বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ভাষ্য, তার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। তবে তিনি জ্ঞান রাখছেন এবং নেতাকর্মীদের চিনতে পারছেন। প্রয়োজন আরও উন্নত চিকিৎসা।
এদিকে দেশজুড়ে তার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন মসজিদে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া-মাহফিল হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে তার দীর্ঘ ও আপোষহীন রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে সুস্থতা কামনা করছেন।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য-অবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস। তিনি সব ধরনের চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। প্রধান উপদেষ্টার এই মানবিক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মাঝরাতে তার শারীরিক অবস্থা জানতে হাসপাতালে যান সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা লেখেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন।’
এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান সিসিইউতে গিয়ে খোঁজ নেন। বাইরে এসে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই মুহূর্তে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, তিনি স্থিতিশীল নন। আরও উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো ভালো হবেন… আমাদেরকে চিনতে পেরেছেন এবং আমরা সালাম দিয়েছি, উত্তর দিয়েছেন।’
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনা করেছেন। প্রয়োজনীয় যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তারা সকল রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’
শুক্রবার বিকালে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়।’
মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সিসিইউতে চলছে তার চিকিৎসা। প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থাপনাগুলোর একটি হলো মিসরের গিজার গ্রেট পিরামিড। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর ধরে অসংখ্য ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরও এটি এখনো প্রায় অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই প্রাচীন মিসরীয়রা কীভাবে এত শক্তিশালী স্থাপনা তৈরি করেছিলেন, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এর পেছনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল কৌশলের সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রেট পিরামিড তৈরির সময় প্রথমে শক্ত চুনাপাথরের ভিত্তি নির্বাচন করা হয়েছিল। এরপর এমনভাবে এর জ্যামিতিক নকশা করা হয়, যাতে চাপ পুরো কাঠামোয় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া রাজার সমাধিকক্ষ বা কিংস চেম্বারের ওপরে কয়েকটি ফাঁকা ঘর তৈরি করা হয়েছিল। এসব ফাঁকা জায়গা ভূমিকম্পের ধাক্কা কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সাধারণত আশপাশের বহু ভবনে বড় ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু ইতিহাসে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও গ্রেট পিরামিডের ভেতর বা বাইরের অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। মিসরের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকসের গবেষকেরা পিরামিডের ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ, পাথরের ব্লক ও আশপাশের মাটি থেকে মোট ৩৭টি স্থানে কম্পনের তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিরামিডের ভেতরের কম্পন ও আশপাশের মাটির কম্পনের গতি এক নয়। এ কারণে ভূমিকম্পের ক্ষতিকর শক্তি পুরোপুরি পিরামিডের মূল কাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, ভূকম্পনের তরঙ্গ ওপরে ওঠার সময় রাজার কক্ষে সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়। তবে ওই কক্ষের ওপরে থাকা পাঁচটি ফাঁকা ঘরে পৌঁছানোর পর কম্পন হঠাৎ কমে যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ফাঁকা জায়গাগুলো বিশেষভাবে সুরক্ষার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অগ্রিম টিকিট না পাওয়া অনেক যাত্রীই শেষ মুহূর্তে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই স্টেশনের বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, আসন না পেলেও ট্রেনে উঠতে পারার সুযোগই তাদের জন্য বড় স্বস্তি। বিশেষ করে বাসের অতিরিক্ত ভাড়া ও সড়কের যানজট এড়াতে দাঁড়িয়ে হলেও ট্রেনকেই তারা বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক মনে করছেন। স্ট্যান্ডিং টিকিট পাওয়া যাত্রী হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, চাপের মধ্যে টিকিট পাওয়া যাবে ভাবিনি, কিন্তু আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছি—এতেই খুশি। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী আরেক যাত্রী রেদোয়ান জানান, ট্রেন ছাড়ার আগে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয় বলে তিনি আগেভাগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন, যদিও তার সামনে আরও শতাধিক মানুষ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীচাপ সামাল দিতে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুমে ট্রেনের স্বল্পতার কারণে চাপ বেশি থাকলেও প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে সক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হলেও বিপুল চাহিদা সামাল দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গাঁজা সেবনের অভিযোগে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামার-২২ সেশনের ছাত্র আলী কারিম এবং স্প্রিং-২৩ সেশনের ছাত্রী খন্দকার মেহরুন নেছা সুবাহ। জানা গেছে, তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫১ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থীর আমন্ত্রণে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুইমিংপুল এলাকায় গাঁজা সেবনের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখতে পেয়ে দায়িত্বরত সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত প্রত্যেককে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে মাদক ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলেও জানানো হয়। শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।