যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়ায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, চুক্তির সম্ভাবনায় তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম আরও কতটা কমবে তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদনকারী দেশগুলো কত দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক করতে পারে এবং আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা কতটা এগোয় তার ওপর।
এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি জানিয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তারা দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে প্রস্তুত।
সূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে। ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক। তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার। এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া। গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ। ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে রবিবার ১২টি বি-১বি বোমারু বিমান উড্ডয়ন করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছে। এর মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ঘাঁটির ভূমিকা আকস্মিকভাবে শেষ হলো। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ইউরোপে ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার একমাত্র ঘাঁটি। একই সঙ্গে বিদেশে মোতায়েন করা বোমারু বিমানগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ঘাঁটিটিকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ‘সন্ত্রাসবাদের’ সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের সবাইকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় সর্বশেষ মঙ্গলবার আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনিও ব্রিটিশ নাগরিক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানান, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ‘কিছু হুমকি’ ছিল এবং তিনি মনে করেন, এসব হুমকির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সে কারণেই বিমানগুলোকে ‘কিছুটা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে খুব বেশি দূরে নয়’। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কথিত হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে বোমারু বিমান সরানোর সরাসরি যোগসূত্রকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, বোমারু বিমানের এক ঘাঁটি থেকে অন্য ঘাঁটিতে নিয়মিত রোটেশন বা স্থানবদল অস্বাভাবিক নয় এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি আস্থাশীল। ফেয়ারফোর্ডে কী ঘটেছিল? ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ ফেয়ারফোর্ডের কাছে বিস্ফোরক স্থাপনের পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এক দিন পর তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা তাদের ব্যবহৃত ভ্যানগুলোতে পেট্রল পেলেও কোনও বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি। তবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলছে। এরপর বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রের সন্দেহ ছিল। তাকেও ৩ অক্টোবর জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার ২২ বছর বয়সী আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, কথিত এই ষড়যন্ত্রে ইরানের ‘ভূমিকা’ থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। ইরান অবশ্য এমন কোনও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গ্রেফতারের প্রতিবাদে তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কী ধরনের বোমারু বিমান আছে? বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনী তিন ধরনের কৌশলগত বোমারু বিমান পরিচালনা করছে। চতুর্থ একটি মডেল- বি-২১ রাইডার-এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে পুরোনো সক্রিয় বোমারু বিমান হলো বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস। বর্তমানে ব্যবহৃত বি-৫২এইচ মডেলটি মূলত ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে নির্মিত। বিমানটির ডানার বিস্তার প্রায় ৫৬ মিটার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোমারু বিমান এবং প্রায় ৩১ টন অস্ত্র বহন করতে পারে। এর অস্ত্রভান্ডারে পারমাণবিক বোমার পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও থাকতে পারে। বি-৫২-এর দীর্ঘ পাল্লা এবং বিপুল অস্ত্র বহনের সক্ষমতার কারণে কয়েক দশক ধরে এটি মার্কিন কৌশলগত বিমানশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বি-১বি ল্যান্সার ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি মার্কিন বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়া বি-১বি ল্যান্সার তিন ধরনের সক্রিয় বোমারু বিমানের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী। এটি শব্দের গতির ১ দশমিক ২ গুণ পর্যন্ত গতিতে উড়তে পারে। এর ডানা প্রয়োজন অনুযায়ী পেছনের দিকে ভাঁজ হয়ে যায়, যা উচ্চগতিতে উড্ডয়নে সহায়তা করে। বি-১বি প্রায় ৩৪ টন প্রচলিত অস্ত্র বহন করতে পারে- যা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রচলিত অস্ত্র বহনক্ষমতা। তবে বর্তমানে এটি আর পারমাণবিক অস্ত্র বহন করে না। ফেয়ারফোর্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া ১২টি বিমানই ছিল বি-১বি। বি-২ স্পিরিট বি-২ স্পিরিট হলো স্টেলথ বা রাডারে শনাক্ত করা কঠিন এমন প্রযুক্তিতে তৈরি বোমারু বিমান। এর নকশা অনেকটা উড়ন্ত ডানার মতো, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের মাত্র ২০টি বিমান নির্মিত হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ১৯টি সক্রিয় রয়েছে। বি-২ প্রচলিত ও পারমাণবিক- দুই ধরনের অস্ত্রই বহন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি ওজনের বিশাল ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলায় এই ধরনের বোমা ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। বি-২১ রাইডার মার্কিন বিমানবাহিনীর নতুন প্রজন্মের স্টেলথ বোমারু বিমান হলো বি-২১ রাইডার। এটি বি-২-এর তুলনায় ছোট এবং বর্তমানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রথম বি-২১ দক্ষিণ ডাকোটার এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন হওয়ার কথা। আগামী দেড় দশকে মার্কিন বিমানবাহিনী ধীরে ধীরে বি-১বি ও বি-২ বহর সরিয়ে বি-২১ এবং আধুনিকায়িত বি-৫২-এর ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানগুলো কোথায় থাকে? মার্কিন সব বোমারু বিমানের স্থায়ী ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডেই। বর্তমানে পাঁচটি প্রধান ঘাঁটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। • বি-৫২এইচ: বার্কসডেল বিমানঘাঁটি, লুইজিয়ানা; মিনট বিমানঘাঁটি, নর্থ ডাকোটা • বি-১বি: ডাইস বিমানঘাঁটি, টেক্সাস; এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটি, সাউথ ডাকোটা • বি-২: হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি, মিসৌরি • বি-২১: ২০২৭ সালে এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা এসব ঘাঁটির রানওয়ে দীর্ঘ ও প্রশস্ত। সাধারণত এগুলোর দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ফুট বা প্রায় ৩ হাজার ৪৮ মিটারের বেশি। অর্থাৎ বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের মতোই দীর্ঘ এসব রানওয়ে। তবে বোমারু বিমান কোথায় পরিচালনা করা যাবে, তা শুধু রানওয়ের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে না। নিরাপত্তা, অস্ত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং বিমান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কোথায় মোতায়েন থাকে মার্কিন বোমারু বিমান? স্থায়ী ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রে হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী মার্কিন বিমানবাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন মিত্র দেশের ঘাঁটিতে সাময়িকভাবে বোমারু বিমান মোতায়েন করে। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য এসব বিমান সেখানে অবস্থান করে। এই কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বোম্বার টাস্ক ফোর্স’ মোতায়েন বলে। বিদেশে বোমারু বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়ামের অ্যান্ডারসেন বিমানঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের মোরন বিমানঘাঁটিতে বি-৫২, নরওয়ের অরল্যান্ড এবং জাপানের মিসাওয়া ঘাঁটিতে বি-১বি মোতায়েন করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে টিন্ডাল বিমানঘাঁটিতেও বি-৫২ মোতায়েন করা হয়েছে; সেগুলো সেপ্টেম্বরে সেখানে পৌঁছায়। এ ধরনের মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি থেকে দ্রুত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি হামলা চালানোও সম্ভব মার্কিন বোমারু বিমানকে বিদেশি ঘাঁটিতে স্থায়ীভাবে রাখতেই হবে- এমন নয়। আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেও দীর্ঘপথের অভিযান পরিচালনা করতে পারে এসব বিমান। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে এমন দীর্ঘপাল্লার অভিযানের নজির দেখা গেছে। এসব অভিযানে বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় যেতে এবং আবার ফিরে আসতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। একটি মিশনে তিনটি বোমারু বিমানের জন্য পথিমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করতে ছয় থেকে নয়টি ট্যাংকার বিমান প্রয়োজন হয়েছে। ফলে মার্কিন বোমারু বিমানশক্তির মূল বৈশিষ্ট্য শুধু বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘাঁটি স্থাপন নয়; বরং দীর্ঘপাল্লার উড্ডয়ন, আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা এবং মিত্রদেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দূরের অঞ্চলেও দ্রুত সামরিক শক্তি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা। ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১বি বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার স্থায়ী ঘাঁটি না থাকলেও, প্রয়োজন হলে মিত্রদেশগুলোর বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই এসব বিমান অভিযান পরিচালনা করতে পারে। ফলে ফেয়ারফোর্ডের ভূমিকা শেষ হওয়া মানেই ওই অঞ্চলে মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু সক্ষমতার সমাপ্তি নয়। সূত্র: আল-জাজিরা
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। হুতিদের অব্যাহত হামলার মুখে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার ইউরোপ সফরে রওনা হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও এসব কথা বলেন। তার সফরে আইসল্যান্ড, গ্রিস ও পর্তুগাল রয়েছে। রুবিও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। ওয়াশিংটন সেই চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, হুতিদের অব্যাহত হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আগের সংঘর্ষে হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে লড়াই বেড়েছে। এই জলপথের কাছাকাছি এলাকায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনী। রুবিওর ভাষ্য, স্থানীয়ভাবে যে পাল্টা অভিযান চলছে, সেটি প্রত্যাশিত ঘটনা। বর্তমানে ইয়েমেনে যা ঘটছে, তা হুতিদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি নতুন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানা পুনর্দখল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের লক্ষ্য। হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে সানা নিয়ন্ত্রণ করছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো সোমবার জানিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ধুবাব জেলা এবং আরও কয়েকটি কৌশলগত অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।