জাতীয়

রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল, সতর্ক থাকার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক থাকুন।

 

শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

 

বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

উপস্থিত জন সাধারণের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির নামে যদি কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, রাজনীতির নামে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় আপনারা কি বসে থাকবেন? আমরা কেউ বসে থাকবো না। শক্ত হাতে প্রতিহত করবো।

 

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।

 

চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এরপর ল্যাপটপের বাটন টিপের সাথে সাথে চাঁদপুরসহ আরও ২০টি জেলার সুবিধাভোগী (১৫ হাজার নারী) প্রত্যেকের কাছে নগদ অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) চলে যায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে। আর এ লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।

 

প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সময় কাজ করার, এখন সময় দেশ গড়ার। তাই আসুন দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়ি। এই জনসভায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই যাতে আমাদের দেশ গড়ার পথে কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

 

তিনি বলেন, আসুন আমরা এই শর্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

 

এ সময় চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান।

 

দেশের মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করছে। আজকে আপনাদেরকে সামনে রেখে আমি পরিষ্কার ভাবে বলে দিতে চাই, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই আমরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছি। এই সকল প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমিকভাবে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

 

ফ্যামিলি কার্ডের এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

 

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম এবং সমাজ কল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।

 

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
টানা বর্ষণে যশোরে ফের জলাবদ্ধতা, প্লাবিত ২২০ মাছের ঘের

টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিতে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে মাছের ঘের, আবাদি জমি এবং নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি। এতে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।   অভয়নগর উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ৫০৩ হেক্টর আয়তনের ২২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এতে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।   উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, অনেক ঘেরের পাড় ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। পানি আরও বাড়লে ঘের থেকে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।   এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৩৭ হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা, চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, সিদ্ধিপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমের চাষাবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাছের ঘেরের পাড় পানিতে ডুবে গেছে। অনেক চাষি মাছ রক্ষায় ঘেরের চারপাশে বাঁশ ও জাল বসানোর চেষ্টা করছেন। মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামে বাড়ির উঠানেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিল ও খাল উপচে পানি ঘেরে প্রবেশ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।   মাছচাষি রনি মণ্ডল জানান, আগেভাগে জাল কেনা হলেও হঠাৎ পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তা বসানোর সুযোগ পাননি। এর মধ্যে জালের দামও বেড়ে গেছে, যা তাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে।   ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় আগের বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নদী খননের কাজ শেষ হলেও পর্যাপ্ত পানি অপসারণ হচ্ছে না, আর বিকল্প নিষ্কাশন পথ আমডাঙ্গা খালের সংস্কারও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।   কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ দ্রুত আমডাঙ্গা খালের সংস্কার, সব স্লুইসগেট সচল রাখা এবং কার্যকর টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালুর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বছরের মতো এবারও ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৮, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

সরকারের ৫ মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

ছবি : সংগৃহীত

২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি কিনছে সরকার, চুক্তির দামের চেয়ে ৫০% বেশি ব্যয়

ছবি : সংগৃহীত

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

ছবি : সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার বিজয় দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

’২৪ এর জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেন, ১৬ জুলাই পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের শাহাদাৎ বরণের মধ্যদিয়ে ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। যখনই কোনো দল দেশের স্বাধীনতা বা অর্জনকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে চেয়েছে, তাদের কিন্তু পালিয়ে যেতে হয়েছে।   শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।    ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে এই সব কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মনে করি না যে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা যা বলব তাই হবে। এ দেশের মানুষ যা চায়, তাই হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে আমরা সব দল একসাথে কাজ করব।    এছাড়াও রাজনৈতিক সহকর্মীদের আশ্বস্ত ও হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইতিহাস পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নয়, বিএনপির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস নয়। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে যে দল গড়ে উঠেছে এবং বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন আপসহীন থেকে দেশের মানুষের অধিকারের লড়াই পরিচালনা করেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থেকেও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন; সেই দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করবে।   অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মো. শামীম হোসেন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার মিলন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজার রহমান লাবলু প্রমুখ।    আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ফাইল ছবি

১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার : জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ভালুকায় মাদকের অভিযোগে মা-ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিল জনতা, বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

ছবি: সংগৃহীত

বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামে বাড়ছে সবজির দাম, সরবরাহ সংকটে বাজার

ছবি: সংগৃহীত
চন্দনাইশে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভিড়ে মঞ্চ ধস, অক্ষত অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত নেতা-কর্মীর ভিড়ে মূল মঞ্চ ধসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মঞ্চে থাকা কেউ আহত হননি।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দোহাজারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী আসার আগেই মঞ্চে নেতা-কর্মীদের ভিড় বেড়ে যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মাইকে মঞ্চে অতিরিক্ত লোক না ওঠার অনুরোধ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।   পরে অর্থমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে সেখানে উঠে পড়লে অতিরিক্ত চাপের কারণে মঞ্চের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে অনুষ্ঠানস্থলে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি।   চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান বলেন, পুরো মঞ্চ ধসে পড়েনি; টেবিলের কয়েকটি পায়ের অংশ বসে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরও অর্থমন্ত্রী মঞ্চেই অবস্থান করে কয়েকজন বন্যার্তের হাতে ত্রাণ তুলে দেন এবং পরে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।   ঘটনার সময় মঞ্চে উপস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ মঞ্চে ওঠায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, মাইকে বারবার সতর্ক করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনায় এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, মাদক ও ভারতীয় পণ্যসহ আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধনের পক্ষে বিএনপি, সংস্কারের কথা বলিনি : মির্জা ফখরুল

বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

0 Comments