ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে গণভোট। এবারের গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ী হলে সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
আজ সকালে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত জেলা ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ সম্মেলন আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে। একটি সাদা, অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সবাই তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। গোলাপি রঙের ব্যালটে জুলাই সনদের পক্ষে - বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়বদ্ধতা থেকে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট প্রদানে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে সরকার।
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এদেশে একবার কেউ ক্ষমতায় যেতে পারলে ছলেবলে কৌশলে, প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। গণভোটের মাধ্যমে এরূপ হীন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে। রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির জাগরণ ঘটবে।
দেশের চাবি আপনার হাতে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি সরকারি দল ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। আপনারা গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে থাকলে আগামীতে কোনো সরকার দলের প্রয়োজনে ইচ্ছামাফিক সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। সংবিধানের মৌলিক কোনো পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে গণভোট আবশ্যক হবে। এছাড়া, মহান জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হবে। ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংসদে এরূপ উচ্চকক্ষ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ভোটের গাড়ি 'সুপার ক্যারাভান' এর মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য প্রচার করা হয়।
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুজ্জামান, জেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়র মাহমুদ বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) ছাদেক আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সহস্রাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপদেষ্টা গণভোটের কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. ফারুক আলম ও জেলা নির্বাচন অফিসার দীপক কুমার রায় বক্তব্য প্রদান করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাবনার সুজানগরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপ এবং মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে পরদিন সকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর চালায়। পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার বিষয়ে ইসলাম প্রামাণিক ও রাফিউল ইসলাম রাজা—দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। রাফিউল ইসলাম রাজা দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এটি তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা। অন্যদিকে ইসলাম প্রামাণিক অভিযোগ করেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার গ্রুপের ওপর হামলা চালানো হয় এবং গুলিতে একজন নারী নিহত হন। মানিকহাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগের রাত থেকেই উত্তেজনা চলছিল এবং সকালে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যেকোনো সময় পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কোম্পানিগুলো থেকে সরবরাহ করা দৈনিক তেল দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অনেক স্থানে তেল নিতে এসে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পাম্পের কর্মচারীরাও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় বিরামহীন কাজের কারণে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল পরিবহনের সময় ট্যাংকার লুটের আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সংগঠনটির অভিযোগ, জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ‘ওয়ান ডিজিটে’ নামিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, অটোমেশন ও ই-সেবা চালুর মাধ্যমে মানবিক নগদ লেনদেন কমিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। রোববার (২২ মার্চ) বন্দর নগরী চট্টগ্রাম নগরীর চটেশ্বরী রোডস্থ প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আমরা ভূমি অফিসগুলোকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। হিউম্যান ক্যাশলেস সিস্টেম বা সরাসরি অর্থ লেনদেনহীন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা গেলে ভূমির কাজে দুর্নীতি ও মালিকদের হয়রানি একেবারেই কমে আসবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে ভূমি মালিকদের রেকর্ডপত্র বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য আর সশরীরে অফিসে ভিড় করতে হবে না। নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে নামজারি ও জমা-খারিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। চট্টগ্রামের ভূমি সেবা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ ভূমি অফিসে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত নেই। সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-সেবার মান যুগোপযোগী করার কাজ করছে। হাটহাজারী ভূমি অফিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কোনো ক্যাশ ট্রানজ্যাকশন হয় না। একইভাবে পুরো ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় হলে ভূমি অফিসগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হবে। ব্যারিস্টার মীর হেলাল স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন চায়। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।