জাতীয়

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় মিয়ানমারের সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে ২০১৬-১৭ সালের ভয়াবহ ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর দায় এড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাসরত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ‘রোহাং’ বা ‘রোশাং’ নাম থেকে ‘রোহিঙ্গা’ নামের উৎপত্তি, যা পরবর্তীতে আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতি রাখাইনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এবং স্বাধীনতা-পূর্ব বার্মার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে তাদের উপস্থিতি সুস্পষ্ট। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বাদ দেয়। এরপর ধাপে ধাপে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনে তারা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে রাখাইন থেকে বিতাড়িত করে রাষ্ট্রহীন করে তোলা হয়।

বাংলাদেশ সরকার জানায়, রোহিঙ্গা ভাষা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও এটি বাংলা থেকে স্বতন্ত্র। তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা আত্মপরিচয়ের অস্বীকৃতি এবং জাতিগত নির্মূলের অংশ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের সমান অধিকারসহ সমাজে অন্তর্ভুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে গত আট বছর ধরে মিয়ানমার রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৭-১৮ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সত্ত্বেও নানা অজুহাতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করছে। এই প্রবণতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালের ৬ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে দেওয়া দাবিরও প্রতিবাদ জানায়। মিয়ানমার দাবি করেছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘অর্ধ-মিলিয়ন বাঙালি’ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ জানায়, ১৯৭১ সালে রাখাইনের জনসংখ্যা ছিল ১.৭ মিলিয়নের নিচে। এত বড় শরণার্থী ঢল হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আসত। পরবর্তী আদমশুমারিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার ও রাখাইনের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করে তাদের পুনর্বাসনের পরিবেশ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত না করে প্রকৃত সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানানো হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নিয়ে ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত
রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি দেবে সরকার

নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে এই সম্মানি কত টাকা তা এখনও নির্ধারণ করেনি সরকার। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেইটে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান। এ সময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পাশে রেখে মাহদী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান করা। ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা চালু হবে। কত টাকা সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, আজ ছিল তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে তিনি ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি : সংগৃহীত

বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং

ছবি : সংগৃহীত

স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদীতে গাড়ি চাপায় একজন নিহত

ছবি : সংগৃহীত
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

 মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জাতির আত্মপরিচয়, ভাষার মর্যাদা ও স্বাধীনতার সংগ্রামে ভাষা আন্দোলনের অবিস্মরণীয় অবদান স্মরণে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  একুশের প্রথম প্রহরে তিনি তার শৈশবস্মৃতি-জড়িত নিজ এলাকা মোল্লারহাট উপজেলায় নাশুখালী সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নির্মিত শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।  সেখানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মন্ত্রী বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আমাদের গৌরব, আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রে্যর  ভিত্তি।  তিনি আরও বলেন, তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে।  এ সময় মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এবং রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একুশের প্রথম প্রহরে নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি’র নেতৃত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।  পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় হিসেবে অভিহিত করেন।  এ সময় ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালি জাতি এক গর্বিত জাতি।  তিনি আরও বলেন, মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে জীবন উৎসর্গের এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল। হাবিবুর রশিদ বলেন, মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।  এ সময় ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ও সংস্থাগুলোতেও মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।  জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জাবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক সভা

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি: কোলাজ

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেই ভিসা সেবা বাড়ছে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের স্থবিরতা কাটার ইঙ্গিত পাচ্ছেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। তারা বর্তমান অবস্থাকে অনেক দিন জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করার সঙ্গে তুলনা করছেন। আর এ শুরুটা হতে যাচ্ছে একটু একটু করে ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার মধ্য দিয়ে। এ বরফ গলার আভাস দেওয়াটা শুরু হয়েছে ভারতের দিক থেকে। সিলেটে দেশটির মিশনের সিনিয়র কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ভিসা পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা এখন দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণসহ অন্যান্য ভিসা পুনরায় চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলো ভিসা পরিষেবা খুব সীমিত করে দেয়। এদিকে ভারতের তরফ থেকে ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এমন খবর বেরোনোর পর দেশটির রাজধানী দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনগুলোও ভিসা পরিষেবা সম্প্রসারণ করতে শুরু করছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের এক কূটনীতিক গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উগ্রপন্থিদের হামলার ঝুঁকির মুখে গত দুই মাস দিল্লি ও আগরতলায় ভিসা পরিষেবা প্রায় বন্ধ রাখা হয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা সেবা পুনরায় চালু করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক গতকাল বলেন, ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা পরিষেবা বন্ধের বিষয়টি ‘চিঠিপত্র দিয়ে’ করা হয়নি। কাজেই আবার চালু করার জন্যও কোনো চিঠিপত্রের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দিল্লিতে গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য উন্মুখ।’ বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ক্ষেত্রে সীমিতভাবে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের দিল্লিতে অবস্থিত তৃতীয় দেশের দূতাবাসে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেও সেখানে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু আছে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

সমঝোতার নামে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার বক্তব্যের নিন্দা জামায়াতের

কত পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে, জানালেন তথ্যমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

টেলিভিশন ও বিভিন্ন আলোচনায় বাংলা বিকৃত হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

0 Comments