমরা মনে করি, গুরুতর  অপরাধী না হলে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’’

 

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই ভালো হবে। দলগতভাবে ইতোমধ্যে যোগ্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।’’ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থান কী হবে, সেটি ইসিই ভালো বলতে পারবে।’’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সামনে তিন বড় চ্যালেঞ্জের কথা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই—রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।   বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।   তিনি আরো বলেন, সরকার যদি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে তাহলে আমরাও তাদেরকে ছেড়ে কথা বলবো না। সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে আরো একটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।   সমাবেশের প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সকালে খুলনা পৌঁছালে সার্কিট হাউজে তাকে স্বাগত জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ স্থানীয় নেতারা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রার্থী ঘোষণায় এগিয়ে জামায়াত ও এনসিপি, তফসিলের অপেক্ষায় বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত

ড. ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেননি: মাহফুজ আলম

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে জামায়াত নেতার সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবলমাত্র একটি গতানুগতিক ধারার ব্যাংক নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক যেই অবদান রেখেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পতিত এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর জোনের বাছাইকৃত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ আরো বলেন, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য আদর্শিক লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকার দল ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী সেই ভূমিকা রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্যামপুর জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক ও কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির। আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন, কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন, যাত্রাবাড়ী থানা আমির মাওলানা সাদিক বিল্লাহ প্রমুখ।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসনের চেষ্টা করছে সরকার: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরলেন ৬০ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪

ছবি: সংগৃহীত

মাধ্যমিকে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা, বাতিল কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে দুটি নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দু’টি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।   তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দু’টি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরও দু’টি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।   তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সমতা, ন্যায্যতা এবং সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে এনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চায়, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যেই দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইনোভেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।   মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং কর্মজীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব স্থাপন করা হবে।   তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে ৪টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব গড়তে সরকারের উদ্যোগ : ববি হাজ্জাজ

0 Comments