ঢাকাই সিনেমার মেগাস্টার শাকিব খানকে নিয়ে আবারও সরগরম চলচ্চিত্রপাড়া। একের পর এক নতুন লুকে হাজির হচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তার আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’-এর লুক প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের আগ্রহ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। এবার সেই লুকেই প্রকাশ্যে এলেন বাংলা সিনেমার ‘কিং খান’।

শনিবার দুপুরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, শাকিব খান সম্পূর্ণ কালো পোশাকে এবং কালো সানগ্লাসে হাজির হয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার গোঁফ— যা তার ‘সোলজার’ লুকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই লুকের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীতে একটি প্রতিষ্ঠানের নতুন আউটলেট উদ্বোধনে অংশ নেন শাকিব খান। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের এলাকায় জড়ো হয় বিপুল সংখ্যক দর্শক ও ভক্ত। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে অনেকে, ফলে নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শাকিব খান হাসিমুখে ভক্তদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিচ্ছেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান। তিনি শাকিবের গোঁফ নিয়ে জানতে চাইলে নায়ক মজার ছলে বলেন, “শুটিং শেষে আমি মাঝে মাঝে মেকআপ টিমকে বলি, আমার গোঁফটা খুলে দাও। অনেকে অনেকক্ষণ ধরে দেখে, তারপর বলে— আরে, এটাতো আসল!”

তবে গোঁফটি আসল না নকল— তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রযোজনা সংস্থা সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স প্রযোজিত এই সিনেমায় শাকিব খানকে দেখা যাবে একজন দেশপ্রেমিক চরিত্রে, যিনি দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। অ্যাকশন–ড্রামা ঘরানার এই চলচ্চিত্রটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন অনিবার্য কারণে যেসব পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব পরীক্ষার্থী চট্টগ্রামে স্থগিত হওয়া বিষয়ের পরীক্ষার সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এদিকে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন প্রণয়নের দায়ে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ওই ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচটি জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে কিছু বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ প্রতিকূলতার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে ও সময়ে এই বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ছয় নম্বর এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল ছিল, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
ঢাকার বিভিন্ন কলেজ থেকে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জনদুর্ভোগ কমাতে মানবিক বিবেচনায় রাস্তা ছেড়ে দিয়েছে রাজধানী উত্তরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের মতো ৩ দফা দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী হাসান ফাহাদ বলেন, উত্তরা থেকে লং মার্চ করে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে আপাতত রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার যে সায়েন্সল্যাবসহ মেইন দুইটা পয়েন্ট থেকে আন্দোলনের উৎপত্তি হয়েছে। আপনারা যদি আমাদেরকে সাহায্য করেন, সহযোগিতা করেন, তাহলে আমরাও এই আন্দোলনটাকে সফলভাবে করতে পারব। আমরা এখন কেন্দ্রে সিদ্ধান্তের উপরে আছি। এর আগে, দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় বিমানবন্দর, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়সহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারের মধ্যে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা না আসায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি আজ বুধবার (১৫ জুলাই) আবার বৈঠকে বসছে। বহুল আলোচিত এ বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা, এর আর্থিক প্রভাব এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে ২০১৫ সালের পে স্কেল কার্যকর থাকায় নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, নতুন পে স্কেল নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতনবৈষম্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এ কারণে বিদ্যমান বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, পুরো বেতনকাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাস্তবসম্মত করা, পদোন্নতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলও নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আইএমএফকে জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে একবারে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি না হয়। আলোচনায় আইএমএফ জানতে চেয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় কতটা বাড়বে এবং সেই অতিরিক্ত ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক আলোচনায় আইএমএফ বাংলাদেশকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, স্থায়ী রাজস্বভিত্তি শক্তিশালী না করে বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তারা ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পক্ষেও মত দিয়েছে।