বিশ্ব

নরওয়ের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিলের ঘটনায় মালয়েশিয়ার ক্ষোভ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া রোববার নরওয়ের সঙ্গে নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিল  হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে, এ ব্যাপারে প্রভাবশালী দেশগুলো নীরবতাকে তীব্র সমালোচনা করেছে। 

 

দেশটির মতে, এ বিষয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর এমন নীরবতা আন্তর্জাতিক চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে একটি ‘বিপজ্জনক বার্তা’ দিচ্ছে।

 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

 

চলতি মাসে নরওয়ে কিছু প্রযুক্তি রপ্তানির অনুমোদন বাতিল করার পর, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে।

 

অসলো জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ মালয়েশিয়াকে উদ্দেশ্য করে নেওয়া হয়নি। তবে কুয়ালালামপুর চুক্তির সঙ্গে জড়িত নরওয়ের কোম্পানির কাছ থেকে ২৫১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

 

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ফোরামে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নর্দিন বলেন, ‘নরওয়ের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। এই চরম নীরবতা এমন বার্তা দেয় যে কিছু দেশ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে।’

 

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ ও শক্তিশালী দেশ বা তাদের মিত্রদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ড রয়েছে বলে মনে করে মালয়েশিয়া।

 

নরওয়ে জানায়, রপ্তানি অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে কেবল দেশটির নিজস্ব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুযায়ী এবং গোপনীয় চুক্তির কারণে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

 

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘কঠোর আপত্তি’ জানান এবং এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

 

আনোয়ার সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি ও লিটোরাল কমব্যাট শিপ (এলসিএস) আধুনিকায়ন কর্মসূচির ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

লিটোরাল কমব্যাট শিপ (এলসিএস) কর্মসূচি প্রথম ২০১১ সালে মালয়েশিয়ায় অনুমোদন পায়। সে সময় প্রায় ৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ছয়টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

 

ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগে জর্জরিত এই প্রকল্পটি সরকারি পর্যালোচনার পর ২০২৩ সালে পুনরায় চালু করা হয়। তবে তখন যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ছয়টি থেকে কমিয়ে পাঁচটি করা হয়।

 

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব এবং চলমান পুনর্গঠন কাজের কারণে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি আগস্টে হস্তান্তরের কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে ডিসেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১৪

ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় ৯ জন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। খবর এএফপির।   প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে দুই দেশই সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।   রোববার রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় আহত ওই কিশোরীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রক্ষা করা যায়নি।   এ ছাড়া রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় দুইজন এবং উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। উদমুর্তিয়া অঞ্চলটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।   অন্যদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন এলাকায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলে রুশ হামলায় একটি ডাক পরিবহন টার্মিনাল ধ্বংস হয়। এতে এক ডাককর্মী নিহত হন।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যা ঠেকানো কঠিন। এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।   অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ইউক্রেনও দেশটির জ্বালানি স্থাপনা, গুদাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।   তবে দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও তা বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দারফুরে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত ৩৫: মানবাধিকার সংগঠন

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে

আবার শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
শান্তি পরিকল্পনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১৯

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। রোববার গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা ও আনাদোলু জানায়, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-সৌসি টাওয়ারে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বিমান হামলায় আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম নিহত হন।   খান ইউনিসের আল-কারারা এলাকায় আরেকটি হামলায় মাহমুদ আল-হামস, তার স্ত্রী ফাতিমা এবং তাদের ছোট মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।   মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে হামলায় কামাল আবু মুআইলিক ও তার স্ত্রী হুদা আবু মুআইলিক নিহত হন। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ভাইও পৃথক হামলায় প্রাণ হারান।   উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একজন এবং খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। এছাড়া গাজা সিটির রেমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং একটি গাড়িতে হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।   এর আগে শনিবার দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধের গুদামে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ বলেন, ওষুধের মজুত ধ্বংস করে চিকিৎসাসেবাকেই যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে। হামলায় দুটি ওষুধ সংরক্ষণাগার পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও দুটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার মাত্র ১৫ মিনিট আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বোমা হামলায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন করে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৩, ২০২৬

সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সালফারের দাম ১৩৪ শতাংশ বেড়েছে

৯০০ কেজির বোমা ফেলে ইরানে বাড়ি গুড়িয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হতে চান লুলা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার

ফাইল ছবি
সেউতা সংকটকে হাতিয়ার বানাচ্ছে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থিরা: নিউইয়র্ক টাইমস

স্পেনের সেউতায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছে ইউরোপের কট্টর ডান রাজনীতিকরা। এমনকি মধ্যপন্থিরাও এই ইস্যুতে এমন পন্থা অবলম্বন করছেন, যা অভিবাসন সম্পর্কে উদার নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে না; বরং ইউরোপ এ বিষয়ে কতটা কট্টর হতে পারে, তা তুলে ধরছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইউরোপে এই ধরনের সংকট এবার প্রথম দেখেনি। এর আগে ইতালি ও গ্রিসে ২০১৫ সালে সিরিয়া থেকে শরণার্থীর ঢল এসে হাজির হয়েছিল। সে সময় ইউরোপের মধ্যপন্থা ও উদার নীতির নেতারা যেভাবে বিষয়টি সামাল দিয়েছিলেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে এবার। স্পেনের ইস্যুকে নিজ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতে শুরু করেছে ইতালির জর্জিয়া মেলোনির সরকার। চলতি বছর নির্বাচনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। তার আগে এ রকম একটি ঘটনা তাদের পালে হাওয়া জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  সেউতা স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে অবস্থিত এবং সেখানে অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীদের ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের পথ ছিল না। সেউতা শেনজেনেরও অংশ নয়। তারপরও স্পেন ইউরোপের চাপের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। যে জার্মানির একসময়ের মধ্য-ডান নেতা অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সিরীয় অভিবাসীদের নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা এটি সামাল দিতে পারব’, সেই একই দেশের বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিখে মার্জ মরক্কোর উদ্দেশে বলেছেন, ‘অবৈধ অভিবাসী ফেরত নিন এখনই।’  দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, এই কট্টর ডান দলগুলো ২০১৫ সালে প্রান্তিক অবস্থায় ছিল। কিন্তু এখন তারা হয় ইউরোপের দেশগুলোতে ক্ষমতায় আছে, না হয় ক্ষমতায় যাওয়ার পথে আছে। ফলে ২০২৬ সালে এসে তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রচলিত বয়ানই বদলে দিয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বৈরিতার মুখে পড়া এড়াতে ইউরোপের মধ্যপন্থি নেতারা এরই মধ্যে অভিবাসন নীতিতে অনেকটাই ডান ঘরানার নীতির দিকে ঝুঁকেছেন। এ প্রসঙ্গে এইচইসি প্যারিসের অভিবাসন ও জলবায়ু ইস্যুর বিশেষজ্ঞ ফ্রানসয়স জেমেন্নে বলেন, ‘যদি মধ্যপন্থি নেতারা এমন কিছু দেখায়, যাতে বোঝা যায় যে তারা এসব ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, তাহলে তারা এই বয়ানের খেলায় পুরোপুরি হেরে যাবেন। এ কারণে তারাও দেখাচ্ছেন যে তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।’ ডেনমার্ক থেকে শুরু করে ফ্রান্স পর্যন্ত নেতারা দ্রুতই স্পেনের এই অভিবাসীর ঢলের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। এমনকি নিজেদের সীমান্তও অভিবাসীদের জন্য কঠোর করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  ২০১৫ সালে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে ইউরোপে অভিবাসীর যে ঢল নেমেছিল, তা এখনও সেখানকার বাসিন্দাদের স্মৃতিতে অমলিন রয়েছে। সেবারের অভিবাসী সংকট থেকেই কিছু সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল, যা ইউরোপকে কট্টর ডানের পথে নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল সমস্যা অভিবাসী আসা নিয়ে নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিতভাবে তাদের পৌঁছানো নিয়ে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ২

ইরান সংঘাত ও হরমুজ সংকটে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা

0 Comments