চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর জের ধরে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থীর করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্টে।
এর প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবন-১ এ তালা ঝুলিয়ে মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ৩ ঘণ্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের অবরোধ প্রত্যাহার করে প্রশাসনের ভবন ঘেরাও করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে দুপুর থেকে রাত রাত ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরসহ ভবনে কর্মরত কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকে বসছেন। নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপিপন্থি ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন। এ সময় ‘দালাল, দালাল, ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে শিক্ষকের পেছন-পেছন গিয়ে একটি দোকানে নিয়ে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতারা। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে রিট করা শিক্ষার্থী ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের একাংশ, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এদিকে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।’
অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসব। পরে আমাদের সিদ্ধান্ত জানান।
এদিকে, সোমবার দুপুরে শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপিপন্থি ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় অন্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করেন তিনি।
অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে ওঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো, নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এখন নির্বাচন বন্ধে তাহলে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে।
সবশেষে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি বলেন, ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। তিনি ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি দেন নাই। গত ৫ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকরা জানি না। আমরা আশা করছিলাম উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়োর হাসান শিশির বলেন, শাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন কি রকম ভূমিকা রাখে তা আমরা দেখছিলাম কিন্তু তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারেনি। নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তারা যদি কোন ধরনের আশ্বাস না দিতে পারে তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো। আমাদের আন্দোলন চলমাব থাকবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক সমন্বয়ক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম কালবেলাকে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে এসে একটি দলের ইচ্ছে নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেল। আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন না হলে আর কবে শাকসু হবে, নাকি আরও ২৮ বছর পর নির্বাচন পরে সেটি আমরা কেউ জানি না। প্রশাসন শুরু থেকেই নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেছে, আমরা প্রতিবাদ করে নির্বাচনের তারিখ আদায় করেছিলাম কিন্তু এটিও আর হলো না।
এদিকে, সোমবার বিকেলে নগরীতে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাঁ থেকে মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও সৈয়দ তালহা আলম। ছবি : সংগৃহীত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোট দেবেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শর্শদি উত্তর খানেবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন। ভোট শেষে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। ভোট প্রদান প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সব ভোটার যেন নির্ভয়ে ও উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ) আসনে মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে স্ত্রীসহ ভোট দেবেন। এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পটুয়াখালী-১ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নলদোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া কুমিল্লা-৫ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পীরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এবি পার্টির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এই দুর্বলতার প্রতিফলন দেখা যায়। ওই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র ৬৮ শতাংশ এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় অংশই ফেল করেছে গণিত ও ইংরেজিতে। পরিস্থিতি উত্তরণে কনসালটেশন কমিটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন ও মাধ্যমিক শিক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগ বিভাজন বাতিল এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাময়মূলক শিক্ষা চালুর সুপারিশ করেছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক স্তরের এই শিখন ঘাটতি দ্রুত দূর করা জরুরি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ‘হিট এটিএফ সাব-প্রজেক্ট প্রপোজাল রাইটিং’ শীর্ষক এক কর্মশালা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর একাডেমিক ভবনের ইউআরপি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হিট-এ গত বছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৫৬টি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়, যার মধ্যে ৯টি প্রস্তাবনা বরাদ্দ পেয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্কুল থেকেই প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেয়া হবে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, হিট প্রকল্প থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গবেষণার পরিধি বৃদ্ধি, ল্যাব স্থাপন, নতুন ইনস্ট্রুমেন্ট সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী। আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম তৌহিদুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির উপ-রেজিস্ট্রার মো. নূরুল ইসলাম সিদ্দিকী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রিসোর্স পারসন হিসেবে উপাচার্য ‘হিট এটিএফ সাব-প্রজেক্ট প্রপোজাল প্রিপারেশন এন্ড ইভ্যালুয়েশন ক্রাইটেরিয়া’ শীর্ষক সেশন উপস্থাপন করেন। এছাড়া আইকিউএসির পরিচালক ‘কম্পোন্যান্টস অব এটিএফ এন্ড বাজেটারি অ্যালাইনমেন্ট’ শীর্ষক সেশন উপস্থাপন করেন। পরে মুক্ত আলোচনাপর্ব সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।
এগারো বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের মধ্যে সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিন, তার স্ত্রী বীথিকে সাত দিন, গৃহকর্মী রূপালী খাতুনকে পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন, অন্যদিকে ভুক্তভোগীর পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। আদালত শুনানি শেষে চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা ও পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে শিশুটিকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি কোথায় রাখা হয়েছে, তা তারা জানেন। শিশুর শরীরে থাকা ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অন্য ধরনের পাশবিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। মামলার বাদী ওই শিশুর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। তিনি অভিযোগ করেন, আসামি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথির বাসায় তার মেয়ে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়েছিল। গত ৩১ জানুয়ারি শিশুকে অসুস্থ দেখানোর অজুহাতে পরে মারাত্মক জখম অবস্থায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাফিকুর রহমানকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার করা অপর আসামিরা হলেন বাসার অন্য দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।