জাতীয়

সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুঃখপ্রকাশ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার কিছু অংশকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর। একই সঙ্গে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ এর চার সাংবাদিককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং একজন সাংবাদিকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও দাবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে তার নাম ব্যবহার করে বা তার সমর্থন আছে—এমন দাবি তুলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন মামলা, বিবৃতি কিংবা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনার সম্পর্ক নেই।

 

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ এর চার সাংবাদিককে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে।

 

গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তির প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার বাদীও পেশায় সাংবাদিক এবং তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। তাই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি, বিভাজন বা অস্থিরতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
নিউমার্কেট–ধানমন্ডির জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

রাজধানীর ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।   সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে যান।   মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ধানমন্ডি, নিউমার্কেটসহ এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ একসময় বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) ভেতর দিয়ে ছিল। বিডিআর ট্র্যাজেডির পর সেই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হলে তিনি গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেন। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি কাজ নয়; বাস্তবায়নে অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় লাগবে।’   তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার খাল-বিল ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেনগুলোতেও বিপুল পরিমাণ পলিথিন ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।   ‘গতকাল পানির মধ্যে দিয়ে আসার সময় দেখেছি, ড্রেনের ভেতরে হাজার হাজার পলিথিন, এমনকি বালিশও ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এখন পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায়। তাই নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে,’ বলেন তিনি।   ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, সরকার খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হবে।   তিনি বলেন, ‘ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের পানি শেষ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে অতীতে কোনো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এবার আমাদের সরকার সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।’   ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, কোথায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তা জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   এ সময় তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ফগার মেশিন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই মেশিন দুটি সংশ্লিষ্ট হলে পৌঁছে যাবে।   তিনি আরও বলেন, ‘আবার যদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের মাধ্যমে পানি সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিকদের সহযোগিতা দুটোই জরুরি।’   পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিসসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে, রাঙামাটির ৬ উপজেলায় ফের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার মামলায় ঢাকায় ধরা পড়লেন শফিক ডাকাত

ছবি: সংগৃহীত

নকল ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
শোভন কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করলো এডুকো ও ইএসডিও

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) স্নাতকদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (Educo) এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) যৌথভাবে "Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st Century Job Market (LIFT)" প্রকল্পের আওতায় দেশের সাতটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে।   রাজধানীর আগারগাঁও-Gi বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (BCFCC)- ‡Z ‡ejv 12 Uv †_‡K AbyôvbwU kyiæ nq| অনুষ্ঠানwU টিভিইটি খাZ‡K শিল্পের চাহিদাভিত্তিক করে গড়ে তোলা এবং দক্ষ তরুণ-তরুণীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ChorogUsan for Children-এর অর্থায়নে পরিচালিত LIFT প্রকল্পটি Educo-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ESDO-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। বাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।   অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, টিভিইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের অংশীদার এবং টিভিইটি স্নাতকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে LIFT প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন উপস্থাপন, একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।   সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— Aziz Air Services Ltd. Dream Power Bangladesh PRAN-RFL Group METAL FAIRS Navana CNG Hotel Sarina Dhaka Amari Dhaka     এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টিভিইটি স্নাতকদের জন্য ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ (On-the-Job Learning), নিয়োগ এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে শ্রমবাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।   অনুষ্ঠানে এডুকো evsjv‡`k (Education and Development Foundation)-এর চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন ম্যানেজার আফজাল কবির খান প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET)-এর মাধ্যমে শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণে অর্জিত ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাজার-চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে।   জিনজিয়ান হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (XHTI)-এর ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তানভীর আনোয়ার পনি বলেন, ৭২০ ঘণ্টার শিল্প-চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলে। এ ধরনের সমন্বিত প্রশিক্ষণ তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদা পূরণে সক্ষম করে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।   অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা দক্ষ টিভিইটি স্নাতকদের নিয়োগ এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে LIFT প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।   প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর সহকারী ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সুদীপ্ত দেবনাথ অন্তু জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (RAC) ট্রেডের দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি এডুকোর LIFT প্রকল্পের সঙ্গে পূর্ববর্তী সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার প্রশংসা করেন।   ইএসডিও (ESDO)-এর টিভেট প্রধান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সম্পূর্ণভাবে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নতুন দক্ষতার চাহিদা জানালে তা যথাসম্ভব কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করে শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করতে পারে।   এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর LIFT প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। শিল্পখাতের সঙ্গে ধারাবাহিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী টিভিইটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।   LIFT প্রকল্প সম্পর্কে: Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st Century Job Market (LIFT) প্রকল্পের লক্ষ্য হলো গুণগত মানসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং কর্মসংস্থান সংযোগ সেবার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পটি ChorogUsan for Children-এর অর্থায়নে, Educo-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ESDO-এর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, টিভিইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।  

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বন্যাকবলিত মানুষের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ভিসা আবেদনে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য লুকালে মিলতে নাও পারে মার্কিন ভিসা

ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাট আদালত ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে আহত ৫ বিচারপ্রার্থী

বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচজন বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলা জজ আদালতের কচুয়া আদালতের এজলাসের সামনের বারান্দায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হঠাৎ করেই বারান্দার ছাদের একটি অংশের পলেস্তারা ভেঙে নিচে পড়ে। এতে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন বিচারপ্রার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   আহতরা হলেন সুমন দাস, হৃদয় হাওলাদার, মোতালেব, হাবিবুল্লাহ শেখ এবং তার বাবা মো. সিরাজ শেখ। তারা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।   হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। অন্যদের ঘাড় ও পায়ে আঘাত লেগেছে। সবাই চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।   আদালত সূত্র জানায়, যে অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে সেখানে রড দৃশ্যমান হয়ে গেছে। ফলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের নাজির অমিত কুমার বলেন, ঘটনাটি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শন করে এর নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন।   এদিকে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানান, আদালত ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু, ১৬ জুলাই অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক

ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লির বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওয়ায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন, আগে জেলে যেতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

0 Comments