বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোশাক শিল্পখাত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সম্মানে আজ এক সংবর্ধনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র অফিস বেয়ারারগণ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ, সাধারণ সদস্যবৃন্দ, দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সংসদ সদস্যদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পোশাক শিল্প পরিবারের সদস্যদের এই বিজয় সমগ্র খাতের বিজয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদ সদস্যরা যখন মহান সংসদে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলবেন, তখন এর সাথে সাথে তারা শিল্প নিয়েও কথা বলবেন। পোশাকখাতের উদ্যোক্তাদের নিরন্তর সংগ্রামের কথা তুলে ধরবেন। নবনির্বাচিত সাংসদগণ জাতীয় সংসদে পোশাক শিল্পের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সাংসদগণ রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, এবং ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমানো এবং সর্বোপরি অর্থনীতির স্বার্থে ন্যায়সঙ্গত সমাধান দেবেন।
অনুষ্ঠানে সাংসদদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পোশাক শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। পোশাক শিল্প যেন আরো এগিয়ে যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন আরো শক্তিশালী হয়। সেজন্য পোশাকখাত থেকে নির্বাচিত সাংসদগণ সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্বাচিত এমপিদের অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদে শিল্প ও বাণিজ্যবান্ধব নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, পোশাক শিল্প পরিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ১৬ জন সংসদ সদস্য হলেন— আহম্মদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর- ২), মো. লুৎফর রহমান (টাঙ্গাইল-৪), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (ময়মনসিংহ-৫), মো, শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬), আফরোজা খানম (মানিকগঞ্জ-৩), মো. আব্দুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর (সিলেট-১), এস. এম. ফয়সল (হবিগঞ্জ-৪), মো. খালেদ হোসেন মাহবুব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮), মো. আবুল কালাম (কুমিল্লা - ৯), মো. আবদুল হান্নান (চাঁদপুর-৪), জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২), মো. শাহাদাত হোসেন (লক্ষ্মীপুর-১), এবং এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের তৃতীয় দিনে ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক মোট ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এসব গ্রাহক তাঁদের জমা অর্থ উত্তোলন করেন। একই সময়ে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ ও স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিন ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক মোট ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর বিপরীতে ৭ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিন ব্যাংকের ক্যাশে ৯৩ কোটি টাকা এবং আরটিজিএস, বিইএফটিএন ও ক্লিয়ারিং-এর মাধ্যমে ৫১ কোটি টাকা রিসিভ হয়। অর্থাৎ, ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে সর্বমোট ১৪১ কোটি টাকা প্রবাহিত হয়। এদিন ক্যাশ ও অন্যান্য মাধ্যমে মোট ১৬ হাজার ৬০০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দিনে, অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর, মোট ১৯ হাজার ৬১৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর বিপরীতে ৮ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহক মোট ৩৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ৮ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের ক্যাশে ৯০ কোটি টাকা এবং আরটিজিএস, বিইএফটিএন ও ক্লিয়ারিং-এর মাধ্যমে ১০৫ কোটি টাকা রিসিভ হয়। ফলে ওইদিন ব্যাংকে মোট ১৯৫ কোটি টাকা অর্থপ্রবাহ হয়েছে। এদিন মোট ১৬ হাজার ৫০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এদিকে, ৩ সেপ্টেম্বর মোট ২১ হাজার ৮৬ জন গ্রাহক ৯৬৩ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর বিপরীতে বুধবার তৃতীয় দিনে ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক মোট ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান শিকদার বলেন, ‘গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেন কার্যক্রম চলছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আবেদন অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক তাঁদের অর্থ উত্তোলন করছেন। একইসঙ্গে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ এবং স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
দেশের বাজারে টানা দুই দফায় কমেছে স্বর্ণের দাম। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। অর্থাৎ, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। এখন কত দামে বিক্রি হচ্ছে বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে কত ছিল গত ৬ সেপ্টেম্বরের আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। সেখান থেকে প্রথম দফায় ২ হাজার ২১৬ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে বর্তমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ মূল্য কার্যকর থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।
ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডকে মেয়াদি কাঠামো থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন এবং ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (ভিএএমএল) স্বেচ্ছাপ্রস্তাবের ভিত্তিতে এ বিষয়ে ইউনিটধারীদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) ডাকা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে ফান্ডটির ট্রাস্টি। জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসের ভিআইপি রোডে রাওয়া কনভেনশন হলের ঈগল হলে এসজিএম অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ফান্ডটির কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব ইউনিটধারীদের সামনে উপস্থাপন করে অনুমোদন নেওয়া হবে। এ জন্য ৪ অক্টোবর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জে ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই লেনদেন স্থগিত থাকবে বলে ফান্ডটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিএসইসির আদেশ এবং ভিএএমএলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই রূপান্তরের এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফান্ডটির ট্রাস্টি কমিটি ইউনিটধারীদের সম্মতি নেওয়ার জন্য বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করেছে। রূপান্তরের কার্যকর তারিখ হিসেবে ৭ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। বে-মেয়াদি হলে কী পরিবর্তন হবে: মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা থাকে এবং এর ইউনিট সাধারণত স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হয়। ফলে বাজারে লেনদেনের সময় ইউনিটের দাম ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভির তুলনায় কম বা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, বে-মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না। নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের ফান্ডে ইউনিট কিনতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফান্ডের কাছে ইউনিট বিক্রিও করতে পারেন। ফলে রূপান্তর সম্পন্ন হলে রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে। স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি লেনদেনের পরিবর্তে ফান্ডের নির্ধারিত মূল্য বা এনএভির ভিত্তিতে ইউনিট ইস্যু ও পুনঃক্রয়ের ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এর ফলে বাজারদর ও ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্যের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রূপান্তরের পর ইউনিট পুনঃক্রয়, নতুন ইউনিট ইস্যু এবং মূল্য নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও পরবর্তী নির্দেশনায় চূড়ান্ত করা হবে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের এসজিএমের সিদ্ধান্ত এবং রূপান্তর-সংক্রান্ত পরবর্তী ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।