খেলাধুলা

ফিফায় ট্রাম্পের নগ্ন হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

‘উদ্ভট ও বিব্রতকর’ এক প্রেসিডেন্ট জালিয়াতি করার পরও ফুটবল মাঠে যুক্তরাষ্ট্র দলের এই ভরাডুবি দেখা সত্যিই দারুণ! তবে তাদের এই হার পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় বেঁধেছে। বেলজিয়ামের এমন প্রতিরোধে শেষ কবে বিশ্বজুড়ে এত মানুষ একসঙ্গে উল্লাস করেছিল, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। সেটা সম্ভবত ১৯১৪ সালে, যখন জার্মানরা প্রথম মিউজ নদী পার হয়। আপনারা হয়ত এরইমধ্যে জেনেছেন, এবারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিদায় করেছে সবদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো বেলজিয়াম।

 

এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে বলেছিলেন, ‘মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে তিনবার ফোন করেছি। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলেও জালিয়াতি করে, কথাটা সবাইকে জানিয়ে দিন।’


ফিফা ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে ‘শিটহাউসারি’ (মাঠে প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া বা নোংরা কৌশল খাটানো) শব্দটা আমাদের সামনে এসেছে, আপনারা অনেক শুনেছেন। এমনকি মার্কিন ধারাভাষ্যকারদের কেউ কেউ অত্যন্ত দৃষ্টিকটূভাবে তাদের আলোচনায় শব্দটা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।
 

ভাইসব, দয়া করে থামুন- শব্দটা আপনাদের জন্য নয়। আপনাদের জন্য ‘আর্বস’, ‘আ কাপল থিংস’, কিংবা ‘আ ওয়েজ টু গো’-এর মতো বুলিই ঠিক আছে। তবে গত কয়েকদিন ক্ষমতা অপব্যবহারের যে নগ্ন রূপ দেখা গেছে, তাকে বিশ্বের সব ভাষায় যে নামে ডাকা উচিত, তা হলো- ‘হোয়াইটহাউসারি’ (হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার অপব্যবহার)। আর এই ‘হোয়াইটহাউসারি’ ভুলে যেতে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ট্রাম্প নিজে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এতটাই আতঙ্কিত ছিলেন যে, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বিড়বিড় করে বলেন- সপ্তাহান্তে তার এই অন্যায্য হস্তক্ষেপ নাকি দারুণ এক কাজ ছিল! কারণ তিনি এসব কাজে ওস্তাদ।
 

মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প নাকি খেলাধুলা খুব ভালো বোঝেন! অথচ তিনি এই সহজ সমীকরণটা বোঝেন না যে, আপনি যদি প্রতিপক্ষের সঙ্গে চরম অন্যায় কিছু করেন, তবে তারা সেই অন্যায়কে নিজেদের তাতিয়ে তোলার হাতিয়ার বানিয়ে আপনাকে ধুয়ে দেবে।

 

অনেকে স্ট্রাইকার বালোগানের জন্য সহানুভূতি বোধ করছেন। কারণ তিনি তো সেধে প্রেসিডেন্টের এই কলুষিত ছায়া নিজের ওপর চাননি। লন্ডনে বেড়ে ওঠা বালোগান এটি একেবারেই চাওয়ার কথা নয়। কারণ তিনি এমন শ্রেণির মানুষ, যাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার খর্ব করতে ট্রাম্প সবকিছু করতে পারতেন, যদি না গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রচেষ্টা নাকচ করে দিত। কী আর বলার- ‘যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।’

 

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর জন্য কারও মনে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি এই মুহূর্তে নেই- এটি দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। তবু এখন সব আলো তার দিকেই ঘুরিয়ে দেওয়া দরকার। কারণ, ফিফার তথাকথিত স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সংস্থাকে দিয়ে রহস্যময় ‘ধারা ২৭’ সচল করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনে ইনফান্তিনো চরম আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছেন। আর তাকে বাহবা দিয়ে একটি মার্কিন সাময়িকী লিখেছে, ‘ফিফার সততা রক্ষা করলেন ইনফান্তিনো।’ 

 

আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, আমাদের এই দিনও দেখতে হচ্ছে! আমরা এখন আক্ষরিক অর্থেই শূন্যতাবাদী ‘ব্লাটারকে ফিরিয়ে আনো’ যুগে বাস করছি। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার, যাকে শেষবার দেখে মনে হয়েছিল তিনি গাড়ির ভেতর ঘুমান। গত বছর আপিলে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কোনোমতে খালাস পেয়েছেন তিনি। গতকাল তার উত্তরসূরির (ইনফান্তিনো) ওপর দুই পায়ে স্লাইডিং ট্যাকল করেছেন। ব্লাটার হুংকার দিয়ে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক তদবিরের ফোনে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় না।’ 

 

তাহলে কীসে হয়? বস্তাভর্তি টাকা আর দামি হাতঘড়িতে? দৃশ্যত তাও নয়। ব্লাটার বলেন, ‘নিয়ম, প্রমাণ এবং স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমেই কেবল সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে।’ বাঃ, কে জানত!

 

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা যে ইনফান্তিনোকে এর চেয়ে বেশি ঘৃণা করতে পারত না, তা ভুল প্রমাণিত হলো। তারা এখন তাকে আরও বেশি ঘৃণা করে। উয়েফা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যখন নিয়মের অভিভাবকরাই নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে পারেন না, তখন খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়ে। একটি টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয় এই ধরনের নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং অসমর্থনযোগ্য সিদ্ধান্তে আমরা বিস্ময় প্রকাশ করছি।’ উয়েফা বলেছে, ফিফার সিদ্ধান্তটি ‘রেড লাইন’ বা সব সীমা অতিক্রম করেছে। রেড লাইন, সব সীমা- এসব আবার কী? 

 

মানচিত্রের বালাই যদি নাই-ই থাকে, নৈতিকতার গ্যালাক্সিও আমরা পেরিয়ে এসেছি কয়েক আলোকবর্ষ আগে। সম্ভবত তখনই, যখন ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এর ফটোসেশনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অথবা যখন নিজেই ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করে তা ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন। 

 

যাই হোক, জল অনেক দূর গড়িয়েছে। বালোগান-কাণ্ডের কারণে ফিফার বিরুদ্ধে নৈতিকতা তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েক সদস্য। একদিকে তদন্তের এই দাবি, অন্যদিকে সততা নিয়ে খোদ সেপ ব্লাটারের প্রশ্ন! একটা নাটক বটে!

 

আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই দলটি যদি ১৯৯৩ সালের ঘুস-সহায়তা পাওয়া মার্সেই দলের বিপক্ষে খেলে এবং ম্যাচটি যদি দুর্নীতিবাজ জার্মান রেফারি রবার্ট হয়জার পরিচালনা করেন, তবু ইনফান্তিনোর ফিফা প্রেসিডেন্ট পদ দুর্বল হবে না। কারণ, সবকিছু মিলিয়ে ইনফান্তিনো এই মুহূর্তে তার সংস্থায় অপরাজেয়। ইউরোপের বাইরের সদস্য দেশগুলোকে তিনি অনুদান ও উন্নয়ন তহবিল দিয়ে দারুণভাবে হাতের মুঠোয় রেখেছেন। তবে নিশ্চয় একদিন এই চিত্র বদলাবে। কেননা, ফিফায় ক্ষমতার জন্য আরও বেশি লোভী কেউ না কেউ সবসময় ওত পেতে আছেন। 

 

এখন শুধু এটাই আশা করার, শেষ পর্যন্ত যারা চ্যাম্পিয়ন হবেন, তারা যেন তাদের গৌরব ছিনতাই করার সুযোগ না দেন। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শেষ লড়াইয়ের অপেক্ষায়, চ্যাম্পিয়নদের পাশে পূর্ণিমা

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইন-বেলিংহামদের রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল।   প্রিয় দলের এই দারুণ জয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মতো উচ্ছ্বাসে মেতেছেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমাও।   সামাজিকমাধ্যমে এক বার্তায় নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন করে তিনি লেখেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নদের পাশে আছি। আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে। শেষ আরেকটি লড়াইয়ের অপেক্ষা।’   এর আগে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের পরও এক পোস্টে এই অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘বিশুদ্ধ আবেগ। বিশুদ্ধ আবেগ। সেমি ফাইনালিস্ট!’   শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল, ইতিহাস গড়ার মহারণ

সংগৃহীত ছবি

৮৫ ফুট উঁচু মেসির মূর্তির পাদদেশে আর্জেন্টিনার উল্লাস

ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে মাঠের ঘাস সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘাস বিক্রির পরিকল্পনায় ফিফা

ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল।
২০২৮ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচ থাকছেন টুখেল

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও প্রধান কোচ টমাস টুখেলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে না ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের দায়িত্বে থাকবেন জার্মান এই কোচ।   বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে বিদায় নিতে হয় থ্রি লায়ন্সদের। ম্যাচে টুখেলের বদলি খেলোয়াড় নামানোর কৌশল নিয়ে সমালোচনা উঠলেও তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছেন। এদিকে এফএর প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহ্যামও টুখেলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   টুখেল বলেন, আমাদের চুক্তি ঘরের মাঠের ইউরো ২০২৮ পর্যন্ত রয়েছে এবং আমরা সেটি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। যদিও এই মুহূর্তে ভবিষ্যতের কথা ভাবা কঠিন, তবুও আমি সেই চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় আছি।      তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক বড় ফুটবল শক্তি সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি। তাই শেষ চারে ওঠাটাও একটি অর্জন। যদিও এখন কেউ এসব শুনতে চাইবে না, আমিও না। কারণ আমরা নিজেদের কাছ থেকেই সর্বোচ্চ প্রত্যাশা করি।   এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১৮ মাসের চুক্তিতে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিয়েছিলেন জার্মান কোচ টমাস টুখেল। লক্ষ্য ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতানো। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়।    এফএর প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহ্যাম বলেন, ফাইনালের এত কাছে গিয়ে হারাটা হৃদয়বিদারক। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও পুরো দল এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত এবং দেশের সমর্থকদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।    এদিকে, বিশ্বকাপ অভিযান এখনো শেষ হয়নি ইংল্যান্ডের। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা। ওই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর, বিশ্বকাপে এটিই হবে ইংল্যান্ডের সেরা ফলাফল।   তাই সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে ইতিবাচকভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য থাকবে টুখেলের দলের।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কারের দাবি, পিটিশনে ৭০ লাখের বেশি মানুষের সই

ফাইনাল নিশ্চিত করেই ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানালেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে উঠেই সমালোচকদের কড়া জবাব মেসির

ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের সামনে আর্জেন্টিনা, ভাঙতে পারে ব্রাজিলের ৬৪ বছরের রেকর্ড

বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ওঠা লিওনেল মেসিদের সামনে এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে ৬৪ বছরের পুরোনো এক অনন্য রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখবে আলবিসেলেস্তেরা।   বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দল টানা দুই আসরে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে শিরোপা জেতে ইতালি। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই তালিকায় নাম লেখায় ব্রাজিল।   এরপর দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো দল শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৩৬ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় দলটি।   চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এবার প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। এই ম্যাচে জয় পেলে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তিতে ইতালি ও ব্রাজিলের পাশে জায়গা করে নেবে তারা। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার ইতিহাসও গড়বে।   আধুনিক ফুটবলে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি বলে বিবেচিত হয়। প্রতিটি আসরে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে ওঠায় টানা দুইবার বিশ্বসেরা হওয়ার কৃতিত্ব এখনো অত্যন্ত বিরল। সেই বিরল অর্জনের সামনে এখন দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ম্যারাডোনা-মেসি, এক সুতোয় গাঁথা দুই কিংবদন্তি

যাই কর না কেন, বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’, আর্জেন্টিনাকে খোঁচা ক্যাসিয়াসের

ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা

0 Comments