ইউরোপীয় কমিশন জর্জিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ইউরোপে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। মাসের শেষ দিকে নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে কমিশন সতর্ক করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই নিষেধাজ্ঞা জর্জিয়ার সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। খবর রেডিও ফ্রি ইউরোপের।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে অ-ইইউ দেশগুলোর একটি তালিকা তুলে ধরা হয়, যাদের নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের সুবিধা পান। এই সুবিধা শুধু ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতেই নয়, বরং আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো সহযোগী দেশগুলোতেও প্রযোজ্য।
২০১৭ সাল থেকে জর্জিয়ার নাগরিকরা এই ভিসা-মুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তবে নতুন বছরের শুরুতে অনুমোদিত সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়ম নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেও কোনো দেশের ভিসা-মুক্ত সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি স্থগিত করতে পারবে ইউরোপীয় কমিশন।
নতুন বিধানে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনের জন্য ইইউ সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় জর্জিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার শালভা পাপুয়াশভিলি ইইউর এই পদক্ষেপকে “ব্ল্যাকমেইল” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইইউর অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র জর্জিয়ার নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে অন্তত ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আপাতত সাধারণ নাগরিকদের এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহী।
তবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জর্জিয়ান কর্তৃপক্ষ যদি উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরবর্তী ধাপে এই স্থগিতাদেশ সাধারণ নাগরিকদের ওপরও প্রয়োগ করা হতে পারে। এমনকি চূড়ান্ত পর্যায়ে জর্জিয়া সম্পূর্ণভাবে ভিসা-মুক্ত মর্যাদা হারিয়ে ইইউর ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আজ জানিয়েছে, তারা দেশটির অশান্ত পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া অঞ্চলে একটি সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুসহ ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। কমনাস এইচএএম নামে পরিচিত এই কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্য পাপুয়ার কেমব্রু গ্রামে টিপিএনপিবি-ওপিএম বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর একটি ‘আইন প্রয়োগ অভিযানে’ গুলিতে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ছাড়াও এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। কমিশনের প্রধান অনিস হিদায়াহ আজ এএফপিকে জানান, তারা ঘটনাটির ‘তদন্ত’ চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যরা এর জন্য দায়ীÑ এমন ‘জোরালো সন্দেহ’ রয়েছে। সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পাপুয়ায় সেনাবাহিনীর হাবেমা টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে যে কেমব্রুতে ‘সশস্ত্র সংঘর্ষে’ তারা স্বাধীনতাপন্থী গেরিলা আন্দোলনের চার সদস্যকে হত্যা করেছে এবং তারা অন্য একটি গ্রামে এক শিশুর ওপর প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনাও তদন্ত করছে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করা কমনাস এইচএএম বলেছে, যে কোনো অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে তা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি হোক বা অন্য যে কোনো পরিস্থিতি এবং তা রাষ্ট্রীয় বা অন্য পক্ষ দ্বারা সংঘটিত হোক, বেসামরিকদের ওপর যে কোনো আক্রমণ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।’ কমিশন সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং পাপুয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনর্বিবেচনার জন্য সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছে। পাপুয়া, যার মূল দ্বীপটি পাপুয়া নিউ গিনির সাথে ভাগ করা। এটি সাবেক ডাচ উপনিবেশ, যা ১৯৬১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে ইন্দোনেশিয়া দুই বছর পর অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ১৯৬৯ সালে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ১ হাজার পাপুয়ান ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেন। পাপুয়া স্বাধীনতাপন্থী কর্মীরা নিয়মিতভাবে ওই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নতুন গণভোটের দাবি জানায়, যা জাকার্তা সরকার প্রত্যাখ্যান করে আসছে কারণ জাতিসংঘ ওই অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়েছে।
পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা শত শত তেলবাহী জাহাজের খুব বেশি দূরে নয়—পানির নিচে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক জগৎ। বহু বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথই নয়, এটি ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিরল তিমি এবং অঞ্চলের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রবাল প্রাচীরেরও নিরাপদ আবাসস্থল। তবে চারপাশে যুদ্ধ ও সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এই নীল জগত এখন বড় হুমকির মুখে। ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল। এসব জাহাজে মোট প্রায় ২১ বিলিয়ন লিটার তেল রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের মুখপাত্র নিনা নোয়েল বলেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণে তারা এ অঞ্চলে তেলের স্তর শনাক্ত করছেন। মার্চের শুরুতে একটি ইরানি জাহাজে হামলার পর সেখান থেকেও তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, জাহাজটি এখনও খুরান প্রণালির কাছে তেল ছড়াচ্ছে, যা আশপাশের সংরক্ষিত জলাভূমির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, পরিবেশগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি গভীর ও ঠান্ডা ওমান উপসাগর এবং অগভীর ও উষ্ণ পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থল। এখানকার স্রোত পুষ্টি উপাদান বহন করে, যা প্ল্যাংকটন, প্রবাল, মাছ এবং নানা সামুদ্রিক প্রাণীর জীবনচক্রের জন্য অপরিহার্য। শান্ত সময়গুলোতে ওমানের মুসান্দাম অঞ্চল স্কুবা ডাইভিং ও ডলফিন দেখার জন্য পর্যটকদের বড় আকর্ষণ ছিল। এখানকার উপকূলে সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম পাড়ে, আর ওমান উপকূলে দেখা যায় বিরল আরবীয় হামব্যাক তিমি। পাশাপাশি ডুগং, সি স্নেক এবং বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিনও এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাসিন্দা। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেল দূষণের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী মার্টিন গ্রোসেল বলেন, অপরিশোধিত তেলের বহু রাসায়নিক উপাদান প্রাণীদের হৃদযন্ত্র, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত হানে। দীর্ঘ সময় তেলের সংস্পর্শে থাকলে প্রাণীরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়। তিনি আরও জানান, তেল প্রাণীদের স্নায়ুতন্ত্রেও প্রভাব ফেলে। এতে তাদের দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে শিকার ধরা, খাদ্য সংগ্রহ কিংবা শত্রুর হাত থেকে বাঁচা কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে বিশ্বের অন্যতম সহনশীল প্রবাল প্রাচীর রয়েছে, যা তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার চরম অবস্থাতেও টিকে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই প্রবালগুলো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু তেল দূষণ এই প্রবালগুলোকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। উপকূলজুড়ে থাকা ম্যানগ্রোভ বন, আবুধাবির কাছাকাছি সমুদ্রঘাসের বিশাল অঞ্চল এবং সেখানে বসবাসকারী ডুগংয়ের বড় জনসংখ্যাও এখন ঝুঁকিতে। তেল শ্বাসমূল ঢেকে দিলে ম্যানগ্রোভ মারা যেতে পারে, আর সমুদ্রঘাস নষ্ট হলে খাদ্য সংকটে পড়বে ডুগং। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল শুধু পানির ওপর ভাসে না—ঢেউয়ের আঘাতে তা ছোট ছোট কণায় ভেঙে গভীর সমুদ্রেও ছড়িয়ে পড়ে। মাছ ফুলকার মাধ্যমে এসব রাসায়নিক গ্রহণ করে, প্রবাল সরাসরি শরীরে শোষণ করে, আর শ্বাস নিতে ওপরে আসা ডলফিন, কচ্ছপ ও সামুদ্রিক সাপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে যত বেশি জাহাজ আটকে থাকবে, তত বাড়বে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। আর এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে শুধু রাজনীতি নয়—সমুদ্রের এই বিস্ময়কর প্রাণজগতও তার ভয়াবহ মূল্য দেবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক বার্তা বিনিময় হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু দাবি নিয়ে জেদ ধরে আছে, যা তেহরানের কাছে বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়েছে।’ তুরস্কে একটি কূটনৈতিক বৈঠকের ফাঁকে খাতিবজাদেহ এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা। ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী খাতিবজাদেহ আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাবে না। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ‘আলোচনারও কোনো সুযোগ নেই। সূত্র: আলজাজিরা