জাতীয়

ভূকৌশলগত সম্পর্কে নতুন মাত্রা: প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে আলোচনায় থাকছে যা যা

মারিয়া রহমান জুন ২০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের শীর্ষ বৈঠক শেষে ২৬ জুন যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তির পর এটা হবে দুই দেশের মধ্যে তৃতীয়বার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা।

 

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এবার ১২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। আলোচনায় আসবে বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতার প্রসঙ্গগুলো। তবে যৌথ ইশতেহার ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে এটা স্পষ্ট যে এবারের সফরে রাজনৈতিক এবং ভূকৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।

 

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে পাঁচ দিনের সফরে চীনে পৌঁছাবেন।

 

সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন প্রমুখ।

 

১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর নিউইয়র্কে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সম্পর্কের তিন দশক পূর্তিতে বেইজিংয়ে দুই দেশ যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। এবার পাঁচ দশক পূর্তির পর নতুন ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তুতি দুই দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে আনছে।

 

ঢাকা ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি হবে প্রথম চীন সফর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর সফরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তাটি স্পষ্ট।

 

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইসিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া সিপিসির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান।

 

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এবার ১২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। আলোচনায় আসবে বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতার প্রসঙ্গগুলো।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির চারটি উদ্যোগের অন্যতম জিডিআই বা বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের যুক্ততার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

উন্নয়নকে কেন্দ্রে রেখে টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সহযোগিতার বিকাশে ২০২১ সালে জিডিআই ঘোষণা করেন সি চিন পিং। পাঁচ বছর ধরে চীন এতে বাংলাদেশকে যুক্ত হতে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। জিডিআইয়ে বাংলাদেশে যুক্ততার বিষয়ে একটি সমঝোতা সইয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। এটি সই হলে প্রায় ১০ বছর পর চীনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশ যুক্ত হবে। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যুক্ত হয়েছিল। ওই সফরের সময় বিআরআইয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

 

কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জেনেভায় বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মোহাম্মদ সুফিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা অনেকাংশে প্রকল্পনির্ভর ছিল। বন্ধুত্ব শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এগোতে পারে না। সেটা এগিয়ে যায় রাজনৈতিক পরিসরে গভীর সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তাবিত বৈঠকগুলোতে গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আভাস আছে।

 

কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গোপন বিষয় নয়। ফলে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে ত্রিমুখী ভারসাম্য বজায় রেখে চলাটা বাংলাদেশের জন্য জরুরি।

 

‘সামার ডাভোসে’ অংশগ্রহণ
মাসখানেক আগে ২৩ থেকে ২৬ জুন সূচি ধরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরটি এখন হচ্ছে ২২ থেকে ২৬ জুন।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৩ জুন সারা দিন এবং ২৪ জুন মধ্যাহ্নভোজের আগপর্যন্ত দালিয়ানে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ‘সামার ডাভোস’ হিসেবে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় যোগ দিতে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালোইস জুইনজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় সামার ডাভোসের অতিথিদের সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন অর্থাৎ ২৪ জুন তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন। ওই দিন বিকেলে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে দালিয়ান ছেড়ে যাবেন।

 

বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হবে। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেওয়া চীনের প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেবেন তারেক রহমান।

 

বেইজিংয়ে দুই দিনের ব্যস্ত সূচি
২৫ জুন সকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে চীনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চেরি গ্রুপ, হানদা গ্রুপ ও চায়নাট্যাক্স করপোরেশনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করবেন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইসিং, চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডকা) চেয়ারম্যান চেন শিয়াওডং এবং এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (চায়না এক্সিম ব্যাংক) চেয়ারম্যান চেন হুয়াইউ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

 

ওই দিন বিকেলে গ্রেট হল অব পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হবে। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেওয়া চীনের প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেবেন তারেক রহমান।

 

মনুমেন্ট অব দ্য পিপলস হিরোজে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন। পরে গ্রেট হল অব পিপলে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজি। এরপর তিনি বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে। ওই বৈঠক শেষে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। ওই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিং থেকে ঢাকার পথে যাত্রা করবেন।

 

সইয়ের জন্য প্রস্তুত করা চুক্তি তিনটি হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের বিষয়ে রূপরেখা চুক্তি এবং চীনা ভাষায় শিক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা।

 

সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, প্রটোকলসহ ১৫টির বেশি দলিল সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

সইয়ের জন্য প্রস্তুত করা চুক্তি তিনটি হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের বিষয়ে রূপরেখা চুক্তি এবং চীনা ভাষায় শিক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা।

 

সমঝোতা স্মারকের তালিকায় আছে বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) বাস্তবায়নের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ, কারিগরি শিক্ষা, চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে পৃথকভাবে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতার, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সঙ্গে পৃথকভাবে বাসস ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের যে স্তর, তাতে আরও নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জিডিআইতে যোগ দিচ্ছে। ব্রিকস, এসসিও এবং আরসেপে যোগ দিতে চীনের সমর্থন পেতে চাইছে। দ্বিপক্ষীয় অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আগের চেয়ে বিস্তৃতি লাভ করছে। বড় পরিসরে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএমের সঙ্গে কাজ করবে হাইকমিশন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মধ্যে আলোচনা হয়েছে।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং আইওএমের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও অভিবাসীবান্ধব করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় আইওএম। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে দুই সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।   মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়ার জন্য আইওএমের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।   বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, প্রত্যাবাসন ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।   এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উঠে আসে।   এ ছাড়া নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।   সচেতনতামূলক এসব কার্যক্রমে নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা।   বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আইওএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে হাইকমিশন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, একদিনে আক্রান্ত ৬৪

ছবি: সংগৃহীত

চুয়েটে বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতার অবসান, ব্যাংকের সামনে কর্মসূচি প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষণ-বিপণন বাড়ালে কুটির শিল্পে গার্মেন্টসের চেয়েও বেশি আয় সম্ভব: গয়েশ্বর

ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর ঘিরে নতুন স্বপ্ন, নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগও

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রকল্পটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যেমন কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।   নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদুল হাসান জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি এর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় নিয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে এ কেন্দ্র দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।   রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটি ঘিরে বদলে গেছে রূপপুরের স্থানীয় পরিবেশও। একসময় তুলনামূলক নিরিবিলি এই এলাকায় এখন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দোকান ও রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ডে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি রুশ ভাষার ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি কিছু রেস্তোরাঁয় রাশিয়ার জনপ্রিয় ‘বর্শ’ স্যুপও পাওয়া যাচ্ছে।   প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয় যুবকদের অনেকে প্রকল্পকে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।   ২৮ বছর বয়সী মো. ইমন খান ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে রূপপুরে ফিরে এসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের কাছে ফল ও সবজি বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য, রুশ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি কিছুটা রুশ ভাষাও শিখেছেন।   রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ ইন্সটলেশন টেকনিশিয়ান আলেকজান্দার ভ্লাদিমিরোভিচ স্কভোর্তসোভ ২০২৪ সালে পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তার মতে, রূপপুরের বড় পরিসরের নির্মাণকাজ তাকে আকৃষ্ট করেছিল এবং এই প্রকল্প তার জীবন ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনেছে।   স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রকল্পটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাফিজ বলেন, রূপপুরের কারণে তাদের এলাকার পরিচিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার ও তার বন্ধুদের।   তবে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ এখনো উদ্বিগ্ন।   বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী ৮০ বছর বয়সী সাবেক কাগজকল শ্রমিক মো. ইউনুস আলী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্র এলাকায় একটি যন্ত্রের পরীক্ষার সময় বিকট শব্দে শিশুদের ঘুম ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার উদ্বেগ মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়ে।   অন্যদিকে রূপপুর কর্তৃপক্ষ বলছে, কেন্দ্রটির নকশা ও পরিচালনায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। অতীতের পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে পাওয়া শিক্ষা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষের দাবি।   নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সাধারণ মানুষের বড় প্রত্যাশা এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া নিয়ে। স্থানীয় কৃষক বেলী বেগম দ্রুত কেন্দ্রটি চালুর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন। তার প্রত্যাশা, বাড়ির কাছেই এত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও এর সুবিধা পাবেন।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে। এরপর বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স, সৌদি আরব, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পরে ২০১৫ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়।   করোনাভাইরাস মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং সরঞ্জাম পরিবহনে নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ কয়েক দফা পিছিয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পকে ঘিরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও রাজনৈতিক ও জনপরিসরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম হওয়া পণ্য খালাসের সময় শেষ হচ্ছে আজ

ছবি: সংগৃহীত

রামেবি উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে যোগ দেননি ১,৪৭১ জন, নিয়োগ পাননি আরও ৮৩

ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একই দিনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না। আবেদনকারীরা শুধু পরবর্তী দুই সপ্তাহের সম্ভাব্য তারিখের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আইভ্যাকের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইভ্যাক জানায়, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বৃহস্পতিবার অথবা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে খোলা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা বিভাগের জন্য স্লটের প্রাপ্যতার ওপর এটি নির্ভর করবে।   নির্দেশনায় আরও বলা হয়, স্লটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা এবং শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট খোলা থাকবে।   আবেদনকারীরা একই দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারবেন না। শুধু পরবর্তী দুই সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখগুলোর জন্য বুকিং করা যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা করবে টয়োটা

সংগৃহীত ছবি

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তুলে দিতে ভবিষ্যতে গণভোটের প্রয়োজন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না : খাদ্যমন্ত্রী

0 Comments