অর্থনীতি

শুল্ক আধুনিকায়ন, করের আওতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন ডিজিটালাইজ করা জরুরি : ড. জাইদী সাত্তার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)-এর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে এবং ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করতে শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়ন, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনকে ডিজিটালাইজ করা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে বাণিজ্য নীতির সামঞ্জস্য বিধান করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেবে, কারণ বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকারগুলো সাধারণত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।

আজ বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস: অ্যান ইকোনমিক রিফর্ম এজেন্ডা ফর দ্য ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে পিআরআই চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

ড. জাইদী সাত্তার ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে গৃহীত সংস্কারগুলোর মতো বর্তমান সময়েও সাহসী ও মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য জরুরি কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যা ১৯৯০-৯১ সালের সংস্কার সময়ের সাথে তুলনীয়, যখন দেশ একটি আরও উন্মুক্ত এবং বাজারমুখী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়েছিল।’

পিআরআই এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিন্টন পোবকে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই’র প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. আশিকুর রহমান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। সমাপনী বক্তব্য দেন পিআরআই পরিচালক ড. আহমদ আহসান।

ড. জাইদী সাত্তার জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

পিআরআই চেয়ারম্যানের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৪ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে এলেও এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে প্রতিফলিত করে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে কোনো সংস্কার ছাড়াই অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫ থেকে ৬ শতাংশে ফিরতে পারে। তবে সময়োপযোগী ও জোরালো কাঠামোগত সংস্কার করা গেলে প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই বাংলাদেশ আর ‘যেমন চলছে তেমন চলবে’ নীতিতে এগোতে পারবে না।

পিআরআই চেয়ারম্যান বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে জাপানের বাজারে বড় ধরনের প্রবেশাধিকার পাবে।

একই সাথে তিনি সতর্ক করেন যে, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভারতের উন্নত বাজার সুবিধা এবং উৎপাদন-ভিত্তিক প্রণোদনা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে থাকায় তিনি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি এফটিএ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. সাত্তার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর গভীর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন জরুরি। 

পরিশেষে পিআরআই চেয়ারম্যান রপ্তানি বহুমুখীকরণের সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক সংস্কারে ৭ দাবিতে গভর্নরের সমর্থন

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ উত্থাপিত সাত দফা দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।   বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রফেসর নুর নবী মানিক। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে গভর্নর বৈঠকের উদ্যোগ নেন।   নুর নবী মানিক জানান, বৈঠকে গভর্নর দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেন। এ সময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে গভর্নরকে ধন্যবাদ জানানো হয়।   তিনি আরও বলেন, আমাদের স্পষ্ট দাবি হলো— যারা আর্থিক অনিয়ম বা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত, তারা কোনোভাবেই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি ব্যাংকের বোর্ড হবে নৈতিক, পেশাদার এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাত দফা দাবির আলোকে নতুন পর্ষদ গঠিত হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক আস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরবে।   ফোরামের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দাবি বাস্তবায়িত হলে তারা সারাদেশে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়ে ব্যাংকের পুনর্গঠন ও অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।   সংগঠনটির সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— স্বাধীন ও যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে শেয়ার মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।   এছাড়া ব্যাংক খাতে অস্থিরতা ও আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন, এবং ব্যাংক সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে ওই সাত দফায়।   বৈঠকের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৭, ২০২৬

শেয়ারবাজারে লেনদেনের সময় দশ মিনিট বাড়লো

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ৭ দফা দাবিতে গভর্নরের ইতিবাচক সাড়া: সচেতন গ্রাহক ফোরাম

৪ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণে পুনঃতফসিল সুবিধা

৭০৪ কোটি টাকার সার ও কাঁচামাল কিনছে সরকার

দেশের কৃষি উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রম সচল রাখতে সার এবং প্রয়োজনীয় শিল্প কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যার আওতায় সার ও শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৭০৪ কোটি টাকারও বেশি।     বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ২৭তম সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।     সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউরিয়া সার আমদানির একটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি’ তাদের স্থানীয় এজেন্ট ‘ইবেদিতা ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে এই সার সরবরাহ করবে।     এছাড়া চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই সার ক্রয়ে সরকারের ব্যয় হবে ১৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩০ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার।     অন্য এক সিদ্ধান্তে, দেশের ট্রিপল সুপার ফসফেট কমপ্লেক্স লিমিটেডের জন্য ১৫ হাজার মেট্রিক টন ‘ব্রাইট ইয়েলো রক সালফার’ আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এই আমদানির ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘ফ্যাবসকো কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। এই চুক্তির মোট মূল্য ১৭১ কোটি ১ লাখ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টন রক সালফারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ মার্কিন ডলার।     সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজকের এই সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট সাতটি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুনে আরও চার কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

সংগৃহীত ছবি

স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব: ট্রাম্পের চুক্তির পর কোন দিকে যাচ্ছে দাম?

ছবি : সংগৃহীত

টাকার বিপরীতে কোন মুদ্রার দাম কত: দেখে নিন আজকের রেট

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রথমবার কৃষি ব্যাংক শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে ইসলামী ব্যাংক

দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) সংগ্রহে দীর্ঘদিনের শীর্ষস্থান হারিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনের হিসাবে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রবাসী আয়। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা ব্যাংকটিকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়েছে।   প্রতিষ্ঠার পর থেকে রেমিট্যান্স আহরণে ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটিকে ঘিরে বিভিন্ন ঘটনা ও গ্রাহকদের উদ্বেগের প্রভাব রেমিট্যান্স প্রবাহেও দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   সম্প্রতি গ্রাহকদের আন্দোলন, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা এবং আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে ব্যাংকটির তদারকির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর পরপরই কিছু গ্রাহক হিসাব বন্ধ করেন এবং প্রবাসীদের একটি অংশও বিকল্প ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন।   তবে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৬২ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১৪৮ কোটি ডলারের তুলনায় বেশি।   এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের চাপ কিছুটা কমেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুরোনো গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন চার্জ মওকুফ করায় সম্প্রতি হিসাব বন্ধ করা অনেক গ্রাহক আবার ফিরে আসতে শুরু করেছেন। তারা নতুন করে আমানতও জমা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।   তবে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি ও এটিএম সেবা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ অবস্থায় গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা।   ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন এক ভিডিও বার্তায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগের মতোই আস্থা রেখে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংককে আরও ২,৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

‘বাজেটে তথ্য ব্যবহারে অপূর্ণতা, ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে’

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে: ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

0 Comments