অন্যান্য

প্রতীক বরাদ্দ আজ, কাল থেকে মাঠে নামছেন প্রার্থীরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা মাঠে নেমে শুরু করবেন সরাসরি নির্বাচনী প্রচার, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চলবে।

 

গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা। যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা সরে গেছেন। এখন মাঠে রয়েছেন কেবল চূড়ান্ত প্রার্থীরা। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা মাইকিং, পথসভা, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠবেন। শীতের আবহে দেশজুড়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে বসতঘর—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন ভোট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের বল পুরোপুরি মাঠে গড়াল। কে হাসবেন শেষ হাসি আর কার গলায় উঠবে জয়ের মালা—তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিনের।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে জমা পড়ে ২ হাজার ৮৫টি মনোনয়নপত্র। যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নতুন তপশিল ঘোষণার কারণে ওই দুই আসনের কয়েকজন প্রার্থী এ তালিকার বাইরে থাকবেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। বিভিন্ন দলের ১২ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। কিছু আসনে জোটগত সমঝোতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একাধিক আসনে জোটের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। রাজশাহীর ছয়টি আসনে তিনজন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে পাঁচজন, নরসিংদীতে একাধিক আসনে কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। নরসিংদীর একটি আসনে দলীয় কর্মীদের বাধার মুখে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি বলেও জানা গেছে।

নওগাঁর ছয়টি আসনে চারজন, দিনাজপুরের ছয়টি আসনে পাঁচজন, শরীয়তপুরের তিনটি আসনে দুজন, ঝালকাঠির দুইটি আসনে চারজন এবং মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বিভিন্ন জেলায় জোটগত সিদ্ধান্ত, দলীয় সমঝোতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

 

প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে এখন শুরু হচ্ছে ভোটের মূল লড়াই। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা তুলে ধরবেন নিজেদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি। কে কতটা সফল হবেন—তা নির্ধারণ করবে ব্যালটের রায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ডিসিশন এখনো দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অতএব এটা পার হয়ে যায়নি, আমাদের হাতে আছে বিষয়টি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তি নিয়ে আপনাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় এখনো আছে। সামনে আরও প্রশ্ন করবেন। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনায় আনছি। এ জন্য একটি কমিটিও করব। সাত কলেজ (ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি) নিয়ে তড়িঘড়ি করেছে কি করেনি, সেটা আমরা পর্যালোচনা করব। এগুলো নিয়ে আমাদেরকে একটু সময় দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিগত দিনে আপনাদের সাহযোগিতা নিয়েই নকল প্রতিরোধ করেছিলাম। এবারও আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনও বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে। আমরা একই প্রশ্নে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের বৃত্তি পরীক্ষা নেব। গত বছরের বৃত্তি পরীক্ষাটি এ বছর নিয়ে নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য থাকবে ৮০ শতাংশ এবং কিন্ডার গার্টেনের জন্য ২০ শতাংশ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমরা সন্ধ্যার পরে পড়ার টেবিলে বসতাম- সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বলেছি, সন্ধ্যার পর ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পরামর্শের সঙ্গে আমরা এই মুর্হূতে একমত না, তবে আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করে দেখবো।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে এনসিপির তীব্র অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

ভেজাল খাদ্যে বাড়ছে বিপদ

ছবি : সংগৃহীত
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না। তিনি জানিয়েছেন, মন্ত্রী হবেন না—এটি জেনেই মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।   মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।   সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া ও আফতাব আহমেদ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ থানার ওসি এম সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা।   গয়েশ্বর বলেন, আমি জানতাম, মন্ত্রী হবো না। তবুও সেখানে গিয়েছিলাম। আমি আপনাদের বলে গেলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না করায় রাগ করে চলে আসছি, এটা সত্য নয়। আমি সংসদ সদস্য, জনগণের প্রতিনিধি। শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই করব, নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব। এটাই আমার কাজ।   ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাগবিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর জানান, মন্ত্রিসভায় ডাক পেলে তিনি আগেই জানতে পারতেন। একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে তাকে সামনের সারিতে বসার আসন দেওয়া হয়েছিল। তবে এক কর্মকর্তা না জেনে মন্ত্রী ছাড়া অন্য সবাইকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এমনকি না গেলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ডাকার হুমকিও দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে ফেরার সময় অনেকে থাকতে অনুরোধ করলে কিছুটা রাগ প্রকাশ করেন, যা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধের আহ্বান জামায়াতের

ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির

ছবি : সংগৃহীত

১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষায় আনার লক্ষ্য: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

সন্তান নেওয়ার আগে যেসব পরীক্ষা নারী-পুরুষের জরুরি

নতুন অতিথিকে ঘিরে স্বপ্ন বোনা শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। কারও ঘরে ছোট্ট পায়ের শব্দ শোনার অপেক্ষা, কারও মনে নাম ঠিক করার ব্যস্ততা; সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি। তবে চিকিৎসকদের ভাষায়, এই আনন্দযাত্রা কেবল মানসিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, সমান গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রস্তুতিও। আমাদের দেশে এখনো অনেক দম্পতি গর্ভধারণের পর প্রথমবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগেই কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের নানা ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এতে শরীরে লুকিয়ে থাকা হরমোনজনিত সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা সংক্রমণ আগে থেকেই ধরা পড়ে। প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করা গেলে গর্ভধারণ হয় নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সন্তান নেওয়ার আগে নারী ও পুরুষ দুজনেরই কোন কোন পরীক্ষা করা জরুরি। নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সন্তান নেওয়ার আগে নারী-পুরুষের যেসব পরীক্ষা জরুরি ১. হরমোন টেস্ট থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিনসহ অন্যান্য প্রজনন হরমোনের মাত্রা জানা খুবই প্রয়োজন। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ওভুলেশন ও ঋতুচক্রে প্রভাব পড়ে। এতে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগে থেকেই পরীক্ষা করালে সমস্যার সমাধান সহজ হয়। ২. ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্ট অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (এএমএইচ) পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যারা কিছুটা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড জরায়ু ও ডিম্বাশয়ে ফাইব্রয়েড, সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে কি না, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। সমস্যা আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ ও কার্যকর হয়। ৪. সংক্রমণ সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে কি না, তা জানা জরুরি। কিছু সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় মা ও অনাগত শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আগেভাগে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত। ৫. ব্লাড সুগার ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা বা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। সুস্থ গর্ভধারণ ও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কেবল নারীর স্বাস্থ্য নয়, পুরুষের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়টি এখন বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলছেন চিকিৎসকেরা। ১. বীর্য পরীক্ষা (সিমেন অ্যানালিসিস) শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন স্বাভাবিক কি না, তা জানার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক গর্ভধারণে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২. হরমোন টেস্ট টেস্টোস্টেরনসহ অন্যান্য হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। ৩. ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ লাইফস্টাইলজনিত রোগ— যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অবহেলা করা উচিত নয়। ৪. যৌন সংক্রমণ পরীক্ষা সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে দম্পতির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। সচেতন প্রস্তুতিই নিরাপদ আগামীর চাবিকাঠি সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে আনন্দের, তবে দায়িত্বও কম নয়। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, কমে অযথা উদ্বেগ। সবচেয়ে বড় কথা, সম্ভাব্য জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ একটাই, ‘সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে একবার প্রি-কনসেপশন চেকআপ করান।’ কারণ, অসুখ বা ঝুঁকি সময়মতো ধরা পড়লে সমাধানও হয় সহজ, আর নতুন জীবনের শুরুটা হয় আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন সারজিস

ঢাবি গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী’ শুরু

রমজান মাসে হয়, এমন কিছু কমন শারীরিক সমস্যা ও প্রতিকার জেনে নিন

0 Comments