সারাদেশ

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড: ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন পুলিশ কমিশনার

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের বাকি তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল সে ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্রিফ করার সময় গলা জড়িয়ে আসে তার। এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান তিনি।

 

এক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

 

তিনি জানান, শুধু হত্যাই নয়; চারজনকে হত্যার পরও ঘটনাস্থলে নির্বিকার ছিল অভিযুক্তরা। হত্যার পর ওই বাড়িতেই গোসল, খেজুর ও শসা খাওয়া এবং ইয়াবা সেবনের মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে।

 

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের নির্মমতার বর্ণনায় তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। মুগ্ধ কাজ করেন সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘গণপতি স্যার ছিলেন একজন সম্মানিত লোক। ওনার পরিবারের সঙ্গে কারও কলহ বিবাদ ছিল না।’

 

এ কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি পুলিশ কমিশনার। তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

 

অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কেনেন। পরে সীমান্ত নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসায় গিয়ে তারা ইয়াবা সেবন করেন। রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।

 

সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে বেরিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে আসার সময় সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

 

এরপর হত্যার নির্মমতা বর্ণনা করতে গিয়ে ভেঙে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, ‘উনার চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রাপ্তি চক্রবর্তী, বয়স ২৫, সে যখন এগিয়ে আসে, প্রাপ্তি চক্রবর্তীকে তারা খুন করে গামছা পেঁচিয়ে। খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রাপ্তি চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না, প্রায় চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময় তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।’

 

চারজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুরোপুরি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী ছিলেন গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে।

 

প্রিয়মের কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে বক্তব্য থামিয়ে দেন পুলিশ কমিশনার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছোট ছেলেটা যার কথা বললে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ম। আমার ছেলের বয়সী।’

 

এরপর কিছুক্ষণ থেমে তিনি বলেন, ‘এই প্রিয়মকে তারা গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে এবং একপর্যায়ে একটি বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর সকাল হয়ে গেলে তারা প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে পরে মুগ্ধ গোসল করে।’

 

পুলিশ কমিশনার জানান, গোসল শেষে অভিযুক্তরা ওই বাড়ির ডাইনিং টেবিলে রাখা একটি বৈয়াম থেকে খেজুর ও শসা খান। এরপর সেখানে বসেই আরও একবার ইয়াবা সেবন করেন তারা। শুধু তাই নয়, হত্যার পর আলামত নষ্টের চেষ্টাও করে অভিযুক্তরা। নিহতদের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মুছে ফেলতে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ফোন দুটি চুবিয়ে রাখা হয়।

 

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জসিট দেওয়া হবে। আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।’

 

একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুরো রংপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মিসবাহর ৯ বিয়ের অভিযোগ, কোনোটিরই নেই কাবিননামা-রেজিস্ট্রেশন

আলোচিত চরমোনাই পন্থী ইসলামি বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় এ মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন।   বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইবরাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   মামলার নালিশি অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে শরিয়াহ অনুযায়ী হাবিবুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিসবাহ’ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।   বাদীর অভিযোগ, বিয়ের সময় মিসবাহ তার আগের চারটি বিয়ের তথ্য গোপন রাখেন। পরে হুমায়রা জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিসবাহ মোট নয়টি বিয়ে করেছেন। এসব বিয়ের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি।   ঘটনার পর হুমায়রা জান্নাত যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতে এসে নালিশি মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।   এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এবিএম ইবরাহিম খলিল আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ বিরুদ্ধে আমার মক্কেল হুমায়রা জান্নাত যৌতুকের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। বাদী হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে হাবিবুর রহমান মিসবাহ পরিচয় হয় তার ওয়াজ মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের মাধ্যমে। পরে ফেসবুকে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের পরিচয় বাড়ে। একপর্যায়ে হুমায়রা জান্নাতকে যাত্রাবাড়ীতে নিজের বাসায় নিয়ে যান মিসবাহ। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আগে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।   আইনজীবীর দাবি, মামলার আবেদনে হাবিবুর রহমান মিসবাহর একাধিক বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত তার পঞ্চম স্ত্রী। এরপরও তিনি আরও চারটি বিয়ে করেছেন। এ হিসেবে তার মোট নয়টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাবিবুর রহমান মিসবাহ নিজেকে ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় জ্ঞানদাতা হিসেবে পরিচিত করেছেন। তিনি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য শুনে অনেক সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা তার প্রতি আকৃষ্ট হন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রচারের পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন।   আইনজীবীর দাবি, হাবিবুর রহমান মিসবাহ একাধিক বিয়ের পেছনে আর্থিক বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দিয়ে তিনি বড় অঙ্কের সম্মানী পান। বিভিন্ন জায়গায় তার নিজস্ব যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারের একটি কারণ হিসেবে তিনি একের পর এক বিয়ে এবং নারীর প্রতি দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী।   অ্যাডভোকেট ইবরাহিম খলিল বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি সমন জারি করেছেন। পরবর্তী তারিখে আসামি আদালতে হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যাবে।   তিনি আরও বলেন, হাবিবুর রহমান মিসবাহ কাবিন না করেই বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সন্তানও রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড: ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন পুলিশ কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথ, সাড়ে তিন বছরে চলেনি একটি ট্রেনও

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দফার চেয়ে তিন গুণ, কালুরঘাট ফেরির দর ৭ কোটি ১ লাখ

শনিবার দুপুরে ভাঙ্গা থানার সামনে ও ভেতরে এ ঘটনা ঘটে | ছবি: সংগৃহীত
ভাবিকে নিয়ে দেবর পালানোর ঘটনায় থানায় তুলকালাম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা থানার সামনে ও ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয়রা জানান, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচরা গ্রামের ইকরাম শেখ ও আব্দুল্লাহ শেখ দুই ভাই। বড় ভাই ইকরাম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ শেখ কৃষিকাজ করেন।   এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে পার্শ্ববর্তী সোনাখলা গ্রামের বাঁকা শেখের মেয়ে পূর্ণিমা আক্তারের সঙ্গে ইকরাম শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছোট ভাই আব্দুল্লাহ ভাবি পূর্ণিমাকে আনা-নেওয়া করতেন। এ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।   কয়েক মাস আগে ইকরাম শেখ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার শুরু করেন। এর মধ্যে গত বুধবার দুপুরে পূর্ণিমা আক্তার বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে দেবর আব্দুল্লাহর সঙ্গে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা তাদের দুজনকে সাভার থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।   শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা থানায় শালিস-মীমাংসার জন্য বসার আগেই পূর্ণিমা ও দুই ভাইয়ের মধ্যে টানাটানি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পূর্ণিমা দৌড়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় থানার ভেতরেও উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।   এদিকে পূর্ণিমা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নিয়মিত অত্যাচার করতেন। এ কারণে তিনি স্বামীর ছোট ভাই আব্দুল্লাহর সঙ্গে পালিয়ে যান। পরে জানতে চাইলে তিনি জানান, পালিয়ে গিয়ে আব্দুল্লাহকে বিয়ে করেছেন।   ওই নারীর বাবা বলেন, ‘মেয়েকে উদ্ধার করে বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় জড়ো হই। এ সময় থানা প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।   মারামারিতে আব্দুল্লাহ ও পূর্ণিমাসহ পাঁচজন আহত হন। পরে আব্দুল্লাহকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পূর্ণিমাকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার থানার গেটের সামনে এক ভাইয়ের স্ত্রীকে ছোট ভাই বিয়ে করেছে, এ বিষয়টি নিয়ে তারা হাতাহাতি করেছে বলে শুনেছি। একজন পালিয়ে থানার ভেতরে ঢুকে ছিল। পরে তাদের অভিভাবকরা নিয়ে গিয়েছেন। আমরা থানার ভেতরে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে তারা চলে গেছে। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
নিহতদের পুরোনো ছবি | সংগৃহীত

রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

খিলগাঁওয়ের রয়েল এইড হাসপাতালে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

স্বামীকে বাঁচাতে কিডনি দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, শোকে পাগলপ্রায় স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে গাছ কাটা বন্ধে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর এলাকায় ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ সংগঠনের ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।   বক্তারা বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে বর্তমানে সম্প্রসারণ বা উন্নয়নের কোনো কাজ নেই। অথচ বন বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে ইতোমধ্যে এক হাজারের অধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে উজাড় করছে। সওজের বক্তব্য এবং বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের এই সুস্পষ্ট বৈপরীত্য প্রমাণ করে যে, এটি উন্নয়নমূলক কোনো প্রয়োজন নয় বরং বন বিভাগের একটি অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিলে বৃক্ষ নিধনে মেতে উঠেছে।   বক্তারা বলেন, দুই বছর আগেও একইভাবে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন মানুষের প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। এবার সড়ক সম্প্রসারণ ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলে গাছ কাটা হচ্ছে।   অযৌক্তিকভাবে সাড়ে ৪ হাজার বৃক্ষ নিধনের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বক্তারা।   সমাবেশ থেকে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জের সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, গাছ কাটার নেপথ্যে বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষ নিধনে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।   হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এমডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসানসহ এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিরা।   গাছগুলো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে রোপণ করা হয়েছিল জানিয়ে বন বিভাগের সুনামগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় লোকজন এসব গাছের পরিচর্যা করেছেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। পরে সড়কের দুপাশে আবার গাছ লাগানো হবে।   হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলে দুই বছর আগে গাছগুলো রক্ষা পেয়েছিল। আবার গোপনে কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটার সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এখন নির্বিচারে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ না করলে আরও বৃহৎ পরিসরে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’   ক্যাপশন: সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬

টেকনাফে বাড়ছে হাম-ডেঙ্গু, আগস্টেই হাম আক্রান্ত ৭৬৬

কর্ণফুলীর তীরে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হবে পর্যটন জোন

দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

0 Comments