নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় সাজেদা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ জুন) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার নূর মসজিদ লেন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাজেদা আক্তার কদমতলী বাজার এলাকার শাহ আলমের মেয়ে এবং শাকিল আলমের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামী শাকিল আলম ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির শুনানি শেষে গত ২২ জুন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাজেদা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৬ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মঈনউদ্দীন চিশতী জানান, মামলার কয়েকজন আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করে। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৬ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় বর্তমানে ২০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এছাড়া কয়েকজন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং কিছু আসামি জামিনে আছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক নেতা রয়েছেন।
পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একই ধরনের পরিকল্পনা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রধান নদীগুলোর অস্তিত্ব ও প্রবাহ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর গুলশানে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘দুর্বার কন্যা প্রোগ্রাম মডেল’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পদ্মা নদীর বর্তমান অবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, নদীটির উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যমুনাসহ অন্যান্য নদীতে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের সময় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সচেতন ও সংগঠিত তরুণ সমাজ ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তরুণদের উদ্যোগ ও জনসচেতনতা সরকারের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার ২৫ কোটি গাছ রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কিলোমিটার জলপথ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলার মতো জেলাগুলোতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে দেশের অন্যতম বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, ‘দুর্বার কন্যা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কিশোরী ও তরুণীদের জলবায়ু অভিযোজন এবং সহনশীলতা গঠনের নেতৃত্বে এগিয়ে আনা। তিনি মনে করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবতাভিত্তিক উদ্যোগ ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদ, উন্নয়নকর্মী, বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং তরুণ নেতারা অংশ নেন।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে মনে করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি। বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মাজারের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। তবে মাজারের হিসাব ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারও একমত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের সরকার ও সিলেটের সব সংসদ সদস্য এ ব্যাপারে একমত। মাজারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মাজারকে ঘিরে যে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আরিফুল হক বলেন, “অতীতে কোনো ভুলত্রুটি বা অনিয়ম হয়ে থাকলেও, ভবিষ্যতে তা আর হবে না।” এর আগে বিকালে সিলেটে এসে ওসমানী বিমানবন্দরে একই বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরিফুল হক। ওই সময়ও একই রকম কথা বলেন। এসময় শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স খোলা ও সেখানে গচ্ছিত অর্থ প্রকাশ্যে গণনার পদক্ষেপ নেওয়ায় সিলেটের সদ্য সাবেক (প্রত্যাহার) জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রশংসা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। এ ধরনের (প্রকাশ্যে টাকা গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার শাহজালালের (রহ.) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ ‘সিলগালা’ করা হয়। তখণ ‘নিরাপত্তার জন্য’ আনসারও মোতায়েন করা হয়, যা নিয়ে পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা। এর মধ্যেই পরদিন শুক্রবার সিলেটের আরেক মাজার হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার পরিদর্শন করে সেটির আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন ডিসি সারওয়ার। মাজারের দানবাক্স নিয়ে এ আলোচনার মধ্যেই রোববার তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। ডিসি সারওয়ারের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এটা আগে, পরেও হতে পারত। এদিকে জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে ‘সুখবর’ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। বলেন, “আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন এবং চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।