আন্তর্জাতিক

সংঘাত এড়ানোর ‘শেষ চেষ্টার’ বৈঠকে বসেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

ইরান পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন হুমকির মধ্যেই তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
 
বৈঠকটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে ইরানও অঙ্গীকার করেছে, যেকোনো হামলার জবাবে তারা শক্তি প্রয়োগ করবে। তাই বৃহস্পতিবারের আলোচনাকে সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট।

যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, ইরানি নেতাদের চুক্তিতে বাধ্য করতে দেশটিতে একটি সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।


তবে নতুন করে বসা আলোচনায় ট্রাম্প ঠিক কী দাবি করছেন এবং কেন এখন সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনি খুব বেশি ব্যাখ্যা দেননি। 

ইরান তাদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এবারের বৈঠকে কিছুটা ছাড় দিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে মুখোমুখি ট্রেন দুর্ঘটনা: চালক নিহত, আহত অন্তত ৮৯

যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ।   শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইস্ট ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন, ২২ জন গুরুতর আহত এবং ৫৬ জন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।   রেল ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন দুটি দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে বেডফোর্ডের উপকণ্ঠে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।   দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে থমকে গেল আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল

ছবি : সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলা

প্রতিবেশী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের’ আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে চালানো এই আকস্মিক হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং সীমান্ত জুড়ে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।   আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই বিমান হামলা চালানো হয়। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলোতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএসআইএল-খোরসান (আইএসআইএস-কে) এর ঘাঁটি ছিল।    আফগানদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় এই ঘাঁটিগুলো থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হামলায় আইএসআইএস-কে-এর শীর্ষ নেতাদের একটি আস্তানাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।   তবে আফগানিস্তানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে একে ‘মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, দায়েশ (আইএসআইএল) সহ প্রায় দুই ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আসলে আফগান তালেবান সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানের মাটিতেই অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   আফগানিস্তান ঠিক কী ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে, তা কাবুল স্পষ্ট করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের কাছে বড় কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও অন্তত ছয়টি হালকা বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু সামরিক ড্রোন রয়েছে, যা এর আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।   ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কাবুল তাদের দেশের ভেতরে হামলা চালানো নিষিদ্ধ টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তা কার্যত ভেস্তে যায়।   জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। মাত্র গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ১১টি শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছিল, যার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তারা আর কোনো হুমকি বরদাশত করবে না এবং যেকোনো হুমকির উৎস নির্মূল করতে সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বন করবে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয়? মেলোনি বললেন ‘গল্প ফেঁদেছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ: লাভবান ইরান, উদ্বিগ্ন প্রতিদ্বন্দ্বীরা

ছবি: সংগৃহীত
‘ট্রাম্পের আগ্রহেই চুক্তি’, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে খামেনির মন্তব্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি ইরানের আগ্রহে নয়; বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রবল আগ্রহ ও চাপের কারণেই সম্পন্ন হয়েছে।   বুধবার প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, তার পেছনে মূল চালিকা শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষায়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তি সম্পন্ন করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করেছেন।”   তবে খামেনি স্বীকার করেন যে তিনি শুরু থেকেই এই চুক্তির সমর্থক ছিলেন না। তিনি জানান, নীতিগতভাবে তাঁর কিছু আপত্তি ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইরানের জনগণের অধিকার এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার করায় তিনি শেষ পর্যন্ত চুক্তির অনুমোদন দেন।   দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সংঘাত এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর এই সমঝোতা স্মারককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মে মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র একটি খসড়া প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠায়। পরে কয়েক সপ্তাহের আলোচনা ও পর্যালোচনার পর দুই দেশ চুক্তিতে সম্মত হয়।   বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে তেহরানে নিজ দপ্তরে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। পরে দুই দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করা হয়।   সমঝোতা স্মারকের আওতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ সময় হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। বিনিময়ে ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হবে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে শুরু থেকেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, সমঝোতার শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথও সুগম করতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে এখনো বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যুতে সমঝোতা প্রয়োজন হবে।   সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল, জানালেন ইসহাক দার

ছবি : সংগৃহীত

নতুন সমীকরণে সুবিধাজনক অবস্থানে ইরান, বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সব বন্দর থেকে নৌযান চলাচলে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments