বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে এভিয়েশন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তার আয়োজনে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক হাবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়ন, যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি দেশের বিমানবন্দরকে অনেক সময় সেই দেশের ‘আয়না’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে এভিয়েশন খাত যে অবস্থায় রয়েছে, সেখান থেকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, নদী, সমুদ্র, বনসহ পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক সম্পদ দেশে থাকলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা হয়নি। এ কারণে পর্যটন ও এভিয়েশন—দুই খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব গড়ে তুলতে উন্নত বিমানবন্দর, আধুনিক কার্গো সুবিধা, উন্নত যাত্রীসেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের অন্যান্য অবকাঠামো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন নিয়ম ও বিধি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
মন্ত্রী বলেন, যেসব বিধিনিষেধ এভিয়েশন খাতের অংশীজনদের কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ইতিবাচক সংস্কারের উদ্যোগ চলছে। নতুন বিধিমালা তৈরির ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি এশিয়া এয়ারের কার্যক্রম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সেখানে তিনি উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত (এমআরও), অপারেশন এবং টার্নঅ্যারাউন্ড ব্যবস্থাপনা দেখেছেন। অল্প সময়ে এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ে কীভাবে উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়টিও তিনি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
বাংলাদেশে উড়োজাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বর্তমানে কোনো উড়োজাহাজে বড় ধরনের সমস্যা হলে তা মেরামতের জন্য ভারত বা সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয় বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরেই এ ধরনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সিভিল এভিয়েশন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
এ ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে নিয়মগুলো সহজ ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে। বিশেষ করে উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের এভিয়েশন খাতকে ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার সমস্যাও আগের তুলনায় কমেছে।
তিনি জানান, আগে যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। দ্রুত যাত্রী ও কার্গো খালাসের নির্দেশনা দেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো যাত্রীকে লাগেজের জন্য ৪০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে বডি-ওন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার প্রকল্পটি বাতিল করলেও বর্তমান সরকার এটি পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্প বাতিলের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জাপানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে। জাপানের মন্ত্রিপর্যায়ের প্রতিনিধি, এভিয়েশন অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের স্বার্থে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশের স্বার্থকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের স্বার্থকে আগে দেখতে হবে। বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই সক্ষমতা বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি যাত্রীতে উন্নীত হবে।
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এবং টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক।
‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন।
সম্মেলনে এভিয়েশন খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পাবনার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এবার বাড়িটির অবশিষ্ট মাটি, ইট ও বালুও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ মানুষের এমন কর্মকাণ্ড ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মামলার অভিযোগপত্র জমা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির স্বজনেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্তও বাড়ির ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছিল। শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একসময়কার দোতলা বাড়িটির আর কোনো অবয়ব অবশিষ্ট নেই। বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাটির নিচে থাকা ভিত্তির রডও কেটে নেওয়া হয়েছে। ইট ও বালু বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাড়ির মাটি সরানোর কাজে যুক্ত শ্রমিক সলিম প্রামাণিক বলেন, মোস্তফা যে অপরাধ করেছে, তার শাস্তিস্বরূপ বাড়িটি আর রাখা হয়নি। এখন সেখানকার মাটি রাস্তা নির্মাণ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জায়গাটিতে পুকুর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, অভিযুক্তের বাড়ির কোনো চিহ্নই রাখা হবে না। ইট-বালু কিছুই সেখানে থাকবে না। জায়গাটিতে পুকুর করা হবে, যা অপরাধের পরিণতির স্মারক হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে বাড়ি ভাঙার কাজ প্রায় শেষ হলেও মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা না দেওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নিহত শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। এত দিনে তা জমা হওয়ার কথা ছিল। প্রশাসনের কাজে গাফিলতি রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, বাড়িটি ভেঙে ফেলা হলেও মামলার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। তার পরিবারের দাবি, অর্থের বিনিময়ে যেন এই নৃশংস অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে। দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যেভাবে সামনে আসে শিশুহত্যার ঘটনা পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের নামাজের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের দাবি, ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্তরা নিজেরাও শিশুটিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। মামলার আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের এখন একটাই প্রত্যাশা—তদন্ত দ্রুত শেষ হোক, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে হাম উপসর্গ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৬৫ জন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৪ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৫১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৩২৪ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারপ্রধানের সফরের ঠিক আগে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে থাকছেন না টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। তাকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ কে সামনে রেখে দেশের ৩৩টি নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাদের উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত জাতীয় অবস্থানপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ ও জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন তারেক রহমান। জাপান সফর নতুন বিনিয়োগ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করেন প্রতিমন্ত্রী। কপ-৩১ এ পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরার কথা জানিয়ে শামা ওবায়েদ জানান, সীমিত বাজেট নিয়েও বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজনে কাজ করে যাচ্ছে। কপ-৩১ এ জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অভিযোজন ও প্রশমনে সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এই সহায়তা মূলত অনুদান হিসেবে আসতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ঋণের বোঝা আরও না বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি মোকাবিলায় একটি ফান্ড দরকার।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছুতে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর আনতে হবে। যাতে বৈশ্বিক পরিমণ্ডল, নেগোসিয়েশন টেবিল থেকে কিছু নিয়ে আসতে পারি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম করেছে। যুব সমাজের যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন তাদের ইন্টিগ্রেট করার সুযোগ আছে।’