বিশ্ব

মাদুরোর পদত্যাগই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’: ট্রাম্প

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ 0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর জন্য পদত্যাগ করাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’। ভেনিজুয়েলার তেল রফতানি ঘিরে দেশটির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্পের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান মাদুরো। এদিকে মাদুরো সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সোমবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মাদুরো পদ ছাড়বেন কি না, তা তার নিজের সিদ্ধান্ত। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, সেটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’

তিনি আরো হুঁশিয়ারি দেন যে, মাদুরো যদি কঠোর অবস্থান নেন, তবে, সেটাই হবে তার শেষবারের মত কঠোর পদক্ষেপ।’

তবে, এর কয়েক ঘণ্টা পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান মাদুরো। তিনি বলেন, হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত ট্রাম্পের। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে মাদুরো বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নিজের দেশের দিকেই মন দিলে তিনি ভালো করতেন। বিশ্বে ভালো থাকতে চাইলে নিজের দেশের কাজই সামলানো উচিত।’

এদিকে, ভেনিজুয়েলার প্রধান মিত্র রাশিয়া মাদুরো সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে থাকা মস্কো এই অবস্থান নেয় মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগের দিন। ওই বৈঠকে ভেনিজুয়েলার ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে কথিত মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলা ও দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা রোববার এএফপিকে জানান, তৃতীয় একটি জাহাজের পেছনে ধাওয়া চলছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সের্গেই লাভরভ ও ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিলের মধ্যে আলোচনায় ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি রাশিয়া পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে, এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এসব অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে জেলেরাও ছিলেন বলে পরিবার ও বিভিন্ন সরকার জানিয়েছে।

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ ট্রাম্প ভেনিজুয়ায় যাতায়াতকারী ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের’ বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, মাদুরোর অধীনে কারাকাস তেলের অর্থ ব্যবহার করছে ‘মাদক সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণে’ অর্থ যোগাতে। তিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সব তেল নিয়ে নিয়েছে’। এটি দেশটির তেল খাত জাতীয়করণের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেটা ফেরত চাই।’

এর জবাবে কারাকাস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ওয়াশিংটন সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’র অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে ভেনিজুয়েলা।

রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসংঘে, উভয় দেশ সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। ভেনিজুয়েলার আরেক মিত্র চীনও নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার অভিযোগ, এটি ‘চলমান মার্কিন আগ্রাসন’ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজন।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল জানান, তিনি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্যারিবীয় অঞ্চলে সংঘটিত ‘আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজে হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চালানো বেআইনি জলদস্যুতা কার্যক্রম।

গিল বলেন, এসব বৈরী তৎপরতার মুখে মস্কোর ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন লাভরভ।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কারাকাসের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থনকে গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়বে—এ নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন নয়। কারণ, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার ‘অত্যন্ত ব্যস্ত পরিস্থিতে রয়েছে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো সমাধান না হওয়ায় মস্কোর প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাদুরোর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পড়ে শোনান গিল। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানির সরবরাহে প্রভাব ফেলবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
শিশু নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে প্রশাসনকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালেন নারী

শিশু নিখোঁজের অভিযোগে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। পুলিশ, দমকল বাহিনী ও প্রশাসনের টানা তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য; ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও নোংরা ড্রেন পরিষ্কার করাতেই এই নাটক সাজিয়েছিলেন স্থানীয় এক নারী। খবর ডিএইচ ডেকান হেরাল্ডের।   উত্তরপ্রদেশের মিরাট শহরের একটি এলাকায় ওই নারী দাবি করেন, খোলা ড্রেনে একটি শিশু পড়ে গেছে এবং ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে দমকল বাহিনী ও খননযন্ত্র এনে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ড্রেন খুঁড়েও কোনো শিশুর সন্ধান মেলেনি। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত করা হয়; কোনো শিশুই নিখোঁজ নেই। তদন্তে উঠে আসে, ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী। প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মৌখিকভাবে ড্রেন পরিষ্কারের দাবি ছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। শিশু নিখোঁজের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদিকে প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে জনস্বার্থের অজুহাতে ভুয়া আতঙ্ক ছড়ানোর নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করছেন, ‘কাজ আদায়ের এটাই বোধহয় সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভুয়া অভিযোগ জরুরি পরিষেবাকে বিভ্রান্ত করে এবং প্রকৃত বিপদের সময় বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি সময়, শ্রম ও অর্থেরও অপচয় হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : রয়টার্স

জাতীয় সরকার নয়, এককভাবেই ক্ষমতায় যাবে বিএনপি : তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি : সংগৃহীত
নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া

অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া শুক্রবার একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং নতুন সামরিক প্রশিক্ষণ স্থাপনা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে। জাকার্তা থেকে এএফপি জানায়, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একজন জ্যেষ্ঠ ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হবে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি বলেন, যৌথ মহড়া পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে সামরিক প্রশিক্ষণ স্থাপনা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তা দেবে। এশিয়াুপ্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ক্যানবেরা তার সামরিক সক্ষমতা জোরদারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া তার পররাষ্ট্রনীতিতে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে, কারণ দেশটি কোনো পক্ষ নেওয়ার মাধ্যমে তার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে চায় না। আলবানিজ এই চুক্তিকে ‘আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক সীমান্তগুলোর একটি রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদার করে তুলেছে। তবে আজ আমরা শুধু অংশীদার নই, আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, নতুন এই চুক্তি ‘সুপ্রতিবেশী নীতি’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই চুক্তি আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে।’ আলবানিজ বর্তমানে তার পঞ্চম সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন, যা শনিবার শেষ হওয়ার কথা। এর আগে তিনি এই চুক্তিকে ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি বড় সম্প্রসারণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের প্রশংসা করেন। বিতর্কিত এশিয়াুপ্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার করে ২০২৪ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই নতুন এই চুক্তি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের সেই চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস পর পূর্ব জাভায় হাজার হাজার ইন্দোনেশীয় ও অস্ট্রেলীয় সেনা যৌথ মহড়া পরিচালনা করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩০

ছবি : সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ায় মানবিক সহায়তা প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দেবে জাতিসংঘ

ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার ইরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।   একই দিনে ওমানের মাস্কাটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বৈঠক হয়। গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের সংঘাতের পর এটি দুই দেশের প্রথম সরাসরি আলোচনা। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, নতুন কোনো চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা আছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’ নিশ্চিত করতে চায় এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসের দাবি জানাচ্ছে। আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়ও উঠতে পারে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষায় প্রস্তুত, তবে কূটনৈতিক পথও বন্ধ করতে চায় না। চীন তেহরানের অবস্থান সমর্থনের কথা জানিয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের আশপাশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0

বেলুচিস্তানে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা

পাকিস্তানে বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের অংশগ্রহণে সামরিক মহড়া

ছবি : সংগৃহীত

সেভেন সিস্টার্স রাজ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

0 Comments