চট্টগ্রাম চেম্বারে এডিবির প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টর উন্নয়ন সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।
সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগ বান্ধব করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই। সরকার আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে তাতে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা এবং ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি মাথায় রেখে কোস্টাল বেল্ট-এর পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়গঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক তৈরি করা জরুরি। কারণ যে কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একাধিক বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। একই সঙ্গে মাল্টিমোডাল যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেল ও নৌ-পথকেও গতিশীল করা জরুরি।
তিনি মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমান বন্দরের আদলে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে আরও গতিশীল করা এবং বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে বাংলাদেশি ফ্লাগশিপ ব্যবসায়ীসহ বিদেশি কোম্পানিদের যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, কলকারখানা ও শিল্পের চাহিদানুযায়ী মানব সম্পদ তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করতে হলে এসব বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন চেম্বার সভাপতি।
এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ উন্নয়ন হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নিয়ে একটি ইন্টিগ্রেটেড ইকোনমিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। সরকার প্রাইভেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। তাই সরকার আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদা জানতে এ ধরণের অংশীজন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএ’র পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেনসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন, এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট, বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নাটোর রেলস্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের কাপুড়িয়া পট্টি নূর ক্লথ স্টোরের পাশ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সদর থানায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। পুলিশ সুপার জানান, ল্যাপটপ হারানোর পরের দিন ৮ তারিখ সকালে নাটোর শহরের কাপুড়িয়া পট্টির বাসিন্দা অমল কুমার সাহা তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সান্তাহার হয়ে নওগাঁ যাওয়ার সময় সিটের নিচে একটি ব্যাগ পান। ব্যাগটি নিয়ে তিনি নওগাঁ চলে যান। পরে ব্যাগ খুলে ল্যাপটপ দেখে তিনি তার ছেলে অন্তরের সঙ্গে কথা বলেন। সংবাদমাধ্যমে জার্মান তরুণ পর্যটকের ল্যাপটপ হারানোর ঘটনা জেনে বাবা অমল সাহা ছেলেকে বিষয়টি জানান। পরে অন্তর রোববার রাতে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল কাপুড়িয়া পট্টির নূর ক্লথ স্টোরের পাশ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ল্যাপটপটি উদ্ধারের ঘটনা ক্রিল ল্যান্ডার কিরিলকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার। তবে দেশজুড়ে এত আলোচিত একটি বিষয় হওয়ার পরও ল্যাপটপটি পাওয়ার চার দিন পর কেন অমল সাহা পুলিশকে ফেরত দিলেন, তার কোনো সদুত্তর তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করতে এসে জার্মান তরুণ ক্রিল ল্যান্ডার কিরিল বগুড়া থেকে একটি লোকাল ট্রেনে করে সান্তাহার স্টেশনে আসেন। পরে সান্তাহার থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে তিনি নাটোর রেলস্টেশনে এসে ভুল করে নেমে পড়েন। নাটোর থেকে তিনি অন্য একটি ট্রেনে করে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য তিনি নাটোর রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্মের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে হলুদ ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলকর্মী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে ক্রিল ল্যান্ডার ওই যুবকের কাছে নিজের ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন, ব্যাগসহ ওই যুবক উধাও হয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি রাতেই নাটোর থানায় অভিযোগ করেন। এ সময় পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা তার প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন করায় তিনি খুশি হন। পরে তার অবস্থানের সুবিধার জন্য প্রথমে রাজশাহী ও পরে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এদিকে, ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগ নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়া যুবককে ধরিয়ে দিতে সহায়তাকারী ও তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)। এসআরবি-৫ সিপিসি-২ সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তের চেহারা শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে নাটোর ও আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় ওই যুবকের ছবি সংবলিত পুরস্কার ঘোষণার পোস্টার লাগিয়েছে এসআরবি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর যানজট কমানো, দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের ৩ নম্বর সেতু এলাকায় এখন যানজট, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং ক্যামেরাম্যানদের দৌরাত্ম্যে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষজন। দর্শনার্থীদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জটলা, অতিরিক্ত টাকা আদায় ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে একশ্রেণির ক্যামেরাম্যানদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, সেতুর ওপর ও আশপাশে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং দর্শনার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরাম্যানদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছুটির দিন এবং বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় কর্মজীবী মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ যাত্রী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এত টাকা ব্যয়ে সড়কটি করা হয়েছে, সেটি কাজে আসছে না। এই সড়কে যাতায়াতকারী লোকজনের দাবি, যানজট নিরসনে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, যানবাহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ছবি তুলতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ৩০০ ফিট সড়কে ঘুরতে আসা অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ক্যামেরাম্যানদের মাধ্যমে ছবি তোলেন। তবে ছবি তোলার পর সম্মত টাকার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্ব্যবহার ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দর্শনার্থী। তাদের অভিযোগ, আনন্দের মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে এসে অনেককে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্যামেরাম্যানদের একটি অংশ হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সেতুর ওপর ও আশপাশে ক্যামেরাম্যানদের অবস্থান এবং ছবি তোলার জন্য দর্শনার্থীদের জড়ো হওয়ার কারণে সড়কের একটি অংশে চলাচল ব্যাহত হয়। ছুটির দিনগুলোতে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যত্রতত্র অটোরিকশা-সিএনজি স্ট্যান্ড ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত স্ট্যান্ড। সড়কের পাশে, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং সেতুর প্রবেশমুখে এসব যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এতে সড়কের একটি অংশ কার্যত দখলে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাতায়াতকারীদের। বিশেষ করে ৩ নম্বর সেতু এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির জটলা, দর্শনার্থীদের ভিড় এবং ক্যামেরাম্যানদের অবস্থান—সব মিলিয়ে যান চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী যাত্রী ও অন্যান্য পরিবহনচালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন দাঁড় করানো ও যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড এবং ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দৈনিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব স্ট্যান্ড পরিচালনা ও ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রমের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। হাজার কোটি টাকার সড়কে শৃঙ্খলার প্রশ্ন রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ৩০০ ফিট সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ১৪ লেনবিশিষ্ট এই সড়ক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায়। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর সড়কটির উদ্বোধন করা হয়। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর যানজট কমানো, পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ করা এবং দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সড়কটি রাজধানী ও আশপাশের এলাকার মানুষের অবসর বিনোদনেরও পরিচিত স্থান হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। কিন্তু সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, যত্রতত্র পার্কিং, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং দর্শনার্থীদের হয়রানির অভিযোগের কারণে সড়কটির পরিকল্পিত সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রশ্ন, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু এলাকায় যদি নিয়মিত যানজট ও অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে? দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আলী আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে যানজটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সড়কে অটোরিকশা ও সিএনজি যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ক্যামেরাম্যানদের কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখবো।’ তিনি বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। কেউ যেন সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে কিংবা পর্যটকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ভোগান্তির কারণ হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ক্যামেরাম্যানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, যাতে ৩০০ ফিট সড়কে যানজট কমে আসে এবং সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৩০০ ফিট সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ, ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম নিয়মের আওতায় আনা এবং দর্শনার্থীদের হয়রানির অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে সড়কটিতে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
একসময় খরস্রোতা ডাকাতিয়া নদী ছিল চাঁদপুরের নৌযোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নদীপথে চলাচল করতো যাত্রীবাহী লঞ্চ, পণ্য পরিবহনে চলতো শত শত নৌকা ও মালবাহী ট্রলার। দুই পাড়জুড়ে ছিল খোলা পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। নদীর দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, দোকানপাট, রিসোর্ট, ঘরবাড়ি ও কলকারখানাসহ নানা স্থাপনা। দখল-দূষণে সংকুচিত হয়ে নদীটি এখন অস্তিত্বের সংকটে। নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় কোথাও সংকুচিত হয়েছে এর প্রস্থ, কোথাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। কমেছে নাব্যতা, তৈরি হচ্ছে ভরাট ও চর জাগার প্রবণতা। নদীর গতিপথের পরিবর্তনে কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে ভাঙন। বছরের পর বছর ধরে এসব দখল চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও এরই মধ্যে ৭৩৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় ডাকাতিয়া নদীকে দখলমুক্ত করতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের পর যৌথ জরিপে চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেড থেকে গাছতলা ব্রিজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে ৭৩৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই এসব স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। প্রভাবশালীরা নদীর দুই পাড় দখল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় ডাকাতিয়া নদী ছিল চাঁদপুরের নৌপথে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যাত্রীবাহী লঞ্চের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে অসংখ্য নৌযান চলাচল করতো এ নদীতে। কিন্তু কয়েক দশকে নদীর দুই পাড়ে একের পর এক স্থাপনা গড়ে ওঠায় বদলে গেছে নদীর চেহারা। চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা জামিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদী আগে অনেক প্রশস্ত ছিল। যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করতো। কিন্তু কয়েক দশক ধরে নদীর দুই পাড়ে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। এ কারণে নদী এখন সংকুচিত হয়ে গেছে। বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কোথাও কোথাও সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা সরকারি জায়গা দখল করেছেন এবং এখনও করছেন।’ চাঁদপুর সরকারি কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী তানজিম হাসান বলেন, ‘চাঁদপুর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদী শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নদীর পাড় দখল ও চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা হোক।’ আরেক শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। দখল ও দূষণের কারণে ডাকাতিয়া অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। নদীটিকে দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি জানাই।’ উচ্ছেদে কাউকে ছাড় না দেওয়ার দাবি নদী রক্ষায় উচ্ছেদ অভিযান যেন লোকদেখানো কর্মসূচিতে পরিণত না হয়, সে দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। তাদের ভাষ্যমতে, শুধু অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিলেই হবে না; দখলদারদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন বা ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান যেন লোকদেখানো কার্যক্রমে পরিণত না হয়। আইনি প্রক্রিয়ায় নদী দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে খনন করে ডাকাতিয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’ চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘যারা ডাকাতিয়া নদী ও এর তীর অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, তাদের সবাইকে উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উচ্ছেদ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ বড়স্টেশন থেকে গাছতলা পর্যন্ত চিহ্নিত ৭৩৬ স্থাপনা ডাকাতিয়া নদী দখলমুক্ত করতে এবার বড় পরিসরে অভিযানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। আদালতের আদেশ ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যৌথ জরিপের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাঁদপুর পৌর এলাকার বড়স্টেশন মোলহেড থেকে গাছতলা ব্রিজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে ৭৩৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।’ তিনি জানান, শুধু পৌর এলাকার এই অংশেই নয়, ডাকাতিয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে চাঁদপুর থেকে শাহরাস্তি পর্যন্ত নদীর পাড়ে ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর সীমানা পুনর্দখল ঠেকাতে বড়স্টেশন মোলহেড থেকে গাছতলা ব্রিজ পর্যন্ত ইতিমধ্যে ৬২টি সীমানাখুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। আরও ২৮টি সীমানাখুঁটি স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি দূষণ রোধের পরিকল্পনা চাঁদপুর জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অনেক সময় দখলমুক্ত করার পরও একই জায়গা আবার দখল হয়ে যায়। এবার যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন হোমওয়ার্ক করছি। এই মাসের মধ্যেই আমরা উচ্ছেদ অভিযানে যাবো।’ এই নদীটি আসলে চাঁদপুরের প্রাণ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘দখল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নদীকে দূষণমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ইতিমধ্যে নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে কচুরিপানার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেসব কচুরিপানা অপসারণ করে নদীকে সচল ও গতিশীল করার পরিকল্পনাও আছে।’