সুদানের প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জন্য প্রস্তাবিত একটি শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি ও বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়ে পরিষদের ‘ইতিহাসের সঠিক দিকে’ দাঁড়ানো উচিত।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী পশ্চিম এবং দক্ষিণের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর আধাসামরিক বাহিনীর সাথে লড়াই চলছে। যার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস বলেন, ‘আমাদের একটি সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে, যা জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আরব লীগ কর্তৃক যৌথ তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের দখলকৃত সব এলাকা থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।’
ইদ্রিস ‘আন্তঃ-সুদানী সংলাপ’ শুরু করার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পরে অবাধ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করেন।
তবে, জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেন, সুদানী প্রধানমন্ত্রী কখনো জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে দেখা করেননি।
গত নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত শেষ করতে সহায়তার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশ— মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (কায়াড)-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর তদারকি ক্ষমতা মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি এবং আলোচিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তুও এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে মার্কি প্রেসিডেন্ট ভাইস জ্যাডি ভ্যান্স বলেছিলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল ভিত্তি হবে যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা এবং সেখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। আইএইএর পরিদর্শকরাও ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অংশ ছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবামার আমলে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পরিদর্শন মেনে নিয়েছিল। বিনিময়ে দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা হয়। তবে ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে চুক্তিটি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আইএইএর কিছু কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, সংস্থাটির কিছু কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অবিশ্বাসের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে। পরিদর্শকের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। যদিও পরমাণু চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা ছিল, বাস্তবে প্রযুক্তিগত মতবিরোধ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং অধিকাংশ বিরোধের সমাধান হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করতে শুরু করে এবং আইএইএর ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে। এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও শীতল হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে সংঘাতজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গ্রোসি যথাযথ গুরুত্ব দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও সেটি বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইএইএ ও ইরানের পারস্পরিক আস্থার সংকট। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের দায়িত্ব যদি আবারও আইএইএর ওপর ন্যস্ত হয়, তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান অবিশ্বাস নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে আইএইএর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক কতটা কার্যকর ও সহযোগিতামূলক থাকে তার ওপর। সূত্র : সিএনএন
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের আগমন এমন এক সময়ে ঘটল যখন তার খামখেয়ালি ভূরাজনৈতিক আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কারণে বিশ্বনেতারা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও ফ্রান্সের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি এই পরিবেশকে কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ন্যাটো জোট ও সামরিক সহায়তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া এবং রাজনৈতিক বিভাজন উস্কে দেওয়ার চেষ্টা জোটের মিত্রদের মধ্যে গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে। সোমবার (১৫ জুন) ফ্রান্সে পৌঁছানোর পরপরই সম্মেলনের আয়োজক ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি গত রবিবার ঘোষিত ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রশংসা করে বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে তার এই দীর্ঘদিনের শত্রুর সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যে এখন অনেক ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে বড় কথা আজ তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শেয়ার বাজার রকেটের মতো তরতর করে ওপরে উঠছে।’ তিনি আরও দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিটি সমগ্র বিশ্বের জন্য অনেক বড় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে জি-৭ জোটের কয়েকজন সদস্য দেশ আগে থেকেই ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে আসছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ শুরুর আগে কোনো ধরনের পরামর্শ না করায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। জবাবে ট্রাম্পও মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার জন্য ন্যাটো মিত্রদের অলসতার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান যাতে কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি যৌথভাবে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন যে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইতিমধ্যেই কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত শুরু করে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমি মনে করি না আমাদের এখানে খুব বেশি সাহায্যের প্রয়োজন হবে’ কারণ হরমুজ প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে তিনি ফরাসি নেতাকে আরও বলেন যে এই নৌপথে কয়েকটি দেশের একটি বা দুটি যুদ্ধজাহাজ থাকা কোনো খারাপ ধারণা নয় এবং ফ্রান্স এই কাজের জন্য একটি চমৎকার দেশ হতে পারে। ইরান সংকট সমাধানের পর ট্রাম্প এখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধ এবং লেবাননের সশস্ত্র সংঘাত অবসানের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে গত পরশুদিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ফোনালাপ হয়েছে এবং দুই নেতাই শান্তি আলোচনার বিষয়ে বেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই জি-৭ সম্মেলনেই ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে একটি যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। মূলত পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের পরোয়ানা থাকায় এবং ফ্রান্স এই আদালতের সদস্য হওয়ায় পুতিন সেখানে গেলে প্যারিস তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য থাকত, যদিও আমেরিকা ও রাশিয়া উভয় দেশই এই আদালতের বিরোধিতা করে। বুধবার (১৭ জুন) পর্যন্ত চলতে থাকা এই জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা কেবল পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব নিয়েই আলোচনা করবেন না, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে সাধারণ ঐক্যমতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া দৈনন্দিন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত বিরল খনিজ উপাদানের বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টিও এই সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) খুবই সংক্ষিপ্ত, মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি নথি। এতে মূলত যুদ্ধ বন্ধ ও ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিস্তারিত বিষয়গুলো পরবর্তী প্রযুক্তিগত আলোচনায় ঠিক হবে। ভ্যান্স জানান, চুক্তিতে ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে পারে, সে বিষয়েও একটি যাচাইযোগ্য অঙ্গীকার থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। একই দিন থেকে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। চুক্তির আওতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালাবে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েল তাদের নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা উত্তেজনা কমানোর একটি পদক্ষেপ হলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের গভীর অবিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে।