দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টার্গেট কিলিংয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই রাজনৈতিক কারণে অন্তত ১০৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪ মাসে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর কমপক্ষে ১৭১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১২০ জন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বড় অংশ বিএনপির নেতা-কর্মী। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ২৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিকাংশ ঘটনা দলীয় অন্তঃকোন্দলে সংঘটিত হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলেও রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্বৃত্তদের হামলায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। তখন নিহতের তালিকায় এগিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা বেশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির অন্তঃকোন্দলগুলোতে ৫৭৭টি ঘটনার মধ্যে ৮৮ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে ২২১ জনের মধ্যে ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে নিহত ৩৮ জনের মধ্যে ১২ জনই অন্তঃদলীয় সহিংসতায় মারা গেছেন। জামায়াত কর্মীরা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ (৭৪ জন) ছিলেন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতায় টিকে থাকতে খুন-খারাবির ঘটনা সাধারণ। যারা ক্ষমতায় আসার জন্য প্রস্তুত, তাদের নেতা-কর্মীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একই কারণে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। এটি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবেও করা হতে পারে, যাতে নির্বাচন পিছিয়ে যায়। এই ধরনের ঘটনা গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তেলবাহী ওয়াগন ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট শিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এবং সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে চলবে স্পেশাল ট্রেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সিলেট-ঢাকা রুটে এই বিশেষ ট্রেন চলবে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রেলওয়ে জানায়, গত বুধবার রাতে ওয়াগন দুর্ঘটনার ফলে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিলেট ছেড়ে যেতে পারেনি। তা ছাড়া শুক্রবার কালনী এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ। এতে ঢাকাগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা নিরসনেই এ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র অনুযায়ী, বিশেষ এই স্পেশাল ট্রেনটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। পথিমধ্যে কেবল চারটি প্রধান স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে কুলাউড়া, ১০টা ১৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল, ১০টা ৫০ মিনিটে শায়েস্তাগঞ্জ এবং দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে এবং দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি গন্তব্যস্থল ঢাকায় পৌঁছবে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর এ পথে ১৬ ঘণ্টা ধরে বন্ধ রয়েছে রেল যোগাযোগ। বুধবার রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জানিয়েছেন, দেড় ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ দুপুর আড়াইটার মধ্যে এ রুটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে পারে। অন্যদিকে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার পর রেল যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে জোরেশোরে কাজ চলছে। একটি বগি সেতুর নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। এছাড়া বাকি বগি ও রেললাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির অন্তত ছয়টি তেলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের জমিতে গিয়ে পড়ে। কিছু বগি দুমড়েমুচড়ে গেছে। একটি ওয়াগন পাশের একটি সেতুর নিচে খাদে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর ওয়াগনগুলো ফুটো হলে তেল বের হয়ে আশপাশের মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার পর রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল রিলিফ ট্রেন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও মেরামত কাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও বগি সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে রাতভর কাজ চালিয়ে যান সংশ্লিষ্টরা। মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম জানান, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। উদ্ধার কাজ চলছে। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে এদিকে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেককেই টিকিট ফেরত দিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের যাত্রী সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য আগেই টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ওসি খাইরুল ইসলাম তালুকদার জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বিজিবি, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। রেলওয়ের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা! রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের অতিরিক্ত গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লাইনচ্যুত ওয়াগনের তেল লুটপাট ঠেকাতে সক্রিয় বিজিবি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর রাত থেকেই কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে লাইনচ্যুত ওয়াগন থেকে তেল সংগ্রহ করতে শুরু করে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেয়। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মোর্শেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা রাত থেকেই উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ সময় ছড়িয়ে পড়া তেলের মধ্যে প্রায় ১ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। লুটপাট ঠেকাতে তারা সক্রিয় ছিলেন।
ওমরাহ হজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ বছর বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া খানদিঘি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওবায়েদ উল্যাহ কক্সবাজারের ঈদগাহ উপজেলার ঈদগড় এলাকার সামছুল আলমের ছেলে। আহতরা হলেন, ওবায়েদের মা ইয়াসমিন আক্তার, বোন ফাহিমা আক্তার, ফাহিমার স্বামী ইয়াছির আরাফাত এবং চাচাতো ভাই ইয়াছির আরাফাত। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ৫ সদস্য সৌদি আরব থেকে ওমরাহ হজ শেষে দেশে ফিরে মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারে গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশে বিলে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা সদরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।