জাতীয়

একাধিক স্ত্রী থাকলে ধর্মীয়ভাবে সম্পত্তি ভাগ হবে যেভাবে

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
বাংলাদেশে মুসলিম আইনানুযায়ী, একজন পুরুষের একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী থাকতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে মুসলিম আইনানুযায়ী, একজন পুরুষের একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী থাকতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা আজফর হোসেনের দুই স্ত্রী। তবে প্রথম স্ত্রী বা তার সন্তানেরা দ্বিতীয় স্ত্রীর খবর জানতেন না। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগাভাগির সময় এই তথ্য প্রকাশ পায়।  

 

রাজধানী ঢাকায় চাকরি করার সময় ধানমন্ডিতে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন আজফর হোসেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই ইঞ্জিনিয়ারের নিজ জেলায় যেমন রয়েছে বিপুল সম্পত্তি, তেমনি মৃত্যুর পর ঢাকার সম্পত্তির কথাও জানতে পারেন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা।

 

তবে ঢাকায় শুধু ওই একটি ভবনই নয়, বরং আজফর হোসেনের আরও ফ্ল্যাট এবং প্লটের সন্ধান পায় পরিবার।

 

দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়ে, ছেলে নেই। 

 

২০২২ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজফর হোসেন মারা যাওয়ার পর প্রথমে ধানমন্ডির বাড়ির ভাগ নিয়েই সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন তার প্রথম স্ত্রীসহ স্বজনরা।

 

কেননা কাগজে কলমে ওই পাঁচতলা বাড়িটি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি ও নামজারি করা।

 

আজফর হোসেনের প্রথম স্ত্রী সেলিনা হোসেন জানান, মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী, যেহেতু তার ছেলে সন্তান নাই, তাই এখন মৃত স্বামীর সব সম্পত্তিতে তার তিন মেয়ের ভাগ কমে যাবে। কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী আর তার ছেলের ভাগেও সম্পত্তির অংশ যাবে।

 

যে গল্পটি এতোক্ষণ পড়লেন, সেটি একটি মুসলিম পরিবারের। প্রতিবেদন বিবিসি বাংলার। 

 

অনেকেরই হয়তো কৌতুহল হচ্ছে যে, তাহলে কোনো পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের উত্তরাধিকার আইনে কীভাবে সম্পত্তি বণ্টন করার কথা বলা হয়েছে? স্বামীর সম্পত্তি কোন স্ত্রী কতটুকু পাবেন?

 

একাধিক মুসলিম বিধবা স্ত্রীর অধিকার

বাংলাদেশে মুসলিম আইনানুযায়ী, একজন পুরুষের একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী থাকতে পারবে। এর বেশি হলে অর্থাৎ চারজনের পরে পঞ্চম বিয়ে করলে সেই বিয়ে বাতিল হবে না, কিন্তু ‘অনিয়মিত বিয়ে’ বলে গণ্য করা হবে।

 

আইনজীবীরা জানান, একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগে তার সম্পত্তির ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার তৈরি হয় না।

 

অর্থাৎ ওই ব্যক্তি জীবিত থাকাবস্থায় নিজেই সব সম্পত্তির মালিক। তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তি বিক্রি বা হেবা বা দান করতে পারেন নিজের ইচ্ছায়।

 

মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার তৈরি হয়।

 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মুসলিম একজন পুরুষের স্ত্রীর সংখ্যা স্বামীর সম্পত্তিতে তার অংশের পরিমাণকে প্রভাবিত করে।

 

স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর উত্তরাধিকার বন্টন নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

 

স্ত্রী কতজন, সন্তান আছে নাকি নেই, কতজন সন্তান, সন্তান ছেলে না মেয়ে এমন নানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই সম্পত্তি বন্টন করা হয় বলে জানান উজ্জল ভৌমিক।

 

আবার কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে তালাক দেন, কিন্তু সেই ঘরে সন্তান থাকে তবে সেই সন্তান ওই ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সম্পত্তির ভাগ নয়, বরং যদি পাওনা থাকে তবে দেনমোহর ও খোরপোশ পাবেন। 

 

সন্তান থাকলে স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর ভাগ

আইনানুযায়ী, স্ত্রীর সংখ্যা এক বা একাধিক হোক, সবাই মিলে স্বামীর সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ পান।

 

আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান থাকে তাহলে বিধবা স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রীসহ সবাই মিলে স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন।

 

অর্থাৎ স্ত্রী একজন বা চারজন যতজনই থাকুক না কেন, স্বামীর সম্পত্তির আটভাগের একভাগই সবার মধ্যে বণ্টন হবে।

 

একজন থাকলে তিনি একাই ওই অংশ পাবেন। একাধিক থাকলে সবার মধ্যে সমবণ্টন হবে বলে জানান উজ্জল ভৌমিক।

 

সন্তান না থাকলে সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রীর অংশ

যদি সন্তান না থাকে সেক্ষেত্রে একজন স্ত্রী অথবা একাধিক স্ত্রী থাকলে সবাই মিলে মৃত স্বামীর মোট সম্পত্তির চার ভাগের একভাগ অংশ পাবেন বলে জানান আইনজীবীরা।

 

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বা তার সন্তান কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক জানান, যদি তালাক হয়, তবে সেই স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার বঞ্চিত হন।

 

তবে আইনানুযায়ী, দেনমোহর এবং ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ পাবেন তিনি।

 

তবে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ঘরে মৃত স্বামীর ঔরসজাত সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন। 

 

স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার

বাংলাদেশে হিন্দু আইন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সাধারণত দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

 

ঐতিহাসিকভাবে, হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অধিকার খুবই সীমিত ছিল বলে জানান আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক।

 

একজন হিন্দু পুরুষের একাধিক বিয়েতে বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

 

তবে, প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন অন্য স্ত্রীদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন আইনজীবীরা।

 

আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, একজন হিন্দু পুরুষ স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। কিন্তু কেবল প্রথম স্ত্রীই আইনগত বৈধতা পাবেন। দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর আইনগত স্ত্রী হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পান না। কোনো আইনি অধিকার যেমন ভরণপোষণ বা সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাবি করতে পারবেন না।

 

উজ্জল ভৌমিক জানান, প্রথম বিয়ে বলবৎ থাকাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে আইনগতভাবে অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

 

একইসাথে এই স্ত্রীর সন্তানরা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু ভরণপোষণ পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে।

 

একইসাথে দ্বিতীয় বিয়ের অপরাধে হিন্দু ওই পুরুষ ফৌজদারি শাস্তির অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক।

 

তিনি বলেন, হিন্দু পুরুষটি দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী দ্বিবিবাহের বা বাইগ্যামির অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।

 

হিন্দু আইনানুযায়ী, স্বামীর জীবিত থাকলে তার সম্পত্তির ওপর স্ত্রীর কোনোরকম অধিকার থাকে না। কেবল ভোগ করতে পারবেন।

 

ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর হিন্দু বিধবা একজন স্ত্রী তার এক ছেলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পাবে, সেই সমান অংশ জীবনস্বত্ত্ব পাবেন।

 

অর্থাৎ, তিনি নিজের জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন, কিন্তু হস্তান্তর করতে পারবেন না। এমনকি নিজের সন্তানকেও দান করতে পারবেন না।

 

তবে আইনগত প্রয়োজন যেমন: স্বামীর শ্রাদ্ধ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, দেনা পরিশোধ, নিজের ভরণপোষণ এবং সন্তান থাকলে তার ভরণপোষণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি প্রয়োজনে বিধবা হিন্দু নারী স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন।

 

তিনি মারা যাওয়ার পর এই সম্পত্তি বিধবা সম্পত্তি বা উইডোজ এস্টেট হিসেবে মৃত স্বামীর পুরুষ উত্তরাধিকারের দখলে চলে যাবে বলে জানান আইনজীবীরা।

 

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আরেকজন আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, কোনো ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে প্রত্যেক স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের সমান অংশ করে সম্পত্তি জীবনস্বত্ত্বে ভোগ দখল করবেন।

 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, যদি দশজন পুত্র থাকে তারা যে অংশটা পাবে, মাও সেই এক ছেলের সমান পাবেন। 

 

খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মে কী বলা হয়েছে?

খ্রিস্টান ধর্মে একাধিক বা বহুবিবাহের অনুমতি নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

 

বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলা পিডিয়ায় বলা হয়েছে, কোনো দেশীয় খ্রিস্টানের স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে ওই ব্যক্তি অপর কোনো দেশীয় খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারে না।

 

আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জানান, খ্রিস্টান আইনে দ্বিতীয় বিবাহের কোনো অনুমতিই নাই। কারণ চার্চ এটা অনুমোদন করে না।

 

তবে, খ্রিস্টান একজন স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তির অংশ পান। তিনি একজন ছেলের সমান ভাগ পান বলে জানান প্রশান্ত কর্মকার।

 

উজ্জল ভৌমিক ও প্রশান্ত কুমার কর্মকার দুইজন আইনজীবীই জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বৌদ্ধরা হিন্দু আইন অনুসরণ করে থাকে।

 

ফলে সেই হিসেবে একজন বৌদ্ধ পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু সম্পত্তির উত্তরাধিকার পান না প্রথম স্ত্রী ছাড়া অন্য স্ত্রীরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের সহকারী পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নাটোরে আবু হুরায়রা (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, তিনি একসময় সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।   আবু হুরায়রা নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াউদ্দিনের ছেলে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নাটোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরিফুল হক।   পুলিশ সুপার জানান, আবু হুরায়রা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব মো. আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন তিনি। পরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, বিএনপির রাজনৈতিক পদে পদায়ন কিংবা মনোনয়ন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হতো।   এ ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে আবু হুরায়রা ও তার সহযোগীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গণি চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক পদে পদায়নের জন্য একটি ফরম পূরণের কথা বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   এ ছাড়া একজন ব্যারিস্টারের কাছেও একই কৌশলে অনলাইনে ফরম পূরণ এবং রাজনৈতিক পদে পদায়নের আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব মো. আতিকুর রহমান রুমনের নজরে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। পরে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আবু হুরায়রাকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।   আগেও প্রতারণার অভিযোগ পুলিশ সুপার মো. শরিফুল হক জানান, আবু হুরায়রা ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতারের রংপুর কেন্দ্রে রেডিও টেকনিশিয়ান হিসেবে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। রংপুরে দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের প্রতারণার মামলায় তিনি বরখাস্ত হন বলে দাবি পুলিশের। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সাইবার সুরক্ষা আইন ও প্রতারণাসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।   পুলিশের দাবি, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করাই ছিল এই চক্রের উদ্দেশ্য। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কত টাকা আদায় করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিশুহত্যার আসামির বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, এবার সরানো হচ্ছে ধ্বংসাবশেষও

ছবি: সংগৃহীত

বাঁশখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ১০ জনকে শনাক্তের দাবি পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত : যুবমিশনের সভায় ডাঃ ইরান

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও মাদকের ভয়াবহতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।   তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথভাবে পরিচালনায় ব্যর্থতা, দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির কারণে দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও হত্যাকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তারও সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।   আজ (শনিবার) বেলা ২ টায় বাংলাদেশ যুব মিশনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।   যুব মিশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সালমান খান বাদশার সভাপতিত্বে রাজধানীর ২৭/৮এ তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলাম সোহাগ, মহানগর যুগ্ম আহবায়ক এনামুল ইসলাম সজীব, সাংগঠন সচিব মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মহানগর সদস্য মোঃ আদেল উদ্দীন ও মোঃ পাভেল মাহমুদ প্রমুখ।   ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ চুরির ভয়ে রাতে ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের গরু-বাছুর ও হাঁস-মুরগি চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করতে রাতভর গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির কাছেই অবস্থান করছেন। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের জন্য এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।   তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। অথচ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়াচ্ছে। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।   সভাপতির বক্তব্যে সালমান খান বাদশা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, মাদক নির্মূল এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে। পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।   সভায় বাংলাদেশ যুব মিশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে সামাজিক অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যখাতের সংকট নিরসনে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
চাঁদাবাজি ঠেকাতে পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল মনে করে মানুষ। গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে কাজ করছে পুলিশ।   শনিবার খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইজিপি।    আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।    আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, জানালেন শামা ওবায়েদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা টোকিওর

ছবি: সংগৃহীত

২৫২ টাকার পাঞ্জাবি অফার নিয়ে মুখ খুললেন নবীন, জানালেন আসল কারণ

0 Comments