সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে এক যাত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলট তদন্তের মুখে পড়েছেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর বিজি ২০১ ফ্লাইটে এ ঘটনাটি ঘটে। পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন আলিয়া মান্নান। উড্ডয়নের পর বিমানটি যখন পাকিস্তানের লাহোরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল, তখন একজন যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পাইলট নিকটবর্তী কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ না করে ফ্লাইটটি পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন, যা সম্পন্ন করতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে কেন কাছের বিমানবন্দরে অবতরণ করা হলো না। বিমানের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে 'মেডিকেল ইমার্জেন্সি'র সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও অনেক সময় তা অনুসরণ করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
এর আগেও ২০২৩ সালে বিমানের একটি লন্ডন ফ্লাইটে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে যাত্রী অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও পাইলট সরাসরি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন।
বিমানের ভেতরের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, অনেক সময় অসুস্থ বা অতি বৃদ্ধ যাত্রীরা বিমানে ওঠার সময় শারীরিক সমস্যার কথা গোপন করেন অথবা গ্রাউন্ড স্টাফদের সহায়তায় ফ্লাইটে উঠে পড়েন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বায়ুর চাপের পরিবর্তন বা দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল অনেক সময় বয়স্ক বা অসুস্থ রোগীরা সহ্য করতে পারেন না, যা প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গভীর রাতের ফ্লাইটে ঘুমের অভাব এবং জেট ল্যাগের সমস্যা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিমান কর্তৃপক্ষ সবসময় যাত্রীদের অসুস্থতার তথ্য না লুকানোর অনুরোধ জানালেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ন্যাটোর ২০২৬ সালের দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তাকে স্বাগত জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। খবর আনাদোলু এজেন্সির। আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অভ্যর্থনা জানান এরদোয়ান। পরে প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা করবেন। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবির পরিদর্শন করেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং নীরবতা পালন করেন তিনি। এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে জোটভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে গত বছরের হেগ সম্মেলনে গৃহীত প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ২০ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে চিকিৎসার জন্য স্পেনে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরসহ মোট ১০০ জন ফিলিস্তিনি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এটি স্পেনের ষষ্ঠ মেডিকেল ইভাকুয়েশন কর্মসূচির অংশ। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে আসা এসব শিশু এখন স্পেনের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবে। তিনি বলেন, তারা ভয় নিয়ে এসেছে, তবে তাদের সঙ্গে নতুন আশাও আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কোনো শিশুরই গাজার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে এসব শিশুর নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই স্পেন ইসরায়েলের সমালোচনামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে স্পেন ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ফ্রান্সে এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ক্ষমতার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য ফ্রান্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান, কৌশল এবং নীতিগত অগ্রাধিকার পুনর্গঠন করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। সেই ভোটেই চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই কাঠামো ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল এবং বহুমাত্রিক করে তোলে। বর্তমান সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম দফা ভোট ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ভোট ২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এবং জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অভিবাসন ইস্যু। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন প্রবাহ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এই ইস্যুকে আরও জোরালো করেছে। সরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যেই অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা দেখা গেছে। ভিসা প্রক্রিয়া আরও যাচাইভিত্তিক করা, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতের প্রতিফলনও। এই প্রেক্ষাপটে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল র্যালি অভিবাসন ইস্যুকে তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনেছে। দলটি নতুন অভিবাসন কমানো, পরিবার পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর করা, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও জটিল করা এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সামাজিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যদিকে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শিবির তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার কথা বলছে। তারা দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বৈধ অভিবাসীদের জন্য ফ্রান্সের শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার পক্ষে, তবে একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছে। বামপন্থি দলগুলো আবার অভিবাসনকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম অধিকারের ওপর জোর দিচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থি শিবিরের নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেরিন ল্য পেন বর্তমানে একটি আইনি আপিল প্রক্রিয়ার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। ওই রায়ের ওপর নির্ভর করছে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। যদি আদালত তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে, তাহলে দলটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে জর্দান বারদেলার নাম সামনে আসছে। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ফ্রান্সের নির্বাচনি সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রার্থী নির্ধারণ এবং দলীয় কৌশল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হবে না। ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও এই নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট, নাগরিকত্ব, পরিবার পুনর্মিলন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করে বলছে, বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। বিশ্লেষকদের মতে ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কাঠামো নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।