ঢাকার অভিজাত গুলশান-২ এলাকার ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়ি। রাজধানীর অন্যতম মূল্যবান এই সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী। তবে প্রায় দুই দশক ধরে মালিকানা পরিবর্তনের নানা প্রক্রিয়া পেরিয়ে আসা বাড়িটি শেষ পর্যন্ত সরকারের সম্পত্তি বলেই ঘোষণা দেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, গুলশানের সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এবং আইনগতভাবে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পত্তিটি হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা বৈধ নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এসব পরিবর্তন সম্পত্তির আইনগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। ফলে বর্তমানে সম্পত্তিটি সরকারের মালিকানাধীন বলেই গণ্য হবে।
মামলার নথি ও আদালতে দাখিল করা অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা এ বাড়িটি ঘিরে পরবর্তী সময়ে একাধিক ব্যক্তি মালিকানা দাবি করেন। বিভিন্ন দলিল, নামজারি ও মালিকানা হস্তান্তরের নথির মাধ্যমে সম্পত্তির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হয়। পরে এসব প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত একটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখল করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাড়ি-সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেন এবং পরে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করে। অনুসন্ধানে সম্পত্তিটির মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নামজারি ও দখল-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে সম্পত্তিটির মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন ধাপে অসংগতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুদকের প্রতিবেদনের পর আদালত সম্পত্তিটির চেইন অব টাইটেল বা মালিকানা হস্তান্তরের পূর্ণ ইতিহাস, দখল-সংক্রান্ত নথি এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পক্ষগুলোকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত বলেন, সম্পত্তিটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরবর্তীতে আবদুস সালাম মুর্শেদীর নামে হস্তান্তর হয়েছে বলে নথিতে প্রতীয়মান হলেও এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে আইনগত অবস্থান কখনো পরিবর্তিত হয়নি। যথাযথ আদালতের মাধ্যমে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তিই থাকবে। ফলে পরবর্তী সময়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া বেআইনি।
হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তিটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে সালাম মুর্শেদীকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্পত্তির দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবকে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত অভিযোগে ইতোমধ্যে দুদকের মামলা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ কারণে তদন্ত অব্যাহত রাখতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা সহযোগিতার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, সালাম মুর্শেদীর পক্ষে আদালতে দাবি করা হয়, তিনি ১৯৯৭ সালে রাজউকের অনুমতি নিয়ে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে সম্পত্তিটি ক্রয় করেন এবং তখন থেকেই ভোগদখলে আছেন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
তবে আদালতের রায়ের পর গুলশানের বহুল আলোচিত এ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিল। একদিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত একটি বাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে তদন্তে জড়িত ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কীভাবে চালু হলো ২০২৫ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সাংবাদিক হিউ অলিভার ‘সানডে টাইমস’-এর ভ্রমণবিষয়ক কলামে এ সমস্যার একটি মজার সমাধানের কথা বলেন। তিনি এর নাম দেন ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’। নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ইচ্ছা করে আলাদা হয়ে থাকা এবং পরে গেটে বা প্লেনে আবার একত্র হওয়াই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’। মজা করে অলিভার একে বলেছেন ‘সুখী সম্পর্কের গোপন রহস্য’। শব্দটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল অলিভারের লেখাটি পাঠকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। কয়েক দিনের মধ্যেই ‘আফার’ ম্যাগাজিনে ‘হোয়াট ইজ এয়ারপোর্ট ডিভোর্স অ্যান্ড শুড ইউ ট্রাই ইট?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে শুধু শব্দটির উৎপত্তিই নয়, এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণও তুলে ধরা হয়। ভ্রমণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই ধারণাটিকে কার্যকর বলে মনে করেন। ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নামের মধ্যে ‘ডিভোর্স’ বা বিবাহবিচ্ছেদের উল্লেখ থাকলেও এটি সত্যিকারের বিচ্ছেদ নয়। বরং ভ্রমণ যাতে বিভীষিকায় পরিণত না হয় এবং একজন আরেকজনের প্রতি যাতে বিরক্ত হয়ে না ওঠেন, সে জন্য কিছু সময়ের জন্য আলাদা থাকাকেই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ বলা হচ্ছে। পক্ষেও আছে যুক্তি এই কৌশলের পক্ষে কিছু তথ্যও আছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরে মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। অলিভার তাঁর লেখায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ২০২৩ সালের একটি জরিপের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে প্রায় ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে গেলে তাঁদের আচরণ বা ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন আসে। এয়ারপোর্ট ডিভোর্সের সুবিধা হলো, প্রত্যেকে নিজের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ও পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। ফলে সঙ্গীর ভিন্ন অভ্যাস বা রুটিন নিয়ে অযথা বিরোধে জড়ানোর আশঙ্কাও কমে। মার্কিন টেলিভিশন তারকা কেলি রিপা ও তাঁর স্বামী মার্ক কনসুয়েলোস ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁদের অনুষ্ঠান ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড মার্ক’-এ ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নিয়ে মজার আলোচনা করেন। দুজনের ভ্রমণের ধরন আলাদা—মার্ক অনেক আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পছন্দ করেন, আর রিপা তুলনামূলক দেরিতে যেতে স্বচ্ছন্দ। তাই তাঁরা ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ পালন করেন। শেষ কথা এয়ারপোর্ট ডিভোর্স কোনোভাবেই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কৌশল নয়। বরং সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার জন্য নেওয়া ছোট্ট একটি বিরতি। চেক-ইন থেকে প্লেনে ওঠার আগপর্যন্ত সময়টুকুতে সামান্য দূরত্বই হয়তো দুজনকে আবারও একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে পারে। কারণ, সব সময় পাশাপাশি থাকাই যে ভালো সম্পর্কের একমাত্র চাবিকাঠি, তা নয়; দূরত্ব কখনো কখনো সম্পর্ককে আরও কাছের করে তোলে। সূত্র: ইয়াহু
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভারে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাভার পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিতে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সাভার উপজেলা চত্বর থেকে র্যালিটি বের হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাভার মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাভারেও র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি এমন সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে, যখন দুই দশক পর আবারও দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের ছেলে তারেক রহমান দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। র্যালিতে সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়ন খোরশেদ আলম, সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা ক্লাবের নিজস্ব সফটওয়্যার (ইআরপি) সিস্টেম হ্যাক করে সাড়ে চার হাজার সদস্যের ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য চুরি এবং সিস্টেম জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগের মামলায় আইটি প্রতিষ্ঠান ‘আরআইটিবিডি’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রনি সিকদারকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ সময় তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপপরিদর্শক মোহসীন সরকার। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দেশের অন্যতম অভিজাত এই ক্লাবের স্পর্শকাতর তথ্য চুরি ও সিস্টেম হ্যাকের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট রনি সিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ২৭ আগস্ট তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। সোমবার আসামির উপস্থিতিতে ওই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ক্লাবের সিইও এবং সেক্রেটারি লে. কর্নেল (অব.) সাব্বির আহমেদ বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পেনাল কোড ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়, ঢাকা ক্লাব ২০১৪ সাল থেকে তাদের ইআরপি সফটওয়্যারের ছোটখাটো ত্রুটি সমাধানের জন্য আইটি প্রতিষ্ঠান ‘আরআইটিবিডি’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রনি সিকদারের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নিতো। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত চুক্তি বা মেইনটেন্যান্স অ্যাগ্রিমেন্ট ছিল না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রনি সিকদার ধীরে ধীরে ক্লাবের সিস্টেমের রিমোট অ্যাক্সেস, সোর্স কোড ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কন্ট্রোল নিজের কবজায় নিয়ে নেন। এজাহারে আরও বলা হয়, সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি ঢাকা ক্লাবের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বা বিল দাবি করতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর তিনি অফিশিয়াল প্যাড ও ইমেইলের মাধ্যমে ১১ লাখ ৭ হাজার ৩৬ টাকা দাবি করেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এর সপক্ষে বিল বা প্রমাণ চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন এবং টাকা পরিশোধ না করলে সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় রনি সিকদার চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় ঢাকা ক্লাবের ইআরপি সিস্টেমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সিস্টেমটি হ্যাক হয়েছে। এরপর ২০ মে এবং ১ জুন আবারও সিস্টেম বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ৬ জুন সফটওয়্যারটি ব্যাপকভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হলে ক্লাবের বিলিং, কেনাবেচা, অ্যাকাউন্টিং ও সদস্য তথ্য ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা ক্লাব নিজস্ব আইটি বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে ৮ জুন সিস্টেমটি উদ্ধার করে। কিন্তু এরপর কারিগরি তদন্তে দেখা যায়, সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজ মুছে ফেলা হয়েছে। যার পেছনে রনি সিকদারের সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এমনকি গত ৩ আগস্ট আবারও বাইরে থেকে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করে ঢাকা ক্লাবের আইটি সিস্টেম অকার্যকর করার চেষ্টা চালানো হয়।