সর্বশেষ

ইআইইউ’র বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পরে কেবল ত্রিপোলি ও দামেস্ক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সার্বিক এশিয়ায় জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নতি হলেও বসবাসের যোগ্য শহরের তালিকায় আরও পিছিয়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বসবাসের অযোগ্যতায় বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ঢাকার পরে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।

 

১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪২ স্কোর পেয়ে গত বছরের মতো এবারও একই অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী। এর আগে ২০২৫ সালেও ঢাকা তিন ধাপ পিছিয়ে ১৭১তম হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৬৮তম এবং তার আগের বছর ছিল ১৬৬তম। ধারাবাহিকভাবে ঢাকার এই অবনতি রাজধানীর গভীর নগর-অকার্যকারিতাকেই স্পষ্ট করছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি ৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে (১৭০তম) রয়েছে।

 

অন্যদিকে, তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের খেতাব পেয়েছে কোপেনহেগেন। এর পরেই রয়েছে ভিয়েনা ও মেলবোর্ন।

 

ইআইইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের শহরগুলোতে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জাপানের অগ্রগতির কারণে এশিয়া অঞ্চলে গড় বাসযোগ্যতার স্কোর বেড়ে ৭৪ হয়েছে। তবে এই সুফল সমানভাবে বণ্টন হয়নি। ঢাকার মতো অনুন্নত দেশের শহরগুলোর কারণে এশিয়ার গড় মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। এশিয়ার গড় স্কোরের চেয়ে ঢাকা ৩২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলো যুদ্ধবিগ্রহের কারণে পিছিয়ে পড়লেও ঢাকার এই তলানিতে থাকার মূল কারণ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা।

 

পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে অবকাঠামোতে মাত্র ২৭। এ ছাড়া স্থিতিশীলতায় ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪২ এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪১ স্কোর পেয়েছে ঢাকা। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা ভালো স্কোর (৬৭) পেলেও অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্বল নগর পরিবেশের কারণে ঢাকা এখনও বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবেই রয়ে গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফেরদৌস স্টিলের সেই জাহাজ গ্যাসমুক্ত করতে উদ্ধারকারী কোম্পানির সহায়তা

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সেই পুরনো জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করতে এবার বেসরকারি উদ্ধারকারী কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।   ঘটনার চারদিন পরও সেই পুরনো জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত হয়নি। পূর্ণ জোয়ারের সময় সেখানে গ্যাসের উপস্থিতি না থাকলেও ভাটার সময় মিলছে বিষাক্ত গ্যাস।   এছাড়া ওই জাহাজে আরো দুটি ব্যালাস্ট ট্যাংক (জাহাজের জলাধার) আছে। সেগুলোর ভিতর এখনো পানি আছে। ওই দুই ব্যালাস্ট ট্যাংকে কোনো ধরনের গ্যাস জমেছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তাই জাহাজটি গ্যাসমুক্ত করতে এবার দেশীয় উদ্ধারকারী কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।   সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনিক মেরিন ও প্রান্তিক মেরিন নামের ওই দুই কোম্পানি তাদের প্রস্তাব দিয়েছে। মঙ্গলবার তারা পূর্ণাঙ্গ ‘ঝুঁকি প্রশমন পরিকল্পনা’ উপস্থাপন করবে।   বেসরকারি কোম্পানির সহায়তা কেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, “বেসরকারি হলেও দেশে-বিদেশে রেসকিউ কোম্পানি হিসেবে তাদের সুনাম আছে। তারা আগেও সফলভাবে এরকম পরিস্থিতি সামলেছে।”   সোমবার দুই উদ্ধারকারী কোম্পানি জাহাজের গ্যাস অপসারণে একটি খসড়া পরিকল্পনা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার তারা আবার নিজস্ব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবে। গ্যাসের উপস্থিতি ও তীব্রতা পরিমাপ শেষে বিস্তারিত মিটিগেশন প্ল্যান আমাদের জানাবে।   এরপর করণীয় নির্ধারণ করা হবে। কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমরা জাহাজটি গ্যাসমুক্ত করতে চাই।”   এরপর কোম্পানি দুটির কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কারা কাজ করবে তা ঠিক করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।   ঝুঁকি প্রশমন পরিকল্পনায় জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করা, ব্যালাস্ট ট্যাংকের (জাহাজের জলাধার) পানি অপসারণ ও স্লাজযুক্ত পানি অপসারণ–এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান শফিউল আলম তালুকদার।   ব্যালাস্ট ট্যাংকের ভেতরে এত বেশি মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড কীভাবে তৈরি হল, সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ট্যাংকের ভেতরে কোনো জৈব পদার্থ, পয়ঃবর্জ্য, স্লাজ বা অন্য কোনো দূষিত পদার্থ ঢুকেছিল কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে। সেখানে স্লাজ বা পয়ঃবর্জ্য থেকে থাকলে তা কীভাবে এল তাও দেখা হবে।”   আরো দুটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ওই পুরনো জাহাজটির যে ট্যাংক থেকে গ্যাস নিঃসরণ হয়ে শুক্রবার নয় জনের মৃত্যু হয়, সেটি ছিল একটি ব্যালাস্ট ট্যাংক।   সাগর তীরে ভাঙার জন্য রাখা অবস্থায় ব্যালাস্ট ট্যাংকগুলো পানি ভর্তি অবস্থায় রাখা হয় জাহাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য।   জাহাজটি প্রায় এক বছর আগে সীতাকুণ্ড উপকূলের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভেড়ানো হয়। সেখানে ব্যালাস্ট ট্যাংক আছে মোট চারটি।   ওই ঘটনায় গঠিত একটি সরকারি তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, “চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের মধ্যে একটি আগে কাটা হয়। সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি। আরেকটি কাটার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।   “বাকি দুটি ট্যাংকে গ্যাস জমেছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। সেগুলোতে পানি আছে। তাই ঘটনাস্থলে গ্যাসের উপস্থিতি বর্তমানে আগের তুলনায় কম হলেও খুব কাছাকাছি যাওয়াটা নিরাপদ নয়।   এবার বিশেষজ্ঞ কমিটি ঘটনার তিনদিন পরও ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ওই ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর পর্যন্ত যেতে পারেননি বিশেষজ্ঞ দল ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরে বিকেলে জোয়ারের সময় তারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যান।   আগে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠনের পর এবার ‘গ্যাসের উৎস সন্ধানে’ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।   শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রোববার ওই কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার বিকেলে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।   ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের উৎস ও প্রকৃতি নিরূপণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার জন্য এই কমিটি করা হয়েছে।   জাহাজে আর কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা পদার্থ আছে কিনা তা নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্যাস নিঃসরণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে পরামর্শ দেবে ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি।   জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, “আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এবং গতকাল গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সেখানে গিয়েছিলাম।   জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে থাকলে সেখানে গ্যাসের অস্তিত্ব থাকে না। পূর্ণ জোয়ারের সময় আমরা যখন গিয়েছি তখন সেখানে কোনো গ্যাসের অস্তিত্ব মেলেনি। কিন্তু ভাটর সময় সেখানে গ্যাস থাকে।”   মঙ্গলবার আবার সেখানে যাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কাল বিশেষজ্ঞ কমিটিসহ গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।”   সব ধরনের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে এলাকাটি পুরোপুরি নিরাপদ না করা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল সেখানে কাজ করবে বলে জানান শফিউল আলম।   শুক্রবার সকালে ভাটিয়ারির ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে পুরনো ওই জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে নয়জনের মৃত্যু হয়; কমপক্ষে ৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।   ওই ঘটনা তদন্তে এখন পর্যন্ত সরকারি তিনটি এবং শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এনএসইউ কমিউনিটির জন্য সুখীর ২৪ ঘণ্টার ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা

ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার রায় যে কোনো দিন

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনালে লতিফ-রুপাসহ ৯ আসামি, ফের শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত
এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে পুরো বাকিতে পণ্য আমদানির সুবিধা

অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি এস এস পাওয়ার-১ কে সকল পণ্য পুরো বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ায় এখন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সকল পণ্য আমদানিতে রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করতে পারবে।   কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে কোনো প্রকার আগাম অর্থ দিতে হবে না।   রোববার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা প্রয়োগ হবে না।   চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাত বাণিজ্যিক ব্যাংক পুনরুদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   এরপরই নতুন ঋণ না পেয়ে ও একের পর এক মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রুপটির বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান।   এখন শুধু তাদের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা টিকে আছে। ভোগ্যপণ্যর ব্যবসা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।   অর্থ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খেলাপি হয়ে পড়ে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডও।   রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত এসএস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গ্রাহককে শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানি করার সুযোগ চেয়ে রূপালী ব্যাংক অনুমোদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।   তাতে সায় দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।   আইনে যা আছে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩ (সংশোধিত ২০২৩) এর ২৭ কক(৩) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোন ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না:   “তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫ এর দফ (গগ) এর বিধান অনুসারে পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপী ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি এটা প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তা হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলানি হওয়ার কারণে ওই গ্রুপভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না।   “এবং এরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তার জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান, এক দিনে গ্রেপ্তার ৫১১

থাইল্যান্ডে সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপে রাফির স্বর্ণজয়

ছবি: সংগৃহীত

সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত
৪৩ বছর বয়সে এসএসসি পাস, ২৪ বছর পর স্বপ্ন পূরণ নাসিমুলের

নাসিমুল হক পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পাশাপাশি ভোলাহাটে তাঁর মতো পেশাজীবীদের সংগঠন ফার্নিচার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। দিনভর কাজ শেষে সন্ধ্যায় বসতেন সংগঠনটির ছোট্ট অফিস ঘরে। সাংগঠনিক কাজের ফাঁকে সেখানেই বই-খাতা খুলে রাত ১১টা পর্যন্ত চলত পড়াশোনা। তা দেখে আশপাশের অনেকেই হাসাহাসি করতেন। কেউ কেউ বলতেন, ‘এই বয়সে লেখাপড়া করে আর কী হবে?’   নাসিমুল অবশ্য কারও কথায় কান দেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বছর বয়সে রাজশাহী কমার্স কলেজের ভোকেশনাল শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৬২ পেয়েছেন।   নাসিমুলের গল্পটা শুধু একটি পরীক্ষায় পাস করার গল্প নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া একটি স্বপ্নকে ২৪ বছর পর আবার খুঁজে পাওয়ার গল্প। ২০০২ সালে ভোলাহাটের বাচ্চামারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন নাসিমুল। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সংসারের অভাব-অনটনে সেই স্বপ্নকে চাপা দিতে হয়। তাঁর বাবা তখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শুরু হয় নাসিমুলের জীবনের আরেক অধ্যায়। কাঠমিস্ত্রির কাজ শিখে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেন। পরে বিয়ে করেন। সংসারে আসে তিন সন্তান। মা-বাবাসহ সাত সদস্যের পরিবার তাঁর আয়ের ওপর নির্ভরশীল।   তবু পড়াশোনার প্রতি টান কখনো হারিয়ে যায়নি। সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে তিনি সব সময় সচেতন ছিলেন। যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর ছেলে-মেয়েরা পড়ত, সেই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যও হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাইলেও একটি নিয়ম বাধা হয়ে দাঁড়ায়—এসএসসি পাস না হলে সভাপতি হওয়া যাবে না।   ঘটনাটি নাসিমুলকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, ‘খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তখন মনে হলো, যেভাবেই হোক সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে।’   সেই সিদ্ধান্ত থেকেই ২০২৪ সালে ভোকেশনাল শাখায় ভর্তি হন। চেয়েছিলেন কয়েকজন সহকর্মীকেও সঙ্গে নিতে। কিন্তু অনেকেই আগ্রহ দেখানোর বদলে ঠাট্টা করেছেন।   এখন অবশ্য সেই সহকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। ফার্নিচার শ্রমিক সংগঠনের সদস্য সাকির আলী হাসতে হাসতে বলেন, ‘মনে হইছে হামরাই পাস কোরছি। আগে ঠাট্টা করছি, এখন খুব আনন্দ লাগছে।’   নাসিমুলের নিজের উপলব্ধিটাও সরল। তাঁর কথায়, ‘অনেক জায়গায় যেতে হলে সার্টিফিকেট লাগে। আমি আর কোনো সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকতে চাই না।’   ২৪ বছর আগে যে পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন, এবার সেই পরীক্ষাই নতুন করে তাঁকে একটি দরজা খুলে দিয়েছে। তবে এই সাফল্যকে শেষ গন্তব্য মনে করছেন না নাসিমুল। এসএসসি পাস করেই থেমে যেতে চান না। তাঁর ইচ্ছা, আরও পড়াশোনা করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধানমন্ডি ৩২ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ব্যক্তি আটক

বাংলাদেশে আস্তানা গড়তে চায় আল-কায়েদা : জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

বাড্ডায় ডিবির অভিযানে গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজন ডাকাত, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

0 Comments