সর্বশেষ

শাহজালালে মানবপাচার-চোরাচালানে ‘ভেতরের লোক’, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে চোরাকারবারি মাফিয়া চক্র। অতি সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ, জাল ভিসায় একযোগে ৭৬ জনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা এবং কার্গো ভিলেজ থেকে ৪ হাজার কেজি মালামাল বিনা শুল্কে বের করে নেওয়ার মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নজরদারি বাড়ালেও চোরাকারবারিরা নিরাপত্তার ফাঁকফোকর গলিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

 

৪ দিনে ১০০ কোটির স্বর্ণ জব্দ, বিমানের অভ্যন্তরেই ‘ভেতরের লোক’

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের কার্গো হোল্ড থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বিমানের নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। 

 

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং বিমানবন্দর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) শরিফ হোসেন বলেন, “আমরা আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি। আমরা ওই ফ্লাইটটি সরেজমিন পরিদর্শন করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটির পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিলেন তাদের তালিকাও আমরা চেয়েছি। ইঞ্জিনিয়ার সেকশন, ক্লিনার সেকশন, কেবিন ক্রু এবং পাইলট সবরাই তালিকা চাওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সবার সঙ্গে আমরা কথা বলবো।”  

 

শরিফ হোসেন বলেন, “আলোচিত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সকে ব্যবহার করে কারা স্বর্ণ চোরাচালানি করছে তাদের আমরা আইনের আওতায় আনবো।” 

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় স্বর্ণগুলো আনা হয়েছে তাতে আমরা ভেতরের লোক জড়িত রয়েছে মর্মে আমরা সন্দেহ করি। তবে এখনও যেহেতু বিষয়টি তদন্তের মধ্যে রয়েছে সব কিছু খোলাসা না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম বলা উচিত হবে না।” তিনি বলেন, “আমরা তালিকা পাওয়া মাত্রই জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম শুরু করবো। আশা করছি দ্রুতই তারা এগুলো আমাদের নিকট সরবরাহ করবেন।”  

 

এর আগে গত ২৮ মার্চ রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশের আরেকটি ফ্লাইটের (বোয়িং ৭৮৭-৮, ফ্লাইট ইএ-৩৪৮) টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ কেজি (১৫৩টি বার) স্বর্ণ উদ্ধার করে এভসেক ও একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এই ঘটনায় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের তিন মেকানিক ও হেলপার—নূর-ইসলাম, আবুল হোসেন এবং মিজানুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, নির্ধারিত ডিউটি শেষ হওয়ার পরও ওভারটাইম করার কারণে তাদের সন্দেহ হয় এবং পরে তাদের মোবাইল ফোনে স্বর্ণপাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত মেলে। এই চক্রে বিমানের আরও অন্তত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন।  

 

বোর্ডিং গেটে জালিয়াতি ফাঁস: মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টা পণ্ড 

স্বর্ণ চোরাচালানের পাশাপাশি বিমানবন্দরে বড় ধরনের মানবপাচারের একটি চক্রের তৎপরতাও প্রকাশ্যে এসেছে। গত ৪ জুলাই রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে (বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার) ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল। কিন্তু বোর্ডিং গেটে পরীক্ষা করার সময় ৫ জন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং এভসেক তাদের অফলোড (আটকে দেওয়া) করে। 

 

এই ৫ জন আটকে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই একই ফ্লাইটের আরও ৭১ জন যাত্রী বিমানে না উঠে তড়িঘড়ি করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, মানবপাচারকারী একটি চক্র ‘বডি কনট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে এত বড় গ্রুপকে জাল ভিসায় মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে আগে থেকে গোয়েন্দারা সতর্ক থাকায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এই ঘটনার পেছনেও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ কোনও চক্রের যোগসাজশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

কার্গো ভিলেজ থেকে ৪ হাজার কেজি মালামাল উধাও 

বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তার মাঝেই বছরের শুরুতে ঘটে এক বিশাল শুল্ক ফাঁকির ঘটনা। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে আমদানিকৃত প্রায় ৪ হাজার কেজি ফেব্রিক্স (কাপড়) কোনও প্রকার শুল্ক বা ট্যাক্স না দিয়েই সুকৌশলে বাইরে বের করে নিয়ে যায় একটি চক্র। এই ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কাস্টমস চেকিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে।  

 

কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য

তদন্তকারীরা বলছেন, যে স্থান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে সাধারণ যাত্রীর প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের অভ্যন্তরে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রী নামার পর বিমানটি হ্যাঙ্গারে নেওয়া হলে সেখান থেকে স্বর্ণগুলো খালাস করার কথা ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই স্বর্ণ পাচার চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।   

 

বিমানবন্দরে অপরাধ চক্রের এই আকস্মিক সক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী খাইরুল কবীর ভুঁইয়া। তিনি বলেন, “দুটি ঘটনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ করা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এর অর্থ হলো চোরাচালান চক্রটি কতটা শক্তিশালী ও বেপরোয়া। আবার জাল ভিসার মাধ্যমে মানবপাচারের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। বিমানবন্দরের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট হলেও অপরাধীদের কাছে তা যেন কোনও বিষয়ই মনে হচ্ছে না। তারা নিরাপত্তার মধ্যেই বারবার অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। তাই নজরদারি ও তৎপরতা আরও বহুগুণ বাড়াতে হবে।” 

 

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, “গত কিছুদিনের যা ঘটনা তাতে করে তাদের তৎপরতা যে বেড়েছে আমরা বুঝতে পারছি। আমরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে এই ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলেছি। আমাদের তৎপরতার কারণে এগুলো ধরা পড়ছে। আমরা সজাগ রয়েছি আরও সজাগ হবো।” 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গঙ্গা-পদ্মায় বাড়তে পারে পানি, সতর্কসীমায় প্রবাহের আশঙ্কা

আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় গঙ্গা এবং ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার কিছু এলাকায় গড়াই নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এর কাছাকাছি ভারতের উজান এলাকায় মাঝারি থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।   গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে পদ্মার পানি রয়েছে স্থিতিশীল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এরপর টানা তিন দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানিও বেড়েছে। আগামী তিন দিন এ দুই নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এ সময় গড়াই নদীর পানি ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার কয়েকটি এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।   উত্তরাঞ্চলের নদীতেও বাড়ছে পানি: ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। তবে যমুনার পানি রয়েছে স্থিতিশীল। আগামী পাঁচ দিন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। তবে আগামী তিন দিন ধরলা ও দুধকুমারের পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। একই সময়ে তিস্তার পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন সুরমার পানি আরও কমতে পারে, আর কুশিয়ারার পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

মধ্যরাতে ফেসবুকে বিদায়ী পোস্ট লিখে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ দম্পতির সম্পদ বিবরণী যাচাই করছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

ছবি: সংগৃহীত
কালিয়াকৈরে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ২

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালিয়াকৈর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।   তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুইজনের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাধা এলেও চট্টগ্রামে লং মার্চ পৌঁছাবে: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

সিফাতকে মুক্তি দিন, নইলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন বাঙলা কলেজের শিক্ষক শাকিল

ছবি: সংগৃহীত
শিবপুরে ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে পলাতক

নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী ও আরেক ছেলে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন।   শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি ভ্রাম্যমাণভাবে ওষুধ বিক্রি করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী (৩৫) তার বড় ছেলে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাতে বাবা ও ছেলে একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন তাদের মধ্যে কোনো বিরোধের বিষয় জানা যায়নি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই কক্ষ থেকে শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান।   পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, আব্দুল বাছেদ মিয়া ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, শাকিল প্রথমে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং পরে ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।   এ সময় নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম ও অপর ছেলে রাশেদ বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে শিবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।   নিহতের মেয়ে হাফসা বেগম বলেন, তার বাবা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তাকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।   শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া জানান, ছেলের হাতে বাবা হত্যার শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে এবং প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন।   ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চায়ের ৪৫ টাকা বাকি চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২; হাসপাতালেও হাতাহাতি

ছবি: সংগৃহীত

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি আরও ১ হাজার ২৫২

ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত তথ্যের অনলাইন বাজার, হাজার টাকায় মিলছে কল রেকর্ড: ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান

0 Comments