জাতীয়

ভূকৌশলগত সম্পর্কে নতুন মাত্রা: প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে আলোচনায় থাকছে যা যা

মারিয়া রহমান জুন ২০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের শীর্ষ বৈঠক শেষে ২৬ জুন যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তির পর এটা হবে দুই দেশের মধ্যে তৃতীয়বার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা।

 

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এবার ১২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। আলোচনায় আসবে বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতার প্রসঙ্গগুলো। তবে যৌথ ইশতেহার ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে এটা স্পষ্ট যে এবারের সফরে রাজনৈতিক এবং ভূকৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।

 

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে পাঁচ দিনের সফরে চীনে পৌঁছাবেন।

 

সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন প্রমুখ।

 

১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর নিউইয়র্কে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সম্পর্কের তিন দশক পূর্তিতে বেইজিংয়ে দুই দেশ যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। এবার পাঁচ দশক পূর্তির পর নতুন ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তুতি দুই দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে আনছে।

 

ঢাকা ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি হবে প্রথম চীন সফর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর সফরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তাটি স্পষ্ট।

 

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইসিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া সিপিসির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান।

 

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এবার ১২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। আলোচনায় আসবে বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতার প্রসঙ্গগুলো।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির চারটি উদ্যোগের অন্যতম জিডিআই বা বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের যুক্ততার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

উন্নয়নকে কেন্দ্রে রেখে টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সহযোগিতার বিকাশে ২০২১ সালে জিডিআই ঘোষণা করেন সি চিন পিং। পাঁচ বছর ধরে চীন এতে বাংলাদেশকে যুক্ত হতে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। জিডিআইয়ে বাংলাদেশে যুক্ততার বিষয়ে একটি সমঝোতা সইয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। এটি সই হলে প্রায় ১০ বছর পর চীনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশ যুক্ত হবে। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যুক্ত হয়েছিল। ওই সফরের সময় বিআরআইয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

 

কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জেনেভায় বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মোহাম্মদ সুফিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা অনেকাংশে প্রকল্পনির্ভর ছিল। বন্ধুত্ব শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এগোতে পারে না। সেটা এগিয়ে যায় রাজনৈতিক পরিসরে গভীর সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তাবিত বৈঠকগুলোতে গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আভাস আছে।

 

কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গোপন বিষয় নয়। ফলে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে ত্রিমুখী ভারসাম্য বজায় রেখে চলাটা বাংলাদেশের জন্য জরুরি।

 

‘সামার ডাভোসে’ অংশগ্রহণ
মাসখানেক আগে ২৩ থেকে ২৬ জুন সূচি ধরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরটি এখন হচ্ছে ২২ থেকে ২৬ জুন।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৩ জুন সারা দিন এবং ২৪ জুন মধ্যাহ্নভোজের আগপর্যন্ত দালিয়ানে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ‘সামার ডাভোস’ হিসেবে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় যোগ দিতে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালোইস জুইনজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় সামার ডাভোসের অতিথিদের সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন অর্থাৎ ২৪ জুন তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন। ওই দিন বিকেলে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে দালিয়ান ছেড়ে যাবেন।

 

বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হবে। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেওয়া চীনের প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেবেন তারেক রহমান।

 

বেইজিংয়ে দুই দিনের ব্যস্ত সূচি
২৫ জুন সকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে চীনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চেরি গ্রুপ, হানদা গ্রুপ ও চায়নাট্যাক্স করপোরেশনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করবেন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইসিং, চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডকা) চেয়ারম্যান চেন শিয়াওডং এবং এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (চায়না এক্সিম ব্যাংক) চেয়ারম্যান চেন হুয়াইউ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

 

ওই দিন বিকেলে গ্রেট হল অব পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হবে। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেওয়া চীনের প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেবেন তারেক রহমান।

 

মনুমেন্ট অব দ্য পিপলস হিরোজে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন। পরে গ্রেট হল অব পিপলে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজি। এরপর তিনি বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে। ওই বৈঠক শেষে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। ওই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিং থেকে ঢাকার পথে যাত্রা করবেন।

 

সইয়ের জন্য প্রস্তুত করা চুক্তি তিনটি হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের বিষয়ে রূপরেখা চুক্তি এবং চীনা ভাষায় শিক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা।

 

সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, প্রটোকলসহ ১৫টির বেশি দলিল সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

সইয়ের জন্য প্রস্তুত করা চুক্তি তিনটি হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের বিষয়ে রূপরেখা চুক্তি এবং চীনা ভাষায় শিক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা।

 

সমঝোতা স্মারকের তালিকায় আছে বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) বাস্তবায়নের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ, কারিগরি শিক্ষা, চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে পৃথকভাবে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতার, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সঙ্গে পৃথকভাবে বাসস ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের যে স্তর, তাতে আরও নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জিডিআইতে যোগ দিচ্ছে। ব্রিকস, এসসিও এবং আরসেপে যোগ দিতে চীনের সমর্থন পেতে চাইছে। দ্বিপক্ষীয় অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আগের চেয়ে বিস্তৃতি লাভ করছে। বড় পরিসরে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের পাশে থাকার আহ্বান, সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না।’   শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পরপর দুই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের পর এটিই প্রথম। এ জয়ের প্রসঙ্গ ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।’   এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তবে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এই বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার তিন আলোচিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসির চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে

ছবি: সংগৃহীত

চীন সফরে একাধিক সমঝোতা, ১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৬ জুন

ছবি : সংগৃহীত
নবম পে স্কেলের মাঝেই পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার, সর্বনিম্ন হার ও গ্র্যাচুইটিতে নতুন চমক

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে ২০১৫ সালে পেনশনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে সরকার। পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য তৈরি হয়েছে বাড়তি স্বস্তি।   নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।   প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়।   এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়। তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন—চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়।   ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।   চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।   এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়।   প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও আনা হয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।   অবসর সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।   প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন। গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

মারিয়া রহমান জুন ২০, ২০২৬

বেনজীর আহমেদকে দেশে আনা প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভূকৌশলগত সম্পর্কে নতুন মাত্রা: প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে আলোচনায় থাকছে যা যা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

উত্তরখান-দক্ষিণখানবাসীর ভোগান্তি কমছে, ৩ স্পটে আন্ডারপাস-ওভারপাস করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
শিগগিরই পাস হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প অনুমোদন পাবে। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।   শুক্রবার (১৯ জুন) রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন, ফলে তিস্তা পারের মানুষের আর কোনো উদ্বেগের কারণ নেই। তার মতে, পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।   মন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এর নকশা ও রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।   তিনি দাবি করেন, তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন শিল্প ও কৃষি অঞ্চলের বিকাশ ঘটবে।   পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে শুধু নদীশাসন নয়, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি ধরে রাখার স্থায়ী ব্যবস্থাও থাকবে। পরে তিনি তিস্তা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২০, ২০২৬

রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চীন সফর

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে বেক্সিমকো ফার্মা

ছবি: সংগৃহীত

খাকি প্যান্ট ও নীল-জলপাই শার্টে ফিরছে পুলিশ, নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

0 Comments