আন্তর্জাতিক

শিগগিরই থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আশাবাদ

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫

দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হলে শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ শুরু করতে চায় থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এমন আশাবাদের কথা জানিয়েছেন দেশটির শ্রমমন্ত্রী ত্রিনুচ থিয়েনথং।

 

বৈঠকে থাই শ্রমমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক এমওইউ সম্পন্ন হলে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি থাইল্যান্ডের চলমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

 

 

এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফয়েজ মুর্শিদ কাজী জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত পদ্ধতিতে থাইল্যান্ডে কর্মী পাঠাতে প্রস্তুত। তিনি শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের বিদ্যমান সিস্টেম ও প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখতে সংশ্লিষ্ট থাই কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

রাষ্ট্রদূত কাজী থাই শ্রমমন্ত্রীকে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে হওয়া আলোচনা, বিশেষ করে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠকের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য বড় শ্রম গন্তব্য দেশের উত্তম চর্চা অনুসরণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

বৈঠকে থাই শ্রমমন্ত্রী তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে সম্ভাব্য এমওইউ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।

 

এদিকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত কাজী।

 

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক ধরে থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চললেও সম্প্রতি দেশটির সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বিপুল সংখ্যক কম্বোডিয়ান শ্রমিক ফিরে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গতি পেয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কিউবার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার ক্যারিবিয়ান সাগরে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রণতরীটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস নিমিৎজের সঙ্গে রয়েছে ক্যারিয়ার এয়ার উইং-১৭, যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রিডলি এবং সরবরাহ জাহাজ ইউএসএনএস প্যাটাক্সেন্ট। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, কৌশলগত সক্ষমতা ও সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ান প্রণালি থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইউএসএস নিমিৎজ।   ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার সঙ্গে গত শতকের ষাটের দশক থেকেই বিরোধ চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিভিন্ন সময়ে কিউবার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালালেও তা সফল হয়নি।   ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দুই মাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিউবা রাশিয়া ও ইরান থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ড্রোন গুয়ান্তানামো উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটি এবং ফ্লোরিডা উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   এই প্রতিবেদনের পর কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি-২ এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিউবার কয়েকজন মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা এবং কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রয়েছে।   এছাড়া কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দেশটির বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

আক্তারুজ্জামান মে ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ

ছবি: সংগৃহীত

শিশু নিরাপত্তা আইন না মানায় অস্ট্রেলিয়ায় এক্সকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসায়ও বাধ্যতামূলক করা হল ‘বন্দে মাতরম’

ছবি : সংগৃহীত
অর্ধেক কাজ শেষ, হরমুজের বিকল্প তৈরিতে মরিয়া আমিরাত

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পশ্চিম উপকূল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত নির্মাণাধীন নতুন কৌশলগত তেল পাইপলাইন প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।   এখন দেশটি জ্বালানি রপ্তানি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরে তেল পৌঁছাতেই এই প্রচেষ্টা দেশটির।    আমিরাতের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ আল জাবের জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণকাজ আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক লাইভস্ট্রিম অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।   আল জাবের বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই এটি চালু করতে আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করছি।’   হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নির্দেশনার পর কাজের গতি আরও বাড়ানো হয়। সম্প্রতি এডিএনওসি বোর্ডের নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকেও দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।   আল জাবের বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এখনও অল্প কয়েকটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক রুট বা চোকপয়েন্টের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’   নতুন পাইপলাইনটি ওমান উপসাগরীয় উপকূলের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ২০২৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে ফুজাইরাহর মাধ্যমে এডিএনওসি-র তেল রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।   বর্তমানে ‘হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন’ নামে পরিচিত বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই বিকল্প রুটের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে শিশুসহ ২১ জন নিহত

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে কোনো ছাড় নেই: ট্রাম্প

রাউল কাস্ত্রো। ছবি: সংগৃহীত

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত
প্যাট্রিস লুমুম্বা হত্যাকাণ্ডের শেষ জীবিত সন্দেহভাজন মৃত্যুবরণ করলেন

কঙ্গোর স্বাধীনতার নায়ক দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার হত্যাকাণ্ডের প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগেই মারা গেছেন।   সাড়ে ছয় দশকের বেশি আগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা এ ব্যক্তি হলেন সাবেক বেলজিয়ান কূটনীতিক এতিয়েন দাভিগনন।   ৯৩ বছর বয়সি এতিয়েন দাভিগনন সোমবার মারা যান বলে খবর দিযেছে রয়টার্স।   ‘জ্যাক ডেলরস ইনস্টিটিউটের’ বরাতে বার্তা সংস্থাটি বলেছে, এ নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে ছিলেন বেলজিয়ামের শীর্ষস্থানীয় সাবেক কূটনীতিক দাভিগনন। দেশটির এই শিল্পপতি ইউরোপীয় কমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন।   লুমুম্বার দুই রাজনৈতিক মিত্র মরিস ম্পোলো ও জোসেফ ওকিতোকে হত্যার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ দাভিগননের বিরুদ্ধে ছিল। তিনি কোনো ধরনের অপরাধ অস্বীকার করেছিলেন এবং মৃত্যুর সময় বিচারের জন্য তাকে পাঠানোর নির্দেশের বিরুদ্ধে করা একটি আপিলের রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন।   কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রামের এ নায়ককে বেলজিয়াম ও পশ্চিমা শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় এক অভূত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করার অভিযোগ সেই সময় থেকে।   লুমুম্বাকে আটকের পর চরম নির্যাতন শেষে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অভিযানটি সরাসরি বেলজিয়ানদের দ্বারা পরিচালিত ও নির্দেশিত হয়েছিল ব্রাসেলসের নির্দেশে বলে বিভিন্ন নথিতে এসেছে।   আটকের পর ১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি, লুমুম্বা, মরিস এমপোলো এবং জোসেফ ওকিটোকে একটি বেলজিয়ান ক্রু চালিত বিমানে করে কাতাঙ্গায় নেওয়া হয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।   এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বলেছেন, এরপর কাতাঙ্গার নেতা মোইজ শম্বেসহ অন্যান্য কাতাঙ্গীয় নেতা ও বেলজিয়ানদের দ্বারা তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। সেই সন্ধ্যায় একটি বেলজিয়ান অফিসারের নেতৃত্বে সৈন্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করে।   তৎকালীন কাতাঙ্গীয় জাতীয় পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে থাকা বেলজিয়ান পুলিশ কমিশনার জেরার্ড সোয়েটের সাক্ষ্য অনুসারে, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের পর সেই স্থান থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং একটি বনভূমির সাভানার মাঝে উইঢিবির পিছনে মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।   বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটি বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের মত পশ্চিমা শক্তির ষড়যন্ত্রের মুখে পরে।   বিশ শতকের আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১৫ বছর আগে দায়ের করা একটি মামলায় তদন্তাধীন শেষ জীবিত ব্যক্তি ছিলেন দাভিগনন। তার আগের ১০ আসামিও মারা গেছেন। আদালত রায়ে বলেছে, অন্যান্য সন্দেহভাজনদের মৃত্যুর পর তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আর চালু থাকবে না।   চলতি বছর তার বিরুদ্ধে ৬৫ বছর আগে আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী নেতা ও কঙ্গোর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া লুমুব্বার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মাধ্যমে ২০ শতকের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ওই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ওপর আলোকপাত করার আরেকটি চেষ্টা করা হয়।   ১৯৬০ সালে বেলজিয়ামের কাছ থেকে কঙ্গোর স্বাধীনতা লাভের পর লুমুম্বা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। বছর না ঘুরতেই এই মুক্তি সংগ্রামীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ১৯৬১ সালের ১৬ জানুয়ারি বেলজিয়ামসমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের মাধ্যমে তাকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে।   এ হত্যাকাণ্ডকে বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় এবং আফ্রিকান দেশগুলোর মুক্তি সংগ্রামের একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   লুমুব্বা হত্যাকাণ্ডের বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলীরা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আগে লুমুম্বাকে বেআইনিভাবে আটক বা স্থানান্তরে অংশ নিয়েছিলেন সেই সময়ের তরুণ কূটনীতিক এতিয়েন দাভিগনন। তাকে একটি নিরপেক্ষ বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন।   দাভিগননের মৃত্যুর খবরে লুমুম্বার পরিবার বলেছে, মামলাটি বিচারের যোগ্য ছিল বলে কৌঁসুলী ও ট্রাইব্যুনাল যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল তা এখন রেকর্ডের বিষয় হয়ে থাকবে।   সর্বশেষ জীবিত অভিযুক্তের মৃত্যু ঐতিহাসিক রেকর্ডের সমাপ্তি টানে না।   তাদের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা বেলজিয়াম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেওয়ানি অভিযোগের মতো আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   রয়টার্স লিখেছে, কঙ্গোতে তার দায়িত্ব পালনের পর দাভিগনন বেলজিয়ামের প্রশাসনে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী পল হেনরি স্পাকের মন্ত্রিপরিষদ প্রধান এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশটির এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর পর্ষদে ও বেশ কয়েকটি পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ১৬

ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি, ইরানের পুলিশের হাতে আটক ২

ছবি : সংগৃহীত

বারাকাহ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা কুয়েতের

0 Comments