সারাদেশ

ভাঙ্গায় রাস্তার দুই পাশের অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬


ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গা বাজারের পার্শ্ববর্তী থানা রোড, কাঠপট্টি, ঈদগাহ মোড় এবং চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম বাজার এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ভাঙ্গা থানা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি সদস্য, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান ও স্থাপনার কারণে ভাঙ্গা বাজার ও মালিগ্রাম বাজার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ভাঙ্গা বাজার ও মালিগ্রাম বাজার এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মালিগ্রাম বাজারের প্রবেশপথে সড়কের ওপর থাকা অটোস্ট্যান্ড অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।



তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন অবৈধ দখলকারীরা পুনরায় বসতে না পারে, সে জন্য তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। মুচলেকা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উচ্ছেদ অভিযানকে টেকসই করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পর্যায়ক্রমে ভাঙ্গা বাজার ও রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে।


জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড ও গর্ভবতী মায়েদের সেবা ঘরে বসেই মিলবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. মো. আবু জাফর জাহিদ হোসেন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মানুষকে আর ঘুরতে হবে না, ফ্যামিলি কার্ডই আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে। গর্ভবতী নারীরা বর্তমানে যে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন বা ভবিষ্যতে পাবেন, সেই সেবাও ঘরে বসেই নিশ্চিত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা।   শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দিনাজপুর শহরের বাংলা স্কুল প্রাঙ্গণে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির নিবন্ধন ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের সুখ-দুঃখে রাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে।   তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন শিক্ষা বা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে। একজন সুস্থ মা মানেই একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই মা ও শিশু কল্যাণে সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।   দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিবন্ধন ক্যাম্পে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন।   অনুষ্ঠানে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নতুন উপকারভোগীদের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিন দিন যোগাযোগহীন, বাসায় মিলল নারী চিকিৎসকের লাশ

ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের টানা দ্বিতীয় দিনের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

ছবি : সংগৃহীত

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় ধসে পড়তে পারে ৭২ হাজার ভবন

ছবি : সংগৃহীত
৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ঢাকা

সামান্য ব্যবধানে পরপর দুদিন ঢাকায় মৃদু ও কাঁপুনি দিয়ে ভূমিকম্প জানান দিয়ে যায় সামনে এরকম আরও খারাপ কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃদু থেকে মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই হচ্ছে। এতে করে সবার মাঝে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছে—বাংলাদেশে যদি ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে কী ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে? এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিক মাত্রা ও তীব্র ভূমিকম্প হওয়া অমূলক নয়। ৬-৭ মাত্রার একটি তীব্র ভূমিকম্প হলে রাজধানীর অসংখ্য ভবন ধসে পড়তে পারে। ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে তাতে। আর্থিকভাবে এই ক্ষতির পরিমাণ হবে কয়েক বিলিয়ন ডলার।   আর এই ক্ষতির মূল কারণ হিসাবে তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল ভবন তৈরি এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। প্রকৌশল বিদ্যায় একটি কথা আছে, ‘ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে।’   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প ঘটে। কম্প্রিহেনসিভ আর্থকোয়াক ক্যাটালগের (কমক্যাট) ক্যাটালগ ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ৭ বা তার অধিক মাত্রার ১৫-১৬টি বড় ভূমিকম্প ঘটে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা (ম্যাগনিটিউড) এবং তীব্রতা (ইনটেনসিটি) দুটো ভিন্ন হলেও সহযোগী বিষয়। মাত্রা ও তীব্রতা দুটোই যদি বেশি হয় তাহলে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেমনটি হয়েছে ভেনিজুয়েলায়।   ভূতাত্ত্বিক বিশ্লষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। দেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি চক্র বা ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর আসে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৭৬২ সালে আরাকানে ৮ বা এর কাছাকাছি মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.১ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হয়েছিল। সে হিসাবে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এখনই আঘাত হানবে এমনটিও নয়। আবার কখন সেটি ঘটবে তাও বলা মুশকিল।   বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী যুগান্তরকে বলেন, দেশে ৭ বা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৮৬৯ সালে আসামের কাছাড়ে ৭.৫ এবং ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল আর্থকোয়েক ৭.১ (যে ফল্টের ওপর ভিত্তি করে যমুনা সেতুর ডিজাইন করা হয়েছে), ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৫০-২০০ বছরের চক্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এখন যে কোনো সময় ঘটতে পারে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের আশপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফল্ট লাইন রয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ইন্ডিয়া বর্ডার পর্যন্ত প্রায় ৭২ কিলোমিটার লম্বা ডাউকি ফল্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্লেট বাউন্ডারি-১ (আরাকান ফল্ট), প্লেট বাউন্ডারি-২ (নোয়াখালী থেকে সিলেট) এবং প্লেট বাউন্ডারি-৩ (সিলেট থেকে কাছাড়) একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে আছে।   মেহেদী আহমেদ আনসারী আরও বলেন, এরকম একটি বিপর্যয় হলে তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আসলে কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। জাইকা এবং সিডিএমপির একটি জরিপে উঠে এসেছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। কিন্তু এই ৭২ হাজার ভবন কোনগুলো তা নির্দিষ্ট করা নেই।   তিনি জানান, ঢাকায় মোট বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ১৫ লাখই ছোট বিল্ডিং, টিনশেড বা বস্তি। যা ভেঙে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা কম। কিন্তু মূল বিপদের কারণ হলো অবশিষ্ট ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবন, যেগুলো ৪ তলার ওপরে। এর মধ্যে আমাদের প্রাথমিক ধারণায় অন্তত ৪০ শতাংশ ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টায় নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

ছবি : সংগৃহীত

পাঠদান চলাকালে বডি স্প্রের তীব্র ঘ্রাণ, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ১৩ শিক্ষার্থী

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের ৫ অতিরিক্ত এসপি ও ১ সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি

ছবি : সংগৃহীত
১ জনের বিরুদ্ধে ৬১টি ভুয়া মামলা, প্রশাসন নিয়ে আইনজীবী শিশির মনিরের ক্ষোভ

‘প্রশাসন বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে যে কেউ চাইলেই যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করে কী করে? কীভাবে প্রশাসন টিস্যুর মতো ব্যবহৃত হতে পারে? মামলা করতে চাইলেই কি মামলা করা যাবে? এখানে কি কোনো ভেরিফিকেশন সিস্টেম নেই?’ এই প্রশ্নগুলো করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।   আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে শিশির মনির এ কথাগুলো বলেন। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬১টি ভুয়া মামলা দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।   শিশির মনির জানান, ওই ভুক্তভোগী পেশায় একজন সাধারণ লবণ ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে একে একে মোট ৬১টি মামলা করা হয়। সব কটি মামলাতেই ‘মানব পাচারের’ অভিযোগ আনা হয়। এই আইনজীবীর সহায়তায় সম্প্রতি ওই ব্যক্তি সব মামলা থেকে জামিন পেয়েছেন।   শিশির মনির বলেন, আইনি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারই প্রতিফলন। সতর্ক করে তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে এই পুরো ব্যবস্থাটি একটি ‘নির্যাতনের যন্ত্র’ (টর্চার মেকানিজম) হয়েই থাকবে। এমন ব্যবস্থা গড়তে হবে, যেখানে দ্রুততম সময়ে মানুষের বিচার পাওয়া বা না পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।   আইনি হেফাজতে মৃত্যু ৪৮৬ আলোচনাসভায় ‘নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রতিকার, ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকারের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. সাজ্জাদ হোসেন। প্রতিবেদনে ২০০১ থেকে ২০২৬ সালের ২২ জুন পর্যন্ত আইনি হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিকার জানায়, এই দীর্ঘ সময়ে দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও হেফাজতে মৃত্যু থামেনি। গত ২৫ বছরে হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ৪৮৬ জন মারা গেছেন।   প্রবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি আমলে ১৮৪ জন আইনি হেফাজতে মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ শতাংশ। আর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মারা গেছেন ২১৩ জন বা ৪৪ শতাংশ। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের (৬ শতাংশ)। এ ছাড়া বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আইনি হেফাজতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।   অধিকার আরও জানায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৪৮টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। সংস্থাটির মতে, শাসনামল বদলালেও আইনের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে মানবাধিকার সংকট কাটছে না।     নির্যাতন প্রতিরোধে সুপারিশ নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য ‘অধিকার’ ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও মনিটরিং সেল গঠন এবং একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা। এ ছাড়া গুম ও নির্যাতন রোধে বিশেষ আইনি সংস্কার, ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ বাস্তবায়ন, ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংস্থাটি।   অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এবং ‘ডেইলি ওয়াদা’র এডিটর ইন চিফ শফিকুল আলম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও বড় বড় মামলায় নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। এতে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি আদৌ প্রকৃত অপরাধী কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় থেকে যায়। তিনি বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করলেই হবে না; বরং পুরো নিরাপত্তা বাহিনী, তদন্তব্যবস্থা ও প্রসিকিউশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে গণমুখী করতে সংস্কারের বিকল্প নেই।   এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পেছনে যারা যুক্ত ছিল, তাদের অপরাধের বিচার না হলে দেশ এগোবে না। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর মানুষের বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রবণতা ফ্যাসিবাদের সময়ে গড়ে উঠেছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে দানব হয়ে উঠেছিল, সংস্কার ছাড়া তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।   আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে পুরোনো নির্যাতনের সংস্কৃতিই ফিরে আসবে। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ফয়েজুল হাকিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কারের যেসব উদ্যোগ ছিল, নতুন সরকার সংসদকে সব ক্ষমতার উৎস ভেবে সেগুলো বাদ দিয়েছে। তিনি আইনি হেফাজতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।   অধিকারের পরিচালক তাসকিন ফাহমিনার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাইমা ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মিরপুরে নির্যাতনে নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন, জুলাই আন্দোলনের ভুক্তভোগী মুহাইমিন পুলক এবং শহীদ শেখ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম। বক্তারা দলমত–নির্বিশেষে সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক

ছবি : সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া নাকচ, বদলাচ্ছে না সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথ

ছবি : সংগৃহীত

মুফতি ফয়জুল করীমের মামলা নিয়ে বিব্রত এমপি মনিরুল

0 Comments