জাতীয়

প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী: মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ছয় দিনের যাত্রা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চীন মিলিয়ে ছয় দিনের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন তিনি।

 

রোববার মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু করা প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর শেষ হবে ২৬ জুন।

 

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধানের সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শ্রম বাজারকে ‘এক নম্বর এজেন্ডায়’ রেখে কুয়ালামপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনার কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব।

 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫-১৭টা দলিল স্বাক্ষরের আশা করছেন তারা। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটা অ্যাকশন প্ল্যান এবং আরেকটি প্রটোকল।

 

শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, মিডিয়া কোঅপারেশন এবং গ্রিন এনার্জি খাতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

 

আগামী ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা তুলে ধরে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের প্রথম দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে।

 

তিনি বলেন, পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।

 

“বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে,” যোগ করেন তিনি।

 

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।

 

চীন সফরের কর্মসূচি

চীন সফরের প্রথম দুইদিন ২৩ থেকে ২৪ জুন দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-ডব্লিউইএফের সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সম্মেলন ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত।

 

ডব্লিউইএফের সম্মেলনে সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্ভাবন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা এবং মতবিনিময় করেন।

 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন।

 

পরদিন ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সূচি থাকার কথা বলেন আসাদ আলম সিয়াম।

 

একইসঙ্গে, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বলেন সচিব।

 

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে তিনি যোগ দেবেন।

 

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২৪ জুন সকালে ১৭তম বার্ষিক ‘সামার দাভোসের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথ ধরবেন তিনি।

 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সফরকালে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ডায়াওইউতাই গেস্ট হাউজে থাকবেন তারেক রহমান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অব সিপিসি সেক্টর কমিটি, পানি সম্পদ মন্ত্রী, সিটকা চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংক চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

 

২৫ জুন বিকালে চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।

 

“যেখানে দুইদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল বিষয় এবং ভবিষ্যতে এসবকে আরো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে,” বলেন তিনি।

 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন।

 

পরদিন ২৬ জুন প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাউ লি’র সঙ্গে।

 

ওইদিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

 

বৈঠক শেষে ওইদিন তিনি বিকালে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।

 

তার আগে সে দিন তিয়ানআনমেন স্কয়ারে সেখানকার যোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক।

 

এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফরে দুইদেশের ‘কমপ্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপকে নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাবে বলে আশা করছে ঢাকা।

 

“এবং দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে বলে আমরা আশা করি,” যোগ করেন তিনি।

 

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মোট ২৭ জন।

 

চীন সফরের প্রতিনিধিদলে ২৮ জন থাকার তথ্য দিলেও সফরসঙ্গী অন্যদের নাম বলেননি পররাষ্ট্র সচিব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের লক্ষ্যে আনা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কারণ, ওই ধারায় নির্ধারিত কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেননি।   তিনি বলেন, সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংক পুনর্গঠনে বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো দেয়ার লক্ষ্যে মূলত ১৮(ক) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন না করে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমানো।   তিনি আরও বলেন, ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শুধু যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৮(ক) ধারায় দুই পৃষ্ঠা জুড়ে কঠোর শর্ত দেয়া হয়েছিল।   অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তবে আইনটি প্রণয়নের পর থেকে কোনো শেয়ারহোল্ডার, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই ধারার সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে ধারাটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবে অর্জিত না হওয়ায় আমরা এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’   বিল অনুযায়ী, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিল করা হবে।   সংশোধনী বিলের সঙ্গে সংযুক্ত উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ ধারায় নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ১৮(ক) ধারা বাতিল করা সমীচীন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছোলা, ভোজ্যতেল ও এলএনজি আমদানির বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

খবর৭১

ওমানের প্রতিনিধিদলের এনটিভি কার্যালয় পরিদর্শন

ছবি: সংগৃহীত

মেট্রো রেলের ৪৬ পিলারে ফাটল ও বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি: সংসদে সেতুমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
কৃষি উৎপাদনে জোর: ১ লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।     পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সড়ক, নৌপরিবহন, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।     অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির ৪৩তম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ১৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা হয়।      শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ডিএপিএফসিএল ও টিএসপিসিএলের জন্য ফসফরিক এসিড আমদানিসংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১সহ জ্বালানি তেল কেনার কয়েকটি প্রস্তাবে দরদাতাদের প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স মূল্য নিয়ে আলোচনা করে পুনরায় সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেলারুশ থেকে বেসরকারি পর্যায়ে মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশনের মাধ্যমে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৯৮ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার। এতে ব্যয় হবে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার ।     এ ছাড়া মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস, এস.এ. থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।     প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৮৮৯ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা। অন্যদিকে, সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার এবং মোট ব্যয় ১৯৩ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৩৬০ টাকা।       সভায় দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগ নির্ণয় ইমেজিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ডিজিটাল এক্স-রে, এনজিওগ্রাফি, গ্যাস্ট্রোস্কোপি, কোলোনোস্কোপি, এমআরআই, সিটি স্ক্যানার, ম্যামোগ্রাফি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং পিএসিএস/আরআইএস কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়।     সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সড়ক ও সেতু পুনর্বাসন ও পুনঃনির্মাণের দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।     এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেনাপোল স্থলবন্দরে পোর্ট ভবন, পার্কিং, ইয়ার্ড, শেড, গুদাম ও ট্রান্সশিপমেন্ট শেড নির্মাণের দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।     বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৯ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।     জ্বালানি খাতে টোটালএনার্জিস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।   

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান

ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা সরকারের : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, সিদ্ধান্ত হবে আইন অনুযায়ী: আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নাকি তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন- এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও ব্যাখ্যা হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে এবং আপিল করতে চাইলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারিত হবে।   মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির আপিলের অধিকার আছে কি না, সেটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়; প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারণ করা হবে।   এ সময় বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার ফলে শুধু বাল্যবিয়ে প্রতিরোধই নয়, বহুবিবাহ এবং বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতিও রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য সহজে যাচাই করা যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ সার্ভার

ছবি : সংগৃহীত

বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

0 Comments