খেলাধুলা

স্মিথ-হেডের কীর্তিময় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0

 

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জো রুটের ম্যারাথন ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। তবে ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং তাণ্ডবে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে সফরকারীরা। ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছিল ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে।

মঙ্গলবার সেই সংগ্রহ থেকেই ইনিংস এগিয়ে নেন হেড। নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারকে সঙ্গে নিয়ে দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান তিনি। নেসার ৯০ বল খেলে করেন মূল্যবান ২৪ রান। দুজনের ৭২ রানের জুটি ভাঙার পর স্টিভ স্মিথকে সঙ্গী পান হেড।
দ্বিতীয় সেশনে এই জুটিতে যোগ হয় আরও ৫৪ রান।
হেড শেষ পর্যন্ত আউট হলেও খেলে গেছেন দারুণ এক ইনিংস। ১৬৬ বলের ইনিংসে ২৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১৬৩ রান করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম ভাগে হেড, পরের ভাগে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেন স্মিথ।

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা উসমান খাজা (১৭) এদিন হতাশ করেন। যদিও স্মিথের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৫১ রানের। এরপর অ্যালেক্স ক্যারি (১৬) ব্যর্থ হলেও ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেন স্মিথ। দিনের শেষ ভাগে বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে ৮১ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

দিন শেষে ৭ উইকেটে ৫১৮ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ। ১৬৬ বলে ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ওয়েবস্টার খেলছিলেন ৪২ রানে। এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে—টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৭ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত গড়েছিল আটটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি।
মাঠে দিনটি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন। চারটি ক্যাচ ফেলার পাশাপাশি একটি নিশ্চিত রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে তারা। অ্যাশেজে অভিষেক ম্যাচে দুঃস্বপ্নের দিন কাটে ম্যাথু পটসের। ২৫ ওভারে তিনি দেন রেকর্ড ১৪১ রান। ব্রাইডন কার্স তিন উইকেট নিলেও খরচ করেন ১০৮ রান।

ব্যক্তিগত কীর্তিতেও দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন স্মিথ ও হেড। নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ডন ব্র্যাডম্যানের (৫০২৮) পরেই এখন স্মিথের নাম (৩৬৮২)। অ্যাশেজে এটি ছিল তার ১৩তম সেঞ্চুরি—ইংল্যান্ডের জ্যাক হবসকে (১২) ছাড়িয়ে তিনি এখন দ্বিতীয়, তার ওপরে কেবল ব্র্যাডম্যান (১৯)। সিডনিতে ১২ ম্যাচে স্মিথের রান ১২২৫, সেঞ্চুরি ৫টি। এই ভেন্যুতে কেবল রিকি পন্টিংয়ের পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বল।

অন্যদিকে, সিডনিতে পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডবইয়ে নাম লেখান হেডও। এটি তার এই ভেন্যুতে প্রথম সেঞ্চুরি এবং এক সিরিজে ওপেনার হিসেবে যৌথভাবে তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। চলতি অ্যাশেজে পার্থ ও অ্যাডিলেডের পর এটি তার তৃতীয় শতক—যার মাধ্যমে ম্যাথু হেইডেন, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল স্ল্যাটার ও জ্যাক হবসের মতো কিংবদন্তিদের পাশে জায়গা করে নিলেন তিনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হেড। ২০০২–০৩ মৌসুমে হেইডেনের পর প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি। একই সঙ্গে ১৫২ বলে দেড়শ রান করে অ্যাশেজ ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১৫০ করার রেকর্ড গড়েন। ৯৬ বছরের পুরোনো ডন ব্র্যাডম্যানের কীর্তিকেও পেছনে ফেলেন হেড।

এ ছাড়া বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন হেড। অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, হোবার্ট, পার্থ ও মেলবোর্নের পর এবার সিডনিতেও শতক হাঁকালেন তিনি। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
যে সমীকরণ মিললেই বিশ্বকাপে খেলতে পারবে ইতালি

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির জন্য বিশ্বকাপ মানেই গৌরবের মঞ্চ। ‘আজ্জুরি’ নামে পরিচিত দলটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভাটা পড়েছে সেই ধারাবাহিকতায়। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ায় হতাশা যেনো এখন পুরো ইতালিজুড়ে স্পষ্ট।   প্লে-অফে নিজেদের শেষ ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির খেলার স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়েই গিয়েছিলো। ওই হারের পর থেকে অনেকেই ভেবে নিয়েছিলো এই বিশ্বকাপেও হয়তো ইতালিকে দর্শকের কাতারেই থাকতে হবে।   তবে অনিশ্চয়তার খেলা ফুটবলে হঠাৎ করেই এক নতুন সম্ভাবনার দেখা দিচ্ছে ইতালির কাছে। যদিও সেটি এখনো অনেকটাই ক্ষীণ।   এই সম্ভাবনার সূত্রপাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে। ইরান জাতীয় ফুটবল দল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানা যায়। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন ইতোমধ্যেই। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নো ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, ‘নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে।   এই দ্বিধার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ফিফার একটি নিয়ম। ফিফার নীতিমালার ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন দল বিশ্বকাপ থেকে সড়ে দাঁড়ালে, তাদের জায়গায় ‘বিকল্প দল’ নেওয়ার সুযোগ থাকে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানার আপ বা একই অঞ্চলের সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংয়ে থাকা দলকে সুযোগ দেওয়া হয়।   এই হিসেবে ইরানের অনুপস্থিতিতে এশিয়া অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ খেলার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফে পৌঁছেছিলো , যদিও পরে তারা ইরাকের কাছে হেরে যায়।   তবে এখানেই শেষ নয়। ফিফার নিজস্ব বিবেচনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। আর এখানেই আলোচনায় এসেছে ইতালির নাম। যদি অঞ্চলভিত্তিক নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশ্ব র‍্যাংকিং বিবেচনা করা হয় তাহলে সুযোগ পেতে পারে ইতালি।   ইরাক জাতীয় দলের সহকারী কোচ রেনে মিউলেনস্টিন বলেন, ‘এএফসির হিসাব অনুযায়ী ইরানের জায়গায় ইরাকের যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর তাদের জায়গা পূরণে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলতে পারে অন্য প্লে-অফ ম্যাচে।’   তবে একইসঙ্গে তিনি আরেকটি গুঞ্জনের কথাও তুলে ধরেন তা হলো- ফিফা যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় নামটি হতে পারে ইতালি।   তবে বাস্তবতা বলছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। ইতালিকে সুযোগ দেওয়া হলে ইউরোপ থেকে অতিরিক্ত একটি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। এটি অন্য অঞ্চলের দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।   সব হিসেব-নিকেশের পরেও, ইতালির বিশ্বকাপ খেলা এখনো অনিশ্চিত বললেই চলে। অলৌকিক কিছু না ঘটলে তাদের এই অপেক্ষা দীর্ঘই হতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইতালির ভাগ্যে কী রয়েছে তা জানতে অনেকেই এখন তাকিয়ে আছেন ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১৪ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! টানা দ্বিতীয় হারে ধাক্কা খেল কলকাতা নাইট রাইডার্স

ছবি : সংগৃহীত

ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের পদত্যাগ

ছবি : সংগৃহীত

‘মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি’—দুঃখ প্রকাশ আইপিএলের

ছবি : বাফুফে
ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেল বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আবার মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। নিজ নিজ সেমি-ফাইনাল ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট কেটেছে প্রতিবেশী দেশ দুটি। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ-ভারত। একই মাঠে বুধবার বিকেলে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।পরে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল ম্যাচে ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ফাইনালের আগে গ্রুপেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে জেতেনি কেউ। ১-১ গোলে ড্র হয় ওই ম্যাচ। এবার চতুর্থবারের মতো বয়সভিত্তিক সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। এর আগে ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের ক্যাটাগরিতে সাতবার হয়েছে বয়সসভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এর মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, দুইবার নেপাল। আর ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রায় তিন বছর পর আবারও অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে ভারতকে হারাতে হবে তাদের। 

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি চূড়ান্ত

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের দৃশ্য। ছবি : বাফুফে

নেপালের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে ফাইনালে বাংলাদেশ

বিশ্বরেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন আমেলিয়া কার ও কেইলি নাইট। ছবি : সংগৃহীত

রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল নিউজিল্যান্ড

এবারের আসরে বাজিমাত করেছেন টাইগার স্পিনার রিশাদ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
বিগ ব্যাশের বর্ষসেরা বাংলাদেশি ক্রিকেটার

বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে খেলেছিলেন রিশাদ হোসেন। আসরে দলটির অন্যতম সেরা পারফর্মারও ছিলেন তিনি। বিশেষ করে স্পিন বিভাগে হোবার্টকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন লাল-সবুজের এই প্রতিনিধি। এমন পারফরম্যান্সের পর রিশাদকে বিগ ব্যাশের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত করেছে ক্রিকেট তাসমানিয়া। ২০২৫-২৬ মৌসুমের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি দিতে বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণের আয়োজন করে ক্রিকেট তাসমানিয়া। এতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিন্ন ভিন্ন পুরস্কার প্রদান করে তারা। এর মধ্যে একটি ক্যাটাগরি হচ্ছে বর্ষসেরা বিগ ব্যাশ ক্রিকেটার। আর সেখানেই সেরার স্বীকৃতি পেলেন রিশাদ। একই ক্যাটাগরিতে রিশাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন হোবার্ট হ্যারিকেন্সের অলরাউন্ডার নিখিল চৌধুরী, ক্রিস জর্ডান ও দলনেতা নাথান এলিস। বিগ ব্যাশের সর্বশেষ আসরে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন রিশাদ। ৭.৮২ ইকোনোমিতে মোট ১৫ উইকেট শিকার করেন এই লেগি। আর প্রতি উইকেটের জন্য রিশাদ খরচ করেছেন ২০.৮৬ রান। তার সেরা বোলিং ফিগার ছিল ২৬ রানে ৩ উইকেট। রিশাদ দারুণ পারফর্ম করলেও কোয়ালিফায়ার থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল হোবার্টকে। ১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তিন নম্বরে থেকে প্রথম পর্ব শেষ করেছিল তারা। নকআউট ম্যাচে মেলবোর্ন স্টারসকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যালেঞ্জার ম্যাচে উঠে তারা। তবে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সিডনি সিক্সার্সের কাছে ৫৭ রানে হেরে বিদায় নেয় রিশাদের দল। সেই রিশাদ এখন পাকিস্তান সুপার লিগে আলো ছড়াচ্ছেন।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে জয়ের পথে ফিরল ব্রাজিল

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে বিষণ্ণ ইতালির ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত

৫৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি

ছবি : সংগৃহীত

মেসি–আলভারেসের দাপটে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

0 Comments