আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের বিদ্যমান সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের আগেই সব ভোটকেন্দ্রকে ভোটারদের চলাচলের উপযোগী করে প্রস্তুত করতে হবে এবং কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেখানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটকেন্দ্রে বিদ্যমান সিসিটিভি সংযোগ অবশ্যই সচল রাখতে হবে। যেসব কেন্দ্রে এখনো সিসিটিভি সংযোগ নেই, সেসব কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদ বা কর্তৃপক্ষকে অন্তত ভোটের দিনের জন্য সিসিটিভি স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হবে।
এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে সাইক্লোন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত ভোটকেন্দ্রগুলোতে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে সাপের বিষ বা ভেনম উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও বাজারব্যবস্থার অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পটুয়াখালীর এক উদ্যোক্তার গড়ে তোলা সাপের খামারে নিয়মিত ভেনম সংগ্রহ করা হলেও এখনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়নি। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস প্রায় ২৬ বছর ধরে বিষধর সাপ সংরক্ষণ ও ভেনম সংগ্রহের কাজ করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ খামারে বর্তমানে আড়াই শতাধিক বিষধর সাপ রয়েছে। এর মধ্যে কিং কোবরা, রাসেলস ভাইপার, গোখরা, কেউটে, পাইথনসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি খামারটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন পেয়েছে। তবে নিবন্ধন মিললেও সংগৃহীত ভেনম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা বাজারজাতের পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি। উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, খামারটি গড়ে তুলতে তিনি নিজের প্রবাসজীবনের সঞ্চয়, জমি বিক্রি এবং পরিবারের গয়না পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। বর্তমানে অর্থ সংকটে খামারের শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তার দাবি, খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক পাউন্ড ভেনম সংগ্রহ করা সম্ভব, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি টাকা। কিন্তু দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ব্যবস্থা না থাকায় এই মূল্যবান সম্পদ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খামারের কর্মীরাও জানান, আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত বেতন না পেলেও উদ্যোক্তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় ভেনম ব্যবহার করে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন শুরু করা গেলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে দেশীয় ভেনম ব্যবহার করা গেলে চিকিৎসা খাতে বড় অগ্রগতি সম্ভব। তবে এজন্য গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, জৈব নিরাপত্তা এবং সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ শিল্পের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ভাষ্য, খামারটি ভেনম সংগ্রহের অনুমোদন পেলেও নির্ধারিত মান ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে প্রক্রিয়াজাত করার পরই তা ওষুধ শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই এ খাতকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী মানুষের। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি মৌজার বাসিন্দা আব্দুল জলিল ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগম বলেন, নদী তাদের একের পর এক জমি কেড়ে নিয়েছে। এখন শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও ভাঙনের মুখে। তাদের প্রশ্ন, “এই বাড়িটাও ভেঙে গেলে কোথায় যাব, কোথায় থাকব?” উম্মে কুলসুম জানান, প্রায় দুই দশক আগে নদীভাঙনে তাদের অধিকাংশ জমি হারিয়ে যায়। বর্তমানে শুধু বসতভিটাটুকুই রয়েছে। সেটিও নদীতে বিলীন হলে পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। আব্দুল জলিল বলেন, গার্মেন্টসে কর্মরত ছেলের পাঠানো টাকায় কোনোমতে সংসার চলছে। রাতভর ভাঙনের আতঙ্কে ঘুমাতে পারেন না। তার দাবি, বাড়ির সামনে দ্রুত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেগুলোও নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। এতে মসজিদ, মাদরাসা, বিদ্যালয় ও কবরস্থানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের মতো জায়গা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্তের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে স্পট মার্কেট থেকে একসঙ্গে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে এই এলএনজি কেনা হবে। সরকার টু সরকার-জি টু জি চুক্তির আওতায় জ্বালানি বিভাগ এ এলএনজি কিনছে। প্রতি ইউনিট এলএনজির দর দেওয়া হয়েছে ১৭ থেকে ১৯ ডলার। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) এবং পেট্রোবাংলা ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়েছে। এখন সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই প্রস্তাব ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলএনজির দর দিয়েছে। এ দর চূড়ান্ত নয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করা হবে। তারপর তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ক্রয় জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হবে। এদিকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন. মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন এলএনজির দাম চড়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা হয়ে যুদ্ধ বন্ধ হলে এলএনজির বাজার অনেক কমতে পারে। যেমনটা গত মাসে ঘটেছিল। ওই সময়ে ১৮-১৯ ডলারের এলএনজি ১৫-১৬ ডলারে নেমে আসে। দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি হচ্ছে ১০৫ কোটি ঘনফুটের বেশি। জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতি মাসে ১০টির বেশি এলএনজি কার্গো আমদানি করে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ৫ মাসে ৫০টির বেশি এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। এরমধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে ৪টি থেকে ৫টি কার্গো পেতে পারে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, স্পট মার্কেট থেকে একসঙ্গে বেশি করে কিনলে সস্তায় এলএনজি পাওয়া যেতে পারে-এমন চিন্তা থেকে জি-টু-জি নীতিমালার আওতায় বিভন্ন সরবরাহকারীকে প্রস্তাব দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ৫ মাসের বিভিন্ন সময়ে এলএনজি সরবরাহের আগ্রহ দেখিয়ে ভিটল, ইউএসএ, টোটাল এনার্জি, ইউকে, হানবোর ইউএসএ, গানবোর সিঙ্গাপুর, এমিরাতস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, সিঙ্গাপুর প্রাইভেট কোম্পানি, অরচার এনার্জি ও সিকার ইন্টারন্যাশনাল যৌথ কোম্পানি, এডনক ট্রেডিং, আইআরএইচ গ্লোবাল ট্রেডিং ও সরকার ট্রেডিং গত মঙ্গলবার অনলাইনে দরপত্র জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের প্রস্তাবের মূল কপি কুরিয়ায় পেট্রোবাংলার কাছে পাঠানো হয়েছে। ১০ কোম্পানি দর দিয়েছে ১৭ থেকে ১৯ ডলার পর্যন্ত। যদিও স্পট মার্কেটে এখন চলছে প্রতি ইউনিট ২০ ডলারের বেশি। প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে সরকারকে ৬৫০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এ হিসাবে ৩০ কার্গোর জন্য এলএনজি আমদানি করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জি-টু-জির আওতায় ৫ মাসের স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সরবরাহ দিতে ১৮টি কোম্পানির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি সাড়া দিয়েছে। এখন এই ১০ কোম্পানির সঙ্গে তাদের দাম নিয়ে দরকষাকষি করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের একটি পক্ষ এভাবে একসঙ্গে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার পক্ষে নয়। কারণ যুদ্ধ থেমে গেলে এই এলএনজির দাম কমতে পারে। এখন ১০ কোম্পানির সঙ্গে ৫ মাসের জন্য এখনই চুক্তি হয়ে গেছে, পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বেশি দামে কিনতে হবে। তাই শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটি দেখার বিষয়। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় সরকার প্রতি মাসে ৪-৫টি কার্গো এলএনজি কিনছে। সে এলএনজির দাম অনেক কম। সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি থেকে এলএনজি কিনে মাত্র ১৩ দশমিক ৭২ ডলার প্রতি ইউনিটে। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। যুদ্ধের আগে বেশির ভাগ কাতার, ওমান এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি কেনা হতো। যুদ্ধের ফলে কাতার, ওমান এবং এক্সিলারেট এনার্জি ফোর্স শাটডাউন দিয়ে দেয়। এরমধ্যে কাতার এনার্জি কিছুটা সরবরাহ দিলেও বাকিরা এখনো দিতে পারছে না। সম্প্রতি কাতার এনার্জি জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের গ্যাসক্ষেত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই যুদ্ধ বন্ধ হলে আগামী ৫ বছর তারা আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কম দিতে পারবে। চুক্তির আওতায় বাকিরা কবে নাগাদ সরবরাহ শুরু করবে তা এখনো জানায়নি। এ কারণে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে করে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত বছর সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করে। এ বছর এই খরচ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।