বিশ্ব

জর্জিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিত করল ইইউ

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২০, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় কমিশন জর্জিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ইউরোপে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। মাসের শেষ দিকে নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে কমিশন সতর্ক করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই নিষেধাজ্ঞা জর্জিয়ার সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। খবর রেডিও ফ্রি ইউরোপের।

 

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে অ-ইইউ দেশগুলোর একটি তালিকা তুলে ধরা হয়, যাদের নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের সুবিধা পান। এই সুবিধা শুধু ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতেই নয়, বরং আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো সহযোগী দেশগুলোতেও প্রযোজ্য।

২০১৭ সাল থেকে জর্জিয়ার নাগরিকরা এই ভিসা-মুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তবে নতুন বছরের শুরুতে অনুমোদিত সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়ম নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেও কোনো দেশের ভিসা-মুক্ত সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি স্থগিত করতে পারবে ইউরোপীয় কমিশন।

নতুন বিধানে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনের জন্য ইইউ সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় জর্জিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার শালভা পাপুয়াশভিলি ইইউর এই পদক্ষেপকে “ব্ল্যাকমেইল” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইইউর অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র জর্জিয়ার নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে অন্তত ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আপাতত সাধারণ নাগরিকদের এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহী।

তবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জর্জিয়ান কর্তৃপক্ষ যদি উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরবর্তী ধাপে এই স্থগিতাদেশ সাধারণ নাগরিকদের ওপরও প্রয়োগ করা হতে পারে। এমনকি চূড়ান্ত পর্যায়ে জর্জিয়া সম্পূর্ণভাবে ভিসা-মুক্ত মর্যাদা হারিয়ে ইইউর ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
রুশ যুদ্ধাহত সৈনিক নিয়ে কৌতুক, স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানকে কারাদণ্ড

রাশিয়ায় এক স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানকে বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে প্রায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার দেশটির একটি আদালত এই রায় দেন।   আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কমেডিয়ান ওস্তানিনকে পাঁচ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ লাখ রুবল জরিমানা করা হয়েছে, যা প্রায় ৩ হাজার ৯০০ ডলারের সমান। ইউক্রেনে যুদ্ধাহত এক রুশ সৈনিককে নিয়ে করা তার কৌতুক নিয়ে রুশ জাতীয়তাবাদী ও সামরিক ব্লগারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কৌতুকে মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারানো এক দরিদ্র রুশ সৈনিককে নিয়ে রসিকতা করা হয়েছিল। সৈনিকটি বর্তমানে স্কেটবোর্ডের সাহায্যে চলাচল করেন। মস্কোর একটি আন্ডারপাসে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওস্তানিন রসিকতাটি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া যীশু খ্রিষ্টকে নিয়ে আপত্তিকর কৌতুক করার অভিযোগেও আদালত ওস্তানিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ওই মন্তব্যকে খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখা হয়। এতে রুশ অর্থোডক্স জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিচার চলাকালে ওস্তানিন দাবি করেন, তাকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আটক অবস্থায় যে আচরণের শিকার হতে হয়েছে, সেটিই তার জন্য যথেষ্ট শাস্তি।   ২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া কঠোর সেন্সরশিপ আইন প্রণয়ন করে। সেই আইনের আওতায় সেনাবাহিনী বা যুদ্ধ নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে ‘অশালীন’ বা ‘ভ্রান্ত’ মন্তব্যের অভিযোগে বহু ব্যক্তি ও শিল্পী কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন। বিরোধী মহলের মতে, ওস্তানিনের সাজাও সেই দমননীতিরই অংশ।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নিজ ঘরে সংগীতশিল্পীর রহস্যজনক মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি

করোনাকালে মোবাইল আসক্তি, তুচ্ছ কারণে ৯ তলা থেকে ঝাঁপ ৩ বোনের

ফাইল ছবি : রয়টার্স

এবার মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স পাবেন ইরানি নারীরা

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি তিন শিশুসহ নিহত ৯, আহত ৩১

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আজ বুধবার ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তিনজন শিশুসহ মোট নয়জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে।  ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর তারা হামলা চালিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত মাসে মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল এবং হামাস একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করছে। গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার কয়েকদিন পর সর্বশেষ রক্তপাত ঘটে। এটি গাজাবাসীদের জন্য একমাত্র বাহির হওয়ার পথ যা ইসরাইলের মধ্য দিয়ে যায় না। হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে উদ্ধারকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করা বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় নয়জন নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ৩১ জন আহত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ খান ইউনিস এলাকায় তাঁবু এবং বাড়িঘরে ইসরাইলি হামলার পর তিন জনের মৃতদেহ নাসের হাসপাতালে আনা হয়েছে। গাজা শহরের বৃহত্তম নগর কেন্দ্র গাজা শহরে একই ধরণের হামলার পর আরও ছয় জনের মৃতদেহ আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসীরা সেনাদের ওপর গুলি চালানোর’ পর তারা হামলা চালিয়েছে, এতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তারা  এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে মনে করছে।  তারা বলেছে, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ এর কাছে সৈন্যরা আক্রমণের শিকার হয়েছে, যার ওপারে গাজায় ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করছে। যুদ্ধবিরতি বারবার রক্তপাতের রক্তপাতের মাধ্যমে কলুষিত হয়েছে।  গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৫২৩ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে একই সময়ে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গত শনিবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর মধ্যে একটি। ওই দিন  ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী হামাসের অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে চালানো হয়।  গাজায় গণমাধ্যমের বিধিনিষেধ এবং সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এএফপি স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করতে বা অবাধে যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে পারছে না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সাজার বিরুদ্ধে আপিল করলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবের হত্যাকারী

ছবি: সংগৃহীত

উইন্ডসর ছাড়লেন ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু : বিবিসি

সংগৃহীত ছবি

প্যারিসে মাস্কের এক্স কার্যালয়ে তল্লাশি

সংগৃহীত ছবি
সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার দেশটির দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর প্রদেশের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। শহরটি বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানায়, হামলার পর শহরের একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ওই ভবনটি আরএসএফের একটি গুদাম ছিল। এদিকে পাশের কর্দোফান অঞ্চলের ডিলিং শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরএসএফ। সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেয়। এর পরই পাল্টা হিসেবে আরএসএফ এই হামলা চালাল। ড্রোনটি সরকারি একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডিলিং শহরটি যুদ্ধের অন্যতম সম্মুখভাগ হয়ে উঠেছে।   সামরিক সূত্র আরো জানায়, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের চারপাশে দুটি করিডর খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।  জাতিসংঘের তথ্য মতে, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ (প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার) ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত অঞ্চল কর্দোফানের দিকে নজর দিয়েছে। দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং অবহেলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড।  সোমবার ওই অঞ্চল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুরো শহরের মানুষ ক্ষুধার্ত। মানুষ সবকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এটি একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, যা দ্রুত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের দিকে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যদি এখনই সুদানের দিকে নজর না দেয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে যে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো ভয়াবহ নির্যাতন ও গণহত্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এর আগে এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেনাবাহিনী ও তার প্রাক্তন মিত্র আরএসএফের এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল বাংলাদেশও

ফাইল ছবি : রয়টার্স

কাবাঘরের গিলাফ পাঠানো হয়েছিল কুখ্যাত এপস্টেইনকে

ছবি : সংগৃহীত

গাজার দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে নতুন তথ্য জানাল হামাস

0 Comments