ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। আর ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেশটিতে বহুদিন ধরেই সবার পছন্দের তালিকায় হার্শা ভোগলে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হন দু'জন। যেখানে সঞ্চালকের ভূমিকাতে দেখা যায় প্রিন্স অব ক্যালকাটাকে। আবার অতিথি হলেও নানা প্রশ্ন হার্শা করেছেন সৌরভকে। আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটের নানা দিক, নানা উত্থান-পতনের গল্প। 'দ্য ক্যাপ্টেনস কাম' নামের ওই শো-টিতে দু'জনের কথোপকথনের খানিকটা জেনেই নেই।
সৌরভ গাঙ্গুলি: হারশা আমার সাথে আছেন এবং তাকে ধন্যবাদ। আমি এই আড্ডার জন্য মুখিয়ে আছি।
হার্শা ভোগলে: আমি এখানে আসতে পেরে খুব খুশি এবং একই সাথে বেশ উচ্ছ্বসিতও। কারণ, সৌরভের সাথে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। আর আরেকটা বিষয়ে মজা পাচ্ছি কারণ, আমরা এটা এর আগেও অনেকবার করেছি। কিন্তু প্রতিবার আমি থাকতাম ওই দিকে (সঞ্চালকের ভূমিকায়) আর তুমি থাকতে এই দিকে (অতিথি হিসেবে)।
আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের সময় ছিল ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের ওই সময়টা, যখন ভারত খুব অসাধারণ কিছু করছিল। আমার বিশেষভাবে মনে আছে, তুমি এমন এক সময়ে অধিনায়কত্ব পেয়েছিলে যখন খুব অস্থির পরিস্থিতি ছিল। ভারতীয় ক্রিকেট ঘিরে নানা সমস্যা ছিল, বিশ্বাসের অভাব ছিল। হঠাৎ শচিন টেন্ডুলকার নিজে বললেন, আমি আর ক্যাপ্টেন থাকতে চাই না।
আচ্ছা, তুমি কি অধিনায়ক হওয়ার আশা করছিলে?
সৌরভ গাঙ্গুলি: বছরের পর বছর আমার অভিজ্ঞতা এবং তোমার অভিজ্ঞতা থেকে তুমি জানো যে, পরিস্থিতি কেবল অস্থিরতার মধ্যেই বদলায়। যখন সব কিছু ঠিকঠাক থাকে, যথাযথ থাকে, শান্ত থাকে, তখন তুমি পরিবর্তন দেখতে পাও না। আমার অধিনায়কত্ব এসেছিল এক অস্থির সময়ে। শচিন এটা করতে চায়নি। হয়তো সে যদি করতে চাইত, আমি হয়তো কোনোদিনই ভারতের ক্যাপ্টেন হতাম না। আমি কখনও ভাবিনি আমি ভারতকে নেতৃত্ব দেব। ৯৬ সালে আমি ডেবিউ (অভিষেক) করি, তুমি তখন সেখানে ছিলে। তখন সময়টা খুব আলাদা ছিল। ভারতকে তখন অন্যভাবে দেখা হতো। গত ২৯ বছরে অনেক কিছু বদলেছে।
হার্শা ভোগলে: আমি একটা তরুণ ছেলেকে ব্যাট করতে নামতে দেখেছিলাম। এরও ৫ বছর আগে কেউ একজন আমাকে বলেছিল, এই ছেলেটার দিকে নজর রেখো। রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে সে ১২২ রান করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেখান থেকে সেই ছেলেটা, মানে তুমি ভাইস-ক্যাপ্টেন হলে। ভাইস-ক্যাপ্টেন হলে সাধারণত ক্যাপ্টেন্সির লাইনেই থাকা হয়। কিন্তু দূর থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমার যেটা মনে হয়েছিল, ভারতের মানুষ আবার বিশ্বাস ফিরে পেতে চাইছিল। তারা খেলা দেখতে চাইত এবং ভাবতে চাইত যে, 'আমার সব খেলোয়াড় আমার জন্যই খেলছে।'
সৌরভ গাঙ্গুলি: বিশেষ করে ভারতে ক্রিকেট... এটা প্রায় ধর্মের মতো। বর্তমান প্রজন্মে হয়তো অর্থের পরিমাণ অনেক বেড়েছে, কিন্তু আমার প্রজন্মে বা তারও আগে গাভাস্কার-কপিলদের সময়েও এই খেলাটা কেবল একটা খেলার চেয়ে অনেক বড় কিছু ছিল।
যখন ২০০০ সালে আমি ক্যাপ্টেন হলাম, তখন অনেক কিছু ঘটছিল। আমার সাথে সবচেয়ে ভালো যেটা হয়েছিল তা হলো, আমি তখন ল্যাঙ্কাশায়ারে ছিলাম ৬ মাসের জন্য। ভারতে যখন এসব হচ্ছিল, আমি, রাহুল (দ্রাবিড়) কেন্টে, অনিল (কুম্বলে) লেস্টারশায়ারে—আমরা সবাই বাইরে ছিলাম। আমার মনে হয় এটা ২০০০ সালের গ্রীষ্মকাল ছিল। তখন মিডিয়া এখনকার মতো এত দ্রুত ছিল না। কিছু খবর আসত যে তদন্ত হচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদ হচ্ছে। কিন্তু এটা আমাকে বিচলিত করেনি। আমি ক্যাপ্টেন্সি আশা করিনি, কারণ শচিন ক্যাপ্টেন ছিল এবং সে-ই সবসময়ই খুব স্বচ্ছ ইমেজের ছিল। আমি ভাইস-ক্যাপ্টেন হিসেবেই খুশি ছিলাম। কিন্তু যখন আমি প্রথম ক্যাপ্টেন হলাম, বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটা জরুরি ছিল। আর আমি সবচেয়ে ভালো যেটা করেছিলাম, তা হলো আমি পেছন ফিরে তাকাইনি। আমি সামনে তাকাতে চেয়েছিলাম। আমার কাছে বিশ্বাস অর্জনের প্রথম ও প্রধান শর্ত ছিল ম্যাচ জেতা। এমন একটা দল তৈরি করা যারা জিতবে। আমরা একদল দারুণ খেলোয়াড় পেয়েছিলাম। আমি সবসময় বলি, আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমি টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়, কুম্বলে, লক্ষ্মণ, সেহওয়াগদের নেতৃত্ব দিয়েছি। ধোনি পরে এসেছিল যখন আমি প্রতিষ্ঠিত ক্যাপ্টেন। এরা সবাই অবিশ্বাস্য খেলোয়াড় ছিল। কিন্তু ভালো খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তারা খুব ভালো মানুষ ছিল। যাদের সততা ছিল প্রশ্নাতীত। ভারত তাদের কাছে সবার আগে ছিল, তারপর তাদের প্রতিভা। তাই এটা আমার কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিল।
হার্শা ভোগলে: ইয়ান চ্যাপেল আমাকে একটা খুব মজার কথা বলেছিলেন। তিনিও অস্থির সময়ে ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'আমি প্রথমে একটা তালিকা করেছিলাম যে, খেলোয়াড় হিসেবে আমার সাথে কী কী আচরণ করা হলে আমার খারাপ লাগত। এবং আমি ঠিক করেছিলাম, আমি যখন ক্যাপ্টেন হব, তখন অন্যদের সাথে সেই আচরণগুলো করব না।' আমি ৯২ থেকে ৯৬ সালের কথা এইজন্যই আনলাম কারণ ওটা তোমার জন্য খুব সুখকর সময় ছিল না। দলে সুযোগ পাওয়ার পরেও তুমি ৪-৫ বছর বাইরে ছিলে। তোমার মনে কি সেই চিন্তাটা ছিল?
সৌরভ গাঙ্গুলি: ১০০% ছিল। আমি চাইনি কোনো তরুণ খেলোয়াড় সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাক। কারণ এটা তোমার ক্ষমতাকে ৫০% কমিয়ে দেয়। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, যখন আমি কাউকে বেছে নিই, আমি তাকে সফল হওয়ার জন্যই বেছে নিই, ব্যর্থ হওয়ার আশা করি না।
হার্শা ভোগলে: এখানেই একজন নেতার গুরুত্ব বোঝা যায়।
সৌরভ গাঙ্গুলি: আমার কাছে প্রতিযোগিতা মানে হলো আরও ভালো হয়ে ওঠা। এ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিযোগিতা নেই। প্রতিযোগিতা মানে কাউকে নিচে নামানো নয়।
হার্শা ভোগলে: তুমি কি কখনও ভুল করার ভয় পেতে? কারণ লিডাররা তো ভুল করবেই।
সৌরভ গাঙ্গুলি: তুমি যেমন বললে, ৯৯-এর আগে ক্যাপ্টেনরা আসত আর যেত। অনেকে ফ্লাইটে ক্যাপ্টেনসি হারাত। সিরিজ খেলে ফেরার পথে প্লেনে থাকত আর নেমে দেখত তারা আর ক্যাপ্টেন নেই। তো, আমি কি ভুল করার ভয় পেতাম? হ্যাঁ, পেতাম। আমি মানুষ। সবাই মানুষ। সেরা মানুষটিও হয়তো সেটা দেখাবে না, কিন্তু মনে মনে সে জানে যে সে ভুল করতে পারে। কিন্তু আমি ভুল যাতে কম হয়, তার জন্য বাড়তি পরিশ্রম করতাম। এটা একটা ভারসাম্য। টেস্ট ম্যাচে ব্যাট করতে নামার সময় তুমি নার্ভাস থাকো। ৫ নম্বরে ব্যাট করা সবচেয়ে কঠিন, কারণ তুমি জানো ৩ আর ৪ নম্বর ব্যাট করছে আর এরপর তুমি। কিন্তু যখন তুমি মাঠে নামো, গার্ড নাও, প্রথম বলটা যখন তোমার পাশ দিয়ে যায়, তখন জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তুমি নিজেকে এভাবেই তৈরি করো। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, কর্পোরেট হোক বা ক্রিকেট, তোমাকে সফল হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়। তুমি এমনি এমনি মাঠে বা কর্পোরেট অফিসে গিয়ে সফল হতে পারো না।
হার্শা ভোগলে: কেউ কীভাবে সফল হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে পারে?
সৌরভ গাঙ্গুলি: সফল হওয়ার একটাই উপায়, একই জিনিস বারবার করা। এর কোনো শর্টকাট নেই।
হার্শা ভোগলে: মাঠে তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং ভুল হলে তার দায়ভারও নিতে হয়। তুমি শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নিতে কীভাবে?
সৌরভ গাঙ্গুলি: তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তুমি শান্ত থাকো বা রাগী। মাঠে আমাকে জার্সি ওড়াতে বা ঝগড়া করতে দেখেছ, কিন্তু ভেতর থেকে আমি খুব শান্ত মানুষ। আমাকে তুমি কোনো ঘরের কোণে বসে নিজের কাজ করতে দেখবে, কোনো আওয়াজ নেই। এটাই আমার স্বভাব। কিন্তু ক্যাপ্টেন হিসেবে সবচেয়ে জরুরি হলো সিদ্ধান্ত নিতে ভয় না পাওয়া। এবং সেই সিদ্ধান্ত সবসময় প্রগতিশীল হতে হবে, সমর্থনের হতে হবে। এমন সময় আসে যখন কাউকে বাদ দিতে হয়। যেমন ২০০১ সালে মোহালিতে আমি সেহওয়াগকে বলেছিলাম, 'তুমি ফাস্ট বোলিং খেলার জন্য এখনও তৈরি নও। তুমি ফিরে যাও, খেলো এবং ফিরে এসো।' সে ফিরে এসেছিল একজন অন্য খেলোয়াড় হিসেবে। সততা খুব জরুরি। নেতৃত্ব মানে শুধু কাউকে ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং কাউকে তৈরি করা। এটাই একজন নেতার সবচেয়ে বড় ভূমিকা। জীবন বা খেলার যেকোনো পর্যায়ে, সৃষ্টি করাটাই আসল। ক্যাপ্টেন হিসেবে সবচেয়ে জরুরি হলো, পরিস্থিতি যেন হাতের বাইরে না চলে যায়।
হার্শা ভোগলে: এটা কি সত্য যে যখন তুমি শান্ত থাকো তখন তোমার মন ভালো কাজ করে? আর রেগে গেলে মন কাজ করে না?
সৌরভ গাঙ্গুলি: হ্যাঁ, কারণ রেগে গেলে ভুলভাল চিন্তা আসে। আর শান্ত থাকলে তুমি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাও।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে। রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা। বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।
সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে সান্তোসের হয়ে ইকুয়েডরের ক্লাব মাকারার বিপক্ষে গোল পাননি নেইমার। তবে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। তার করা দুই অ্যাসিস্টেই দুটি গোল পেয়েছে সান্তোস। তাতেই পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোল ব্যবধানে জিতেছে তারা। দুই গোলে অবদান রাখলেও বেশ সমালোচিত হয়েছেন নেইমার। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি ভুল পাস দেন নেইমার। এরপর গ্যালারি থেকে দুয়োও শুনেছেন। এমতাবস্থায় দলকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ম্যাচ শেষে ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘সেসময় আমরা এক গোলে পিছিয়ে ছিলাম। সমর্থকদের কষ্টের বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে স্টেডিয়ামে না এসে বাড়িতে বসে থাকা ভালো। তিনি বলেন, তখন আমি সেই সমর্থককে বলেছিলাম সমালোচনা নয়, আমাদের সমর্থন করুন। কেননা খেলা শেষ হতে তখনও ৬০ মিনিট বাকি ছিল। দলকে উৎসাহ দিন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার পরই থামতে হলো তানজিদ হাসান তামিমকে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর নাথান লায়নের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে বিদায়ের আগে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ লিড। নাথান লায়নের হাওয়ায় ভাসানো বলে লং অফের ওপর দিয়ে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন তানজিদ। কিন্তু টাইমিং ঠিক হয়নি। লং অফে থাকা মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০১ রানে থামেন তিনি। তাতেই শেষ হয় ১৮৮ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় সাজানো তার দুর্দান্ত ইনিংস। এর আগে লায়নের অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বল বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ করে লং অফে পাঠিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরান করার ইতিহাসও গড়েন তিনি। তানজিদের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৬ ওভারে ২৩৩ রান, ৩ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৩৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদের জায়গায় উইকেটে এসেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। এর আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ফিফটি পূর্ণ করেন। ৭৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতকের দেখা পান তিনি।