তুরস্কের ইতিহাসে এই প্রথম উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য এমন একটি দেশে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করা হয়েছে। রোমানিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।
ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটি মূলত রোমানিয়ান নৌবাহিনীর কাছে অফশোর পেট্রোল ভেসেল ক্যাম রোমান নামক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তর এবং একই সঙ্গে তুর্কি নৌবাহিনীর জন্য নতুন কিছু প্ল্যাটফর্মের কমিশনিং ও পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে নৌ-প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, রোমানিয়ার সঙ্গে আমরা যে বিক্রয় চুক্তিটি সই করেছি, তার মাধ্যমে তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ন্যাটো এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্রে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করা হলো।
এরদোয়ান জানান, তুরস্ক এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য ১৪০টিরও বেশি নৌ-প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। দেশের সামরিক জাহাজ নির্মাণ খাত বর্তমানে তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ১০৩ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে নিবিড় এবং উৎপাদনশীল দিন পার করছে বলেও বর্ণনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের যেসব দেশের একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করার সক্ষমতা রয়েছে, তুরস্ক তাদের অন্যতম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ভাগ করে নেওয়াকে তুরস্ক নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তুরস্কের লক্ষ্য আমাদের অঞ্চলে কোনও ধরনের উত্তেজনা তৈরি করা নয়, বরং শান্তি, ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করা।
তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অশান্ত ও পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে এরদোয়ান সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যেসব দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে বা বাস্তবে নিজস্ব শক্তি নেই, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় রাশিয়ার সমর্থনের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। এ সময় তিনি যুদ্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের প্রতি রাশিয়ার অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, সংঘাতের সময়, আগ্রাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সময় রাশিয়ার অবস্থানের জন্য তারা কৃতজ্ঞ। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক যে কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে, রাশিয়ার অবস্থান ও সহযোগিতা তারই প্রমাণ। এটি কোনো সাধারণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানো ও সম্প্রসারণের উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তুর্কমেনিস্তানে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে সর্বশেষ পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎ হয়েছিল। এদিকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়। ইরান পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর একপর্যায়ে তেহরান বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তীব্র লড়াই কিছুটা থামলেও হরমুজ প্রণালির আশপাশে বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই সময়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত এপ্রিলের শেষ দিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে পুতিন জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও তা ধরে রাখতে রাশিয়া প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। সূত্র: এএফপি
রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন ১৪ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, মঙ্গলবারের (১ সেপ্টেম্বর) এই হামলা কিয়েভে টানা ষষ্ঠ দিনের রুশ হামলা বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রয়টার্স জানায়, কিয়েভে নিহত আটজনের মধ্যে তিনজন শিশু। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং শিশুসহ আরও নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো। প্রতিদিন কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ হামলার কারণে লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। ইউক্রেনের সীমান্ত এলাকা ছাড়াও দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। মঙ্গলবারের হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের একটি সীমান্ত পারাপারও বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে রাশিয়াতেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বন্দর উস্ত-লুগা এলাকায় ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। একই সময়ে মস্কোতে ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়। রাশিয়ার সামারা অঞ্চলেও হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে এবং এটি মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নেতানিয়াহুর এই ‘হুমকির’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফিদান বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও সেখানে সংঘটিত গণহত্যার পর নেতানিয়াহু ‘মানবতার শত্রুতে’ পরিণত হয়েছেন। তার নীতির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেতানিয়াহুর নীতির কারণে শুধু ফিলিস্তিনিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ফিদানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক হতাহত এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলে আসছেন। ফিদানের সর্বশেষ মন্তব্যে সেই অবস্থান আরও কঠোরভাবে উঠে এসেছে। তিনি মূলত নেতানিয়াহুর নীতিকে শুধু আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয় হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা