সারাদেশ

রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অসুস্থ, জরিমানা ৪০ হাজার টাকা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে একটি রেস্টুরেন্টে পরিবেশন করা বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার হিরাঝিল এলাকায় ‘ঢাকা কাচ্চি ডাইন’ নামের রেস্টুরেন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সূত্র জানায়, ভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের একটি দল সেখানে যায়। অভিযান চলাকালে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে।

 

ফ্রিজে কাঁচা মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পঁচা ও বাসি খাবারও পাওয়া যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান কর্মকর্তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক রঞ্জন বণিক বলেন, ‘কয়েকদিন আগে একজন ভোক্তা ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন।

 

অভিযোগ যাচাই করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।

তিনি আরো জানান, এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী রেস্টুরেন্টটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য সংরক্ষণ, রান্না ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
প্রতীকী ছবি
ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, নদী থেকে লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিশামনি (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ কংস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে নিশামনি বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন। স্বজনদের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিশেষ করে গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং শরীর থেকে রক্তক্ষরণের আলামত লক্ষ করা যায়। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত শিশুটির স্বজন ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করে কংস নদীতে ভাসিয়ে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ধোবাউড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার মৌলভীবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ১৬ বছরের বঞ্চনা ঘোচানোর আশা জেলাবাসীর

ছবি: সংগৃহীত

রূপগঞ্জে ময়লার ভাগাড় উচ্ছেদ, গাছ লাগালেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি এমপির বাড়ির পর হাসপাতালসহ দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরি

নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর শহরের বাসভবনে দ্বিতীয় দফা বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনার দুদিনের মাথায় এবার নাটোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় এবং নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ছুটির সুযোগে দুর্বৃত্তরা দুটি প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে কম্পিউটার, আইপিএস, পিসিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।   নাটোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বৃহস্পতিবার অফিসের কার্যক্রম শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথারীতি কার্যালয় বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। রোববার সকালে অফিস খুলে তারা দেখতে পান কক্ষের ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।   তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা অফিসের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কম্পিউটার, আইপিএস, পিসিসহ বেশ কিছু মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।   এদিকে একই সময়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালেও চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, চোরেরা হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনের ২০১৮ নম্বর কক্ষের জানালার গ্রিল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ওই কক্ষটিতে নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখেন।   স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি একই হাসপাতালের নতুন ভবনে এক শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাসপাতালটিতে নতুন করে চুরির ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর অনেক জায়গায় দুর্বল ও অরক্ষিত। ফলে বিভিন্ন দিক দিয়ে সহজেই হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করা যায়। এ কারণে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।   তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সীমানা প্রাচীর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ২ মুসল্লি

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড ‘পাবেন না’ যারা

ছবি: সংগৃহীত

দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা বাগেরহাটের যুবকের

ছবি: সংগৃহীত
গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা, প্রথম স্ত্রীর ফোনে সব পণ্ড

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ঠিক আগে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানালে বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন বর ও তাঁর পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। দীর্ঘ আলোচনার পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে গভীর রাতে তাঁরা মুক্তি পান।   ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম সাব্বির আহমেদ (২৫)। তিনি মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।   স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে প্রতিবেশী এক তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেন সাব্বির আহমেদ। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। এ অবস্থায় পারিবারিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলার কৃষক দলের এক নেতার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়।   নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে যান সাব্বির। বরযাত্রীদের আপ্যায়ন ও খাবার পরিবেশনের পর সন্ধ্যায় বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রথম স্ত্রী মুঠোফোনে কনের বাবাকে সাব্বিরের আগের বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত হন।   একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হলে কনের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আয়োজন স্থগিত করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বরপক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। বিয়ের আয়োজন বাবদ হওয়া খরচের কিছু অংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার পর দিবাগত রাত দুইটার দিকে বরপক্ষের লোকজন ছাড়া পান।   কনের বাবা কৃষক দলের নেতা বলেন, ‘ছেলেটি আগে বিয়ে করেছে—এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর মেয়ের বিয়ে আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   এদিকে বিয়ে পণ্ড হওয়ার ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির আহমেদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় তাঁর স্ত্রীর বড় বোন আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।   সাব্বির আহমেদের প্রথম স্ত্রী বলেন, ‘২০২২ সালে আমাদের বিয়ে হয়। সাব্বিরের অনুরোধে বিষয়টি এত দিন গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আবার বিয়ে করতে গেলে বাধ্য হয়ে বিষয়টি জানাই। পরে আমাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হয়েছে।’   অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব্বির আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘ছেলে যে আগে বিয়ে করেছে, সেটা আমার জানা ছিল না। আগে জানলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমাকে একটা বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে।’   মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়েকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
বাগানে বিভিন্ন জাতের আম দেখাচ্ছেন রেজাউল করিম খন্দকার

মৌলভীবাজারে রেজাউলের শখের বাগানে ৫০-এর বেশি জাতের আম

ছবি : সংগৃহীত

ফতুল্লায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগের ২৭ জনের নামে মামলা

শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান

গণভোটের রায় না মানলে ১৯৯৬-এর পরিস্থিতি হবে: জামায়াত আমির

0 Comments