ভ্রমণের নতুন গন্তব্য খুঁজতে এবং ছুটির পরিকল্পনা করতে জেনারেশন জেডের (জেনজি) বড় একটি অংশ এখন টিকটকের ওপর নির্ভর করছে। ইউরোপের তিন দেশ স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ জেন-জি ভ্রমণকারী টিকটক থেকে ভ্রমণের অনুপ্রেরণা পান। সম্প্রতি ইউরোনিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।
টিইউআই মিউজমেন্টের এই গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকটক এখন বন্ধু ও পরিবারের পরামর্শকেও ছাড়িয়ে গেছে। বন্ধু ও পরিবারের পরামর্শকে ভ্রমণের অনুপ্রেরণার উৎস বলেছেন ৪৩ শতাংশ জেন-জি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব শুধু গন্তব্য বাছাইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। গবেষণায় অংশ নেওয়া মোট ভ্রমণকারীর ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, কোনো ভাইরাল পোস্ট বা ভিডিও দেখে তারা ভ্রমণ বা কোনো পর্যটন কার্যক্রম বুক করেছেন। মিলেনিয়ালদের ক্ষেত্রে এই হার ৫২ শতাংশ এবং জেন-জিদের মধ্যে ৫০ শতাংশ।
ভ্রমণ-ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবও বাড়ছে। ৪৩ শতাংশ ভ্রমণকারী বলেছেন, তারা কোন দেশে বা কোন জায়গায় যাবেন, তা নির্ধারণে অনুসরণ করা কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রভাব রয়েছে। এমনকি ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের পরামর্শে তারা ভ্রমণের গন্তব্যই পরিবর্তন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ভ্রমণস্থলে পৌঁছানোর পরও থাকে। গবেষণায় ৩৭ শতাংশ ভ্রমণকারী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার চাপ তারা অনুভব করেন। জেন-জিদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, ৪৫ শতাংশ।
ছবি ও ভিডিও তোলার জন্যও অনেকে নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছেন। ৩৯ শতাংশ ভ্রমণকারী জানিয়েছেন, তারা কোনো পর্যটনস্থলে মূলত ছবি তোলা বা ভিডিও করার জন্য গেছেন। আর ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তারা কখনো কখনো কম পরিচিত জায়গার বদলে ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বেছে নেন।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি জায়গার ভিডিও সহজেই চোখের সামনে চলে আসে। সেখানে গিয়ে মানুষ কী করছে, জায়গাটা দেখতে কেমন, কী খাওয়া যায় বা কীভাবে সময় কাটানো যায়; এসব দেখা যায়। এসব কারণে মানুষ এখন কোথায় যাবে, কী করবে এবং সেখানে গিয়ে কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে। সেসব সিদ্ধান্তেও বড় ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে এমএসভি আল জুসুফি নামের একটি জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা অন্য ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটিতে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজটিতে হামলা হয়। এতে আহত এক নাবিক পরে মারা যান। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দ্রুত দেশে ফেরানো এবং নিহত ব্যক্তির মরদেহ ভারতে পাঠানোর বিষয়ে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। দূতাবাস পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে বৈঠকে বসেন কোয়াডভুক্ত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। চলতি বছর এটি ছিল তাদের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে মে মাসে ভারতের নয়াদিল্লি এবং জুলাই মাসে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোয়াড নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন। চলতি মাসের শেষ দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর থেকেই সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এটিই হবে কোয়াড নেতাদের প্রথম শীর্ষ বৈঠক। এ কারণেও সম্মেলনটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সম্ভাব্য ‘জি-৩’ মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যানিলার সম্মেলন কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শীর্ষ সম্মেলন না হলেও ২০২৬ সাল কোয়াডের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে জোটটির অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ অক্টোবর আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো ও স্থাপনা গড়ে তুলতে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব উদ্যোগকে কোয়াডের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। আটলান্টার বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো নির্বিচার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারভিত্তিক নয়, এমন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এসব নীতি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ঘোষিত ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কোয়াড। বর্জ্য থেকে এসব খনিজ সংগ্রহে সহযোগিতার মাধ্যমে জোটটি এ খাতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব বাড়াতে চায়। ভারতের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন ও পরিশোধনে নিজস্ব সক্ষমতা জোরদার করতে পারবে দেশটি। ২০২৬ সালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতার পাশাপাশি জোটটি নিজেদের আসিয়ানের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। জুলাই মাসে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সমর্থন জানায়। আগে কোয়াডের বিভিন্ন বিবৃতিতে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বলা হলেও, এবার আসিয়ানের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে কোয়াডের কার্যক্রম আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সেই দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর হয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসুও বলেছেন, ম্যানিলার বৈঠক কোয়াডের পক্ষ থেকে আসিয়ানের ঐক্য ও কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। গত সপ্তাহে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চার দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। এর লক্ষ্য বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো। এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে বৈঠক করবে। বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত তেল মজুত বাড়াতে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড জ্বালানি নিরাপত্তা ফোরাম’ আয়োজন করা হয়। হরমুজ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে এ উদ্যোগের গুরুত্ব বেড়েছে। এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের পর্যায়ে ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম কম থাকায় ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ রয়ে গেছে। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে মে মাসের নয়াদিল্লি বৈঠকে নেওয়া কয়েকটি উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ‘কোয়াড-অ্যাট-সি’ জাহাজ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় মহড়া। কোয়াডের ভবিষ্যৎ ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, ২০২৬ সালে জোটটির কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। নয়াদিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টায় তিনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলো অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে কোয়াড নিজের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে। এখন এই উদ্যোগগুলোকে আরো কার্যকর ও সুসংহত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মিয়ানমারের চারটি শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এতে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। সোমবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, রোববার রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যের চারটি শহরে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কিয়াউকতাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ শহরের আবাসিক এলাকা এবং একটি মাতৃসদন। এসব হামলায় রাখাইন রাজ্যে ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। এর আগের দিন শনিবার কারেন্নি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। ছুটির দিনে ওই স্কুলে শিশুদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক একটি কর্মসূচি চলছিল। হামলায় তিন শিশু নিহত হয়। আহত হয় আরও আটজন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও প্রতিরোধগোষ্ঠী। এদিকে রাখাইন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বসবাস। প্রধানত মুসলিম এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন পক্ষের নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।